somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সুখ!

০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেকদিন পরে কিছু লিখতে বসলাম...সময়ের অভাব, সেই সাথে কি লিখবো ভেবে পাইনা! মাঝেমাঝে মনে হয়, রাজীব নুর ভাইয়ের মত নিত্যদিনের কড়চাই লিখি..সবাইতো দেখি বেশ পছন্দও করে সেটা! সেটাই না হয় লিখি আজ...
প্রতিদিনের মত সেদিনও আ্যলার্মের বিশ্রী শব্দে ঘুম ভেংগে যায়, অনিচ্ছা সত্বেও ঘুমঘুম চোখে উঠে একেএকে গৎবাধা কাজ শুরু হয়,---ফজরের নামাজ পড়ে ছেলেকে ডেকে তোলা, সবার নাশতা রেডী করা, দ্রুত নিজে রেডী হওয়া, ছেলেকে স্কুলে ড্রপ করে আমরা দুজন বেড়িয়ে পরি অফিসের উদ্যেসে..সে যে কি ভয়াবহ ট্রাফিক জ্যাম ঠেলে অফিসে আসি!.প্রায়ই লেট হয়, আমার ফ্লেক্স টাইম থাকলেও আমার বরের বেশ টাইট শিডিউল, তাই প্রতিদিনই একই যুদ্ধ, যত তাড়াতাড়ি পারা যায়, ট্রাফিক ঠেলে তত দ্রুত কাজে আসার সংগ্রাম!
আমাদের এই অফিসপাড়া আগের মত ছিমছাম আর নেই, নিত্যনতুন হাইরাইজ বিলডিং উঠছে এখানে, কোন পার্কিং স্পেস নেই বললেই চলে,--সেই সাথে ট্যাকসি, উবার দের অত্যাচার..নিজেদের সবুজ ঘন গাছপালায় ভরা, ফাকাফাকা এলাকা ছেড়ে এই রুক্ষ, ব্যস্ত, সবুজহীন এলাকায় আসলে মনটা তিক্ত, বিষন্ন হয়ে ওঠে..আমার কাজ তো আরও কস্টের--কোনরকমে গাড়ী পার্ক করেই ছুটি আবার বিভিন্ন গন্তেব্য, ইন্সপেকশনের কাজে! কয়েকদিন আগে গিয়েছিলাম ফার রকওয়া নামক স্থানে, নতুন স্কুল বিল্ডিং হচ্ছে, সেটার কোড ইন্সপেকশনে। শহরটা খুবি সুন্দর, একেবারে আটলান্টিক ঘেষা, সাগরের নোনতা হাওয়ায় আর গাংচিলের শব্দে এলাকাটা মুখর!...যাহোক, কাজ শেষে বেলা বারো টার দিকে আবার ফিরছিলাম অফিসে বেল্ট পার্কওয়ে হাইওয়ে ধরে। ফেরার দিকের ৩ লেনের ডান লেনে ছিলাম আমি, এমনিতেই এসময়ে ট্রাফিক স্লো, তাই আমার বাম দিকের মাঝের লেনের গাড়ীটা খুবি স্লো যাচিছল আর তার বামের, মানে একেবারে লাস্ট বামের লেনের গাড়ীটাও মোটামুটি ধীরেই যাচিছল! এমন সময় পেছনের এক অধৈর্য গাড়ী প্রচন্ড স্পীডে আমার আর মাঝের লেনের গাড়ীর মধ্যে কেটে বের হয়ে গেল, ধড়াক করে উঠল আমার আত্মা..ইয়া আল্লাহ খুব বেঁচে গেছি,..এটা ভাবতে না ভাবতেই আবার মুহ্বর্তের মধ্যে আরেক টা গাড়ী ভয়াবহ গতীতে (৯০-১০০ মাইল/ঘন্টা) আমাদের মাঝ দিয়ে ছুটে বের হয়ে গেল, আমার গাড়ীর বাম দিকটা প্রচন্ড ভাবে আঘাত করে! ঐ সুক্ষ্ম সময়ের মধ্যে আমার চোখে ভেসে এল আব্বা, আম্মা আর আমার বাচ্চাদের মুখগুলো..মনে হল মারা যাচিছ, সেই সাথে কেমন হতভম্ব হয়ে গেলাম, না না বেঁচে আছি!...আমার গাড়ীটা সেই গাড়ীর ধাক্কায় ডান দিকের রেলিং ভেংগে হাইওয়ের পাশে ছিটকে পড়ার কথা, কিনতু কিভাবে যে বেঁচে গেলাম! শুধু বাম দিকের রিয়ার ভীউ মিরর টা ভেগে ঝুলে পড়ল..কি যে অসহনীয় অবস্থা! বা দিকের পেছনের লেনের কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা, লেন পরিবর্তনও করতে পারছিনা! এ সমস্ত ক্ষেত্রে সাধারনত আমেরিকানরা দাড়িয়ে পড়ে কোন নিরাপদ কার্বে, পুলিশ আসা পর্যন্ত..কিন্ত ঐ হারামীটা আমাকের গাড়ীকে মেরে ছুটে পালিয়ে গেল! (হয়ত ঐ দুটা গাড়ী একজন আরেকজন কে চেইস করছিল!) ---আমি কোন রকমে প্রায় ৩৫ মাইল এভাবে মিরর ছাড়া চালিয়ে বাসায় ফেরত চলে এলাম! ১০/১৫ মিনিট রেস্ট নিলাম, অন্য কেঊ হলে ক্লান্ত, বিদ্ধস্ত হয়ে বিছানায় গড়িয়ে পড়ত..আমি পারলাম না, আবার কাজে নেমে পড়লাম..ঐ যে কি বলছিলাম, সারাদিনের কড়চা লিখব! সকালেই মেয়ে আমাকে টেক্সট করেছিলো যে, ও আজকে আসতে চায় নিউ ইয়রকে, ওর নাকি খুব ভাত দিয়ে আমার রান্না করা ঝাল মুরগীর মাংস খেতে ইচ্ছে করছে!..ক্লাস শেষের পরে ও টিকিট কেটে বোস্টন থেকে রওয়ানাও দিয়ে দিলো! তাই আবার যুদ্ধে নামলাম--বাজার করে আনলাম, ওর পছন্দের খাবারগুলো একে একে সব রাননা করলাম--মুরগীর ঝোল, আলু ভরতা, ডাল ভরতা, চিংড়ী ভুনা!..রাত সাড়ে আট টায় ও ম্যানহাটানে এসে পৌছালো, ওকে তুলে বাড়ী ফিরতে রাত প্রায় দশটা বেজে গেল। আমার মেয়ের বুভুক্ষের মতো খাওয়া দেখে আমার সব কস্ট নিমিষে যেন উধাও হয়ে গেল!..খাওয়া শেষে সবাই মিলে নেটফ্লিক্সের মুভী দেখা শুরু করলাম, বাইরে তখন গভীর রাত..একটু হালকা বৃস্টি হচ্ছে, মেয়ে গুটিসুটি মেরে একই কম্বলের নীচে আমার কোল ঘেষে শুয়ে আছে---একটু অপরাধী ভাব নিয়ে মিস্টি হেসে বলল--"আম্মু হঠাৎ করেই আসলাম, আসলে এই উইকেনডে তেমন পড়ার চাপ নেই!" ....মানুষ সুখের পেছনে কতই না ছোটাছুটি করে,..অথচ এই ছোট ছোট গভীর সুখ গুলো আমরা একটু খুঁজলেই পেয়ে যাই....

