somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

দেশের স্থাপনা বিষয়ক কিছু ভাবনা..

১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গত বছর জুলাইতে দেশে গিয়েছিলাম, সেসময় একটা বিয়েতে গিয়ে দেশের এক সনাম ধন্য আর্কিটেক্টের দেখা পেলাম। উনি আমার বেশ সিনিয়র, আমাকে খুব একটা চিনতে পারেননি, কারন আমি বুয়েটে ফোর্থ ইয়ারে উঠেই আমেরিকায় এসে ট্রান্সফার স্টুডেন্ট হিসাবে এখানে আর্কিটেকচার শেষ করি। যাহোক, উনার সাথে অনেক কথা হলো, দেশের স্থাপনা বিষয়েই, ..উনি জানতে চাইলেন, আমি আমেরিকাতে কোন ধরনের ডিজাইন এর কাজ করছি! উনি খুব ভাল করেই জানেন, আমেরিকাতে কোন সামান্য কিছু ডিজাইন করতেই কত চাপের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় (বিল্ডিং কোড, জোনিং রেগুলেশন, পারমীট প্রসেস, আরও কত কি!) স্বাধীনতা বলতে কিছুই নেই আর্কিটেক্টদের! বিল্ডিং কোডের এই কঠোর নিয়মের কারনে আমেরিকাতে বিভিন্ন দূর্ঘটনা বিহীন, একটা সিসটেমাটিক শহর, রাস্তাঘাট, লোকালয়, পার্ক,..বলতে গেলে সম্পুর্ন একটা সুন্দর অবকাঠামো গড়ে উঠেছে, সেই সাথে প্রতিবন্ধী/handicapped দের জন্য সব রকমের সুবিধা! আজ পৃথিবীর মোটামুটি সব দেশই Building Code এর কঠের ব্যবহার শুরু হয়েছে, একমাত্র আমাদের দেশ ছাড়া!..আমি উনার সাথে এবিষয়ে অনেক আলাপ করলাম,-- উনি স্মীত হেসে জানালেন যে কোডের বিষয়ে উনি অবগত থাকলেও এসব এ দেশে সেটা প্রয়োগ করা সম্ভব না!.. রাজউক থেকে শুরু করে, কোন স্থপতীরা এ ব্যপারে স্যাক্রিফাইস করবেনা!--কারন এতে মনের মাধুরী মিশিয়ে ডিজাইন করা যাবেনা, একেকটা কাজ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যাবে, ইত্যাদি!
আমি জানি, অনেকে এখানে আমাকে বলবেন, বিদেশে থেকে অনেক কথাই বলা যায়, দেশে এসে কিছু করে দেখান!..সেই পথেই এগুচ্ছি, আমার অনেক দিনের পরিকলপনা, দেশ যেয়ে বিল্ডিং কোড, ফায়ার কোড আর জোনিং রেগুলেশন নিয়ে কিছু একটা শুরু করা!
এজন্য চাই আমার প্রাক্তন স্থপতী বন্ধুদের সহযোগীতা, কিছুটা ত্যাগ, কিছু আবার নতুন করে পড়াশুনা/ট্রেইনিং (কোডের উপরে)! একটা বিল্ডিংয়ে ৭৫ জনের বেশী মানুষ হলে যে, সেখানে মিনিমাম ২ টা দরজা/Exit লাগে ভবন থেকে বের হতে, আর বের হবার জন্য পুরোটা পথ সিড়িসহ (ভবনের সবচেয়ে দুরের কোনা থেকে একেবারে বাইরে যাওয়া পর্যন্ত) কমপক্ষে ২ ঘন্টার অগ্নি নির্বাপক (2 HR Fire rated, min.) হতে হয়, তা আমাদের একজন স্থপতীও জানেন না, অথবা জানলেও প্রয়োগ করেননা ডিজাইনে!..এই সামান্য কোড রেগুলেশনটা মেনে চললে কত গার্মেন্ট শ্রমিক বেঁচে যেত আগুনের হাত থেকে!


