somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমেরিকার দিনগুলো-- বেকার জীবন, ছাত্র জীবন!

২৭ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমেরিকায় ট্রান্সফার স্টুডেন্ট হয়ে এসেছিলাম ছাত্রাবস্থায়-- এসে পোর্টফোলিও বানানো, ইউনিভার্সিটি তে আ্যপ্লাই কত কাজ,.. দিনগুলো দ্রুত চলে যাচ্ছিল। ইউনিভার্সিটি তে ভর্তি হবার পরে আরও ব্যস্ত হয়ে পরলাম, শুধু উইকেন্ডে ননাশের বাসায় যেতাম। প্রথম সেমেস্টার ভালভাবে যাবার পরে পুরো সামার অখন্ড অবসার! অবশ্য একটা পার্ট টাইম কাজ করতাম এক প্রফেসরের ফার্মে..সেখানে ঘন্টায় সেই সময় পেতাম ৭ ডলার!..তাতেই কি খুশি আমি..খুব সুন্দর ছিল প্রফেসরের ফার্ম কাম বাসাটা! সেই থেকেই Locust Valley শহরটা আমার প্রিয়, যেখানে প্রফেসরের ফার্ম টা ছিল..



প্রফেসর বেনটেলের ডিজাইন করা কিছু আমার প্রিয় কাজ!
একবার সেই ফার্মে কাজ করা কালিন অবস্থায় একটা দূর্ঘটনা ঘটে গেল (আমি সামার ইনটার্ন বলে মাঝে মঝে অদ্ভুত কিছু কাজও করতে হত--যেমন, মেটেরিয়াল স্যাম্পল, বইপত্র এসব বেসমেন্ট থেকে টেনে সিড়ি দিয়ে ২তলায় তুলতাম!..খুব কস্টও হত) হ্যাজব্যান্ড এর কাছে কমপ্লেইন দিলে ও বলত, --কস্ট করে এই সামারটা কাজ কর, রেজুমি/ সিভি তে দেখাতে পারবে যে, আর্কিটেক্টের ফার্মে কাজ করেছ । যা হোক, একবার সিড়ি দিয়ে নামার সময় পা ফসকে পড়ে গেলাম..কেঁদেই ফেলেছিলাম, খুব রাগ হচ্ছিল ওর উপর, রাগ করে ২ মাইল হেটে বাসায় চলে গিয়েছিলাম..ও সব এলাকায় বেশি ফুটপাত থাকেনা, কোনরকম হেটে হেটে বাসা পর্যন্ত কিভাবে গিয়েছিলাম, কে জানে! আবার এত দূর হ্বেটে আসার পরে চরম ক্লান্ত হয়ে দেখি ইলেকট্রিসিটি নেই! খুবি আনকমন একটা বাপার আমেরিকাতে এটা!..অন্ধকার আ্যপার্টমেন্টে কি যে ভয় পেয়েছিলাম সেদিন, সেই সন্ধ্যায়!..এর পরে থেকে কাজে যাওয়া বন্ধ! খুব অভিমানী ছিলাম বটে!
ষেই সামারে খুব টিভি দেখতাম..প্রায় সারাদিন! বিকালের দিকে রান্নাবান্না করতাম--দুজন মানুষের আর কত খাবার লাগে! আমার উনি বাসায় আসলে ডিনার করে আবার টিভি দেখতে বসে যেতাম--আসলে ২২ বছর আগে ফেসবুক, ফেসটাইম, বাংলা টভি চ্যানেল এসব না থাকায় খুব নিঃস্বসংগ লাগত! বাচচা কাচচাও হয়নি তখন..তাই সময় কাটাতে আমেরিকান টিভি শো গুলো সংগি করে নিয়ে ছিলাম।


বেভারলি হিলস ৯০২১০---আমার খুবই প্রিয় সিরিজ ছিল, ঐ শোএর ছেলেমেয়েদের মত আমারও খুব ফাংকি জীবন যাপন করতে ইচ্ছে করত আর লস আ্যন্জেলেসে চলে যেতে মন চাইত!


বেভারলি হিলস ৯০২১০ এর বিপরিত কমেডী টাইপ এই সিরিজ টা ছিল একটা শিকাগের কালো ফ্যামিলীর উপরে নিত্যদিনের ঘটনার প্রবাহ নিয়ে। এই শো এর নার্ড/মেধাবী, বোকা ছেলেটার (স্টিভ আরকেল)উপরে একটা মায়া পরে গিয়েছিল!