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ৩:৫১
৬টি মন্তব্য ৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ক্রিকেটের রাজাকার ট্যাগ পাচ্ছেন বুলবুল আহমেদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৭ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩


আমিনুল ইসলাম বুলবুল বাংলাদেশের ক্রিকেট ইতিহাসের এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্র, যার নাম মুছে ফেলা অসম্ভব। ১৯৯৯ সালে ইংল্যান্ডের মাটিতে শক্তিশালী পাকিস্তানকে হারিয়ে বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের মাথা উঁচু করেছিলেন এই... ...বাকিটুকু পড়ুন

এবার বাধ্যতামূলক হচ্ছে এনআইডি নবায়ন

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৭ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫

বাধ্যতামূলক ভাবে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) নবায়ন করার কথা ভাবছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এনআইডির মেয়াদ ১৫ বছর পূর্ণ হলে অবশ্যই নবায়ন করতে হতে পারে।
বর্তমানে আইন অনুযায়ী এনআইডি নবায়নের সুযোগ থাকলেও সেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে যে-সব সাবেক চ্যাম্পিয়নদের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হবার সম্ভাবনা একেবারেই নাই

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২

এ দলটি ১৯৩৪, ১৯৩৮, ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়। ২০১৪ সালে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়। ২০১৮ ও ২০২২ সালে তারা মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতে পারে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আহা! ছবি।

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৮ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০০


কত দিন হয়ে গেলো....................


এ মাসেতো একটাও পোস্ট দেওয়া হলো না........................


ইদে গ্রামের বাড়ি গিয়ে কিছু ছবি তুলেছিলাম।







আজকের ছবি ব্লগে থাকছে সেই ছবিগুলো।








---------------------------------------------------






























... ...বাকিটুকু পড়ুন

কারণে অকারণে ছবি

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ২৮ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫৬

আমি ছবি তুলি। পরে সেগুলো দেখি। বেশ ভালো লাগে। ফোনের স্টোরেজ এ আজ দেখলাম মোট ছবি ৬৮৯৩ টি। ব্লগে কখনোই ছবি দিয়ে লেখা হয়নি। আজ মাইদুল ভাইয়ের লেখা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×