গত বছর জুলাইতে দেশে গিয়েছিলাম, সেসময় একটা বিয়েতে গিয়ে দেশের এক সনাম ধন্য আর্কিটেক্টের দেখা পেলাম। উনি আমার বেশ সিনিয়র, আমাকে খুব একটা চিনতে পারেননি, কারন আমি বুয়েটে ফোর্থ ইয়ারে উঠেই আমেরিকায় এসে ট্রান্সফার স্টুডেন্ট হিসাবে এখানে আর্কিটেকচার শেষ করি। যাহোক, উনার সাথে অনেক কথা হলো, দেশের স্থাপনা বিষয়েই, ..উনি জানতে চাইলেন, আমি আমেরিকাতে কোন ধরনের ডিজাইন এর কাজ করছি! উনি খুব ভাল করেই জানেন, আমেরিকাতে কোন সামান্য কিছু ডিজাইন করতেই কত চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় (বিল্ডিং কোড, জোনিং রেগুলেশন, পারমীট প্রসেস, আরও কত কি!) স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই আর্কিটেক্টদের! বিল্ডিং কোডের এই কঠোর নিয়মের কারনে আমেরিকাতে বিভিন্ন দূর্ঘটনা বিহীন, একটা সিসটেমাটিক শহর, রাস্তাঘাট, লোকালয়, পার্ক,..বলতে গেলে সম্পুর্ন একটা সুন্দর অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেই সাথে প্রতিবন্ধী/handicapped দের জন্য সব রকমের সুবিধা! আজ পৃথিবীর মোটামুটি সব দেশই Building Code এর কঠের ব্যবহার শুরু হয়েছে, একমাত্র আমাদের দেশ ছাড়া!..আমি উনার সাথে এবিষয়ে অনেক আলাপ করলাম,-- উনি স্মীত হেসে জানালেন যে কোডের বিষয়ে উনি অবগত থাকলেও এসব এ দেশে সেটা প্রয়োগ করা সম্ভব না!.. রাজউক থেকে শুরু করে, কোন স্থপতীরা এ ব্যপারে স্যাক্রিফাইস করবেনা!--কারন এতে মনের মাধুরী মিশিয়ে ডিজাইন করা যাবেনা, একেকটা কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে, ইত্যাদি!
আমি জানি, অনেকে এখানে আমাকে বলবেন, বিদেশে থেকে অনেক কথাই বলা যায়, দেশে এসে কিছু করে দেখান!..সেই পথেই এগুচ্ছি, আমার অনেক দিনের পরিকলপনা, দেশ যেয়ে বিল্ডিং কোড, ফায়ার কোড আর জোনিং রেগুলেশন নিয়ে কিছু একটা শুরু করা!
এজন্য চাই আমার প্রাক্তন স্থপতী বন্ধুদের সহযোগীতা, কিছুটা ত্যাগ, কিছু আবার নতুন করে পড়াশুনা/ট্রেইনিং (কোডের উপরে)! একটা বিল্ডিংয়ে ৭৫ জনের বেশী মানুষ হলে যে, সেখানে মিনিমাম ২ টা দরজা/Exit লাগে ভবন থেকে বের হতে, আর বের হবার জন্য পুরোটা পথ সিড়িসহ (ভবনের সবচেয়ে দুরের কোনা থেকে একেবারে বাইরে যাওয়া পর্যন্ত) কমপক্ষে ২ ঘন্টার অগ্নি নির্বাপক (2 HR Fire rated, min.) হতে হয়, তা আমাদের একজন স্থপতীও জানেন না, অথবা জানলেও প্রয়োগ করেননা ডিজাইনে!..এই সামান্য কোড রেগুলেশনটা মেনে চললে কত গার্মেন্ট শ্রমিক বেঁচে যেত আগুনের হাত থেকে!

এই প্ল্যানে কিছু Exit/Egress System দেখানো হয়েছে।

একটি Fire rated সিড়ি।

দুটো Exit এর মধ্য দুরত্ব।
Building Code এর পাশাপাশি জোনিং/zoning রেগুলেশন থাকলে আগাছার মত বিলডিং গজিয়ে উঠতোনা!..জোনিং নিরধারন করে দেবে, কোথায় কোন ধরনের ভবন গড়ে উঠবে, কত তলা উঁচু হবে, সামনে, পেছনে, পাশে কতটুকু ছাড় দিতে হবে (যেন, দুর্ঘটনার সময়ে ফায়ার ডিপা্র্টমেন্টের গাড়ি সহজে ঢুকতে পারে) আমাদের দেশ ভুমিকম্প প্রবন এলাকা (Seismic Zone) এর মধ্যে পড়ে, সেজন্য Earthquake proof/seismic restrained Design শুরু করতে হবে নতুন বিল্ডিং গুলতে, আর যেগুলো পুরানো, সে গুলোকে আধুনিকায়ন বা, retrofit করতে হবে!... দেশপ্রেম এগুলোই! চিন্তা করে দেখুন, একটা বড়সড় ভুমিকমপ হলে ঢাকা শহরের কি অবস্থা হবে?

একটা নির্দিস্ট উচ্চতার পরে কিভাবে জোনিং কোড নির্ধারন করে দিচ্ছে ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতাকত হবে।

জোনিং রেগুলেশনের একটা স্কেচ।

এই স্কেচটি তে একটা বিলডিং এর ছাদে, অথবা মেশিন রুমে কিভাবে কোন ভারী যন্ত্র (ওয়াটার ট্যানক, জেনারেটর ইত্যাদি) ভুমিকমপ রোধক হিসাবে বসাতে হবে, সেটার ডিটেইল দেখানো হয়েছে।

প্রতিবন্ধী/handicapped দের জন্য ডিজাইনের নমুনা।

সিড়ির পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য ramp.
অনেক কিছু লেখার ছিল, সময়ের অভাবে লিখে শেষ করতে পারবনা! তবে, আমি আমার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৪

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