ফ্রেস প্রিন্স অফ বেল এয়ার-- এটাও আমার পছন্দের সিরিজ! আর এর মেইন কমেডীয়ান চরিত্রের উইল স্মিথকে কে না জানে!
উইল স্মিথের ইরিটেটিং কাজিন টাকেও খুব ভাল লাগত!



সেভড বাই দা বেল--স্কুলের ছেলেমেয়েদের নিয়ে বানানো এই সিরিজটা আমার পছন্দের তালিকায় ছিল। আসলে আমি অবচেতন মনে আমেরিকান স্কুল লাইফ টা খুব ভালবাসতাম, আমার এক রকমের অবসেসন ছিল!...এখন মনে হলে হাসি পায়! নিজে কত মনে মনে ওদের মত লাইফ সটাইল চাইতাম, অথচ নিজের বাচ্চাদের সকুলে পাঠিয়ে সারাক্ষন চিনতায় থাকতাম, ওরা আবার না পুরা আমেরিকান হয়ে যায় এই ভেবে..কত শাষনই করেছি আমার বাচ্চাদের! অবশ্য এর ফলশ্রুতিতে আমার মেয়েকে প্রায় ডেডিকেটেড বাঙালী মেয়েই বলা যায়---মাছ ভাত, ডাল তার প্রিয় খাবার, অর্ণব তার প্রিয় শিল্পী, আমাদের গ্রামের বাড়ী তার সবচাইতে প্রিয় জায়গা!...এই ভালোলাগা যেন সবসময় থাকে, এটাই চাওয়া!

(চলবে...)
সর্বশেষ এডিট : ২৭ শে অক্টোবর, ২০১৮ রাত ১:২০
৪টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আসুন বর্তমান বিশ্বের কিছু তথ্য দেখি!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:০১

- চীনে বর্তমানে প্রায় ৩ কোটি মানুষ অবিবাহিত, যার মধ্যে বিপুল সংখ্যক নারীও রয়েছে। বিশেষ করে ২৫–২৯ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে অবিবাহিত হার ৫১% এর বেশি, আর ৩০–৩৪ বছর বয়সী... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ নিয়ে বানিজ্য করা খুব খ্রাপ....কিন্তু তার পরিবর্তে ইসলাম/ধর্ম নিয়ে বানিজ্যে নেমে পড়া কি সমিচিন?

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ১২:১৮

দাড়ি টুপির সাথে আরবদের আলখেল্লা পরিধান করে, সুন্নতি লেবাস ধারণ করে যারা honey nuts বেচে, তাদের চেয়ে খুব উন্নততর, সৎ লোকের সংগঠন জামায়াতে মওদুদী না। বরং ইসলাম ধর্মকে দলীয় সংকীর্ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার যাদুর পেন্সিল...!

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ দুপুর ১২:৩২

কালি কলম দিয়ে কেন লিখি?


কারন ওতে মনটা ভালো থাকে। বিক্ষিপ্ত মনে নেমে আসে স্বস্তির বারিধারা। কালি কলম দিয়ে লেখালেখির কতো বৈচিত্রময় ও কতো রোমাঞ্চকর হতে পারে তা কেবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ আলেমকে ভুলে গেলাম, আর যুদ্ধাপরাধীকে দিলাম স্বাধীনতা পদক

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৯


উনিশশো ছেষট্টি সালের কোনো এক সকালে ঢাকার বিমানবন্দরে এসে নামলেন এক ব্যক্তি। নাম আবুল আলা মওদুদী। বিমানবন্দর থেকে বের হতেই সাংবাদিকরা তাঁকে ঘিরে ধরলেন। কারণ শেখ মুজিবুর রহমান... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রেমিকা হারিয়ে গিয়েছে

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ১৮ ই জুলাই, ২০২৬ রাত ৮:১৯

আমি তো চাই নি এমন পৃথিবী
আগুনের সংসার
চেয়েছি একটি প্রেমিকাবধূর
দুটো চোখ কবিতার

চেয়েছি একটি শীতল নদীর
জোছনামুখর বুক
চেয়েছি তোমার কমনীয় রাত
থির পরিপাটি সুখ

আমি তো চেয়েছি সংসার জুড়ে
অমরাবতীর ঘর
কোলাহলহীন নির্ঝঞ্ঝাট
বৈরাগ্যের বর

আজো মনে হয় -... ...বাকিটুকু পড়ুন

×