একটা নতুন কাজ আমার ব্যস্ত জীবনে যোগ হয়েছে...২ সপ্তাহ অন্তর অন্তর উইকেন্ডে নিউ ইয়র্ক থেকে বোস্টন যাতায়াত করা-- শুক্রবারে বিকালে নিউ ইয়র্ক থেকে রওনা হয়ে বোস্টন পৌছে রাত দশটায় মেয়েকে ডরম থেকে তুলে, আবার বাসায় ফিরে আসা গভীর রাতে। রোববারে ওকে বোস্টন নামিয়ে দিয়ে আবার গভীর রাতে বাসায় ফেরা, সোমবার অফিস আছে না!... লোকজন আমাদের পাগল ভাবে, এত যাতায়াত করি কিভাবে? কাউকে বোঝাতে পারিনা, এত কস্ট হলেও আমরা তিনজন যখন গভীর রাতে কানেকটিকাটের শুনশান, হাইওয়ে ১৫ ধরে বাড়ি ফিরি, পেছনের সিটে কম্বল গায়ে মেয়ে আমার পরম আরামে গুটিসুটি করে শুয়ে রাতের আকাশের তারা গুনতে থাকে আর সিডি তে বাজতে থাকে এরিক ক্ল্যাপটনের ব্লুজ, অথবা অর্ণবের রবীন্দ্র সংগীত...এর থেকে আনন্দময় মুহুর্ত আর কি হতে পারে? অত রাতে বাড়ী ফিরে প্রতিবারে মত ভাইকে জাগায় বোন..ঘুম ঘুম চোখে আমার ছেলে জেগে ওঠে আর দুজন কিছুক্ষন খুনশুটি করে। আমার চোখে ঘুম নেই,--পরদিন সকালে ওর পছন্দের কি কি নাশতা বানাবো, কি কি খাবার রান্না করে হোস্টেলে দিয়ে দেব, এই চিন্তায় আমার চোখে আবার ঘুম আসবে? তবুও আনন্দ লাগে..ছোটবোন কে ফোন দেই সকালে চলে আসতে..কত কি!
প্রতিবারের মত এবারও রওনা দিয়েছিলাম গত শুক্রবারের বিকেলে..খুব জ্যামে পরেছিলাম, অলরেডি দেরী হয়ে গিয়েছিল বেশ, দিন ছোট হওয়ায় বিকেল মরে আসছিল..ফাঁকে ফাঁকে কিছু ছবি তুলছিলাম ফোনে ক্যামেরায়।

পিচঢালা, শান্ত হাইওয়েতে ঢেউএর মত ছন্দ, আকাশে তখনো কিছু আলো আছে!


এই পথ, এই ওভারব্রীজ সব আমাকে টানে..আর কিছু পরেই আমার সোনামনি কে যেন দেখতে পাব,.. কিনতু পথ যে আরও বাকি!

বিকেল মরে আসছে, দিনের শেষে কি বিষন্নতা! .। তবু কি অপূর্ব সুন্দর!!!!!!

শেষ বিকেলের বিষন্ন আলোয় প্রকৃতির রং বদলের ছবি!

সন্ধ্যা নেমেই এল অবশেষে!

দুরের এই টানেল টি আমাকে খুব টানে

ফেরার পথে গভীর রাতে নিউ ইয়র্ক শহরের ঝলমলে স্কাইলাইন!
(ছবিগুলো সব আমার ফোনে তোলা)

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