এই প্ল্যানে কিছু Exit/Egress System দেখানো হয়েছে।


একটি Fire rated সিড়ি।


দুটো Exit এর মধ্য দুরত্ব।
Building Code এর পাশাপাশি জোনিং/zoning রেগুলেশন থাকলে আগাছার মত বিলডিং গজিয়ে উঠতোনা!..জোনিং নিরধারন করে দেবে, কোথায় কোন ধরনের ভবন গড়ে উঠবে, কত তলা উঁচু হবে, সামনে, পেছনে, পাশে কতটুকু ছাড় দিতে হবে (যেন, দুর্ঘটনার সময়ে ফায়ার ডিপা্র্টমেন্টের গাড়ি সহজে ঢুকতে পারে) আমাদের দেশ ভুমিকম্প প্রবন এলাকা (Seismic Zone) এর মধ্যে পড়ে, সেজন্য Earthquake proof/seismic restrained Design শুরু করতে হবে নতুন বিল্ডিং গুলতে, আর যেগুলো পুরানো, সে গুলোকে আধুনিকায়ন বা, retrofit করতে হবে!... দেশপ্রেম এগুলোই! চিন্তা করে দেখুন, একটা বড়সড় ভুমিকমপ হলে ঢাকা শহরের কি অবস্থা হবে?


একটা নির্দিস্ট উচ্চতার পরে কিভাবে জোনিং কোড নির্ধারন করে দিচ্ছে ভবনের সর্বোচ্চ উচ্চতাকত হবে।


জোনিং রেগুলেশনের একটা স্কেচ।


এই স্কেচটি তে একটা বিলডিং এর ছাদে, অথবা মেশিন রুমে কিভাবে কোন ভারী যন্ত্র (ওয়াটার ট্যানক, জেনারেটর ইত্যাদি) ভুমিকমপ রোধক হিসাবে বসাতে হবে, সেটার ডিটেইল দেখানো হয়েছে।


প্রতিবন্ধী/handicapped দের জন্য ডিজাইনের নমুনা।


সিড়ির পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের জন্য ramp.
অনেক কিছু লেখার ছিল, সময়ের অভাবে লিখে শেষ করতে পারবনা! তবে, আমি আমার উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাব ইনশাল্লাহ!
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৪
১২টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Ripe Age দুই প্রান্তের দুই মানুষঃ সামু শব্দের সেতু প্রজন্মের বন্ধন

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৪


একজন দাঁড়িয়ে জীবনের শুরুতে
চোখে তার অগণিত স্বপ্ন
আগামীর পথে কত প্রশ্ন
কত না-জানা, কত বিস্ময়
কত দূরের নীল আকাশ
ডাকে তাকে প্রতিদিন।

অন্যজন বসে জীবনের শেষে নয়
বরং দীর্ঘ পথ পেরিয়ে আসা এক প্রান্তে
প্রায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া ও তার যতসব অপরাধ।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:১৫



আজ ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে বলতে গেলে সব মিডিয়াতে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ উঠেছে। উহা দুবাইয়ে ৪ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, সিঙ্গাপুরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ট্রেন টু কক্সবাজার: টিকিট পেলাম না, পেলাম বিকল্প পথের সন্ধান

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৭

কক্সবাজার যাওয়ার ইচ্ছে ছিল অনেক দিনের। তবে এবার লক্ষ্য ছিল একটু আলাদা—বাসে নয়, বিমানে নয়; ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সমুদ্রের শহরের পথে যাত্রা। কিন্তু সেই সহজ পরিকল্পনার প্রথম বাধাই হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিন্নাহ কি বাঙালি মুসলমানের শত্রু?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:২৪


মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ পাকিস্তানের স্বপ্নদ্রষ্টা বা পাকিস্তানের জাতির জনক। একজন বাংলাদেশী হয়ে পাকিস্তানের জাতির জনককে নিয়ে আলোচনা করলে কি গুনাহ হতে পারে কিংবা বড় ক্ষতি হতে পারে? বাংলাদেশে জিন্নাহর... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেয়ার বাজারকে গতিশীল করতে স্টক ব্রোকারদের নিয়ে বৈঠকে বসছে ডিএসই আজ ১৪-০৯-২০২৬

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ১৪ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৭



বাংলাদেশের শেয়ারবাজারে মন্দার কারণ ও প্রতিকার

ভূমিকা

একটি দেশের অর্থনীতিকে যদি একটি জীবন্ত দেহ হিসেবে কল্পনা করা হয়, তবে তার শেয়ারবাজার অনেকটা হৃদস্পন্দন ও তাপমাত্রা মাপার যন্ত্রের মতো। অর্থনীতির কোথায় প্রাণশক্তি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×