somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আজানের আত্মা (শেষ)

০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

দ্বিতীয় লাইন, আশহাদু আল্লাহ এলাহ এল্লাল্লাহ হোচ্ছে এসলামের মূল ভিত্তি। এই ভিত্তির উপরেই দাঁড়িয়ে আছে এসলামের সুবিশাল এমারত। এটা মূলত তওহীদের ঘোষণা, এই ঘোষণার অর্থ হোল আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো হুকুম, বিধান, সার্বভৌমত্ব মানি না। এখানে ‘এলাহ’ শব্দের অর্থ ‘তিনি সেই স্বত্বা- যার হুকুম মানতে হবে, শুনতে হবে’, অর্থাৎ এক কথায় হুকুমদাতা, সার্বভৌমত্বের মালিক। এই বাক্যটি একই সাথে একটি শপথ এবং একটি বজ্র ঘোষণা। এই ঘোষণার মাধ্যমে দুনিয়ার বুক এবং মো’মেনের হৃদয় থেকে একমাত্র আল্লাহ ছাড়া আর সকল এলাহ অর্থাৎ হুকুমদাতাকে উচ্ছেদের ঘোষণা দেওয়া হয়
তৃতীয় লাইন, ‘আশহাদু আন্না মুহাম্মাদার রসুলাল্লাহ’ এই ঘোষণা দ্বারা মোহাম্মদ (সাঃ) বিন আবদাল্লাহ কেই আল্লাহর রসুল হিসেবে স্বাক্ষ্য দেয়া হয়। এর অর্থ- মহান আল্লাহর হুকুমের সমষ্টি হোল কোর’আন, কিন্তু এই হুকমসমূহ যিনি নিয়ে এসেছেন এবং কোন্ হুকুম কিভাবে বাস্তবায়ন কোরতে হবে তার নমুনা, মডেল (গড়ফবষ) অনুসরণীয় ব্যক্তিত্ব হোচ্ছেন একমাত্র শেষ রসুল (সাঃ)। এখানে অন্য কারো তরিকা, মত, পথ, সুন্নাহ গ্রহণযোগ্য হবে না। আমরা সবাই তাঁর উম্মাহ। তাঁর মাধ্যমেই আমরা আল্লাহর সত্যিকার পরিচয় জানতে পারি এবং তাঁর রেখে যাওয়া দায়িত্ব অর্থাৎ সারা দুনিয়াতে জীবন এবং সম্পদ কোরবান কোরে সংগ্রামের মাধ্যমে আল্লাহর সার্বভৌমত্ব ভিত্তিক সত্যদীন প্রতিষ্ঠা করাই হোচ্ছে কলেমার বাণীতে তাঁকে রসুল হিসাবে ঘোষণা দেওয়া অর্থ।

“হাইয়্যা আলাস সালাহ” এবং ‘হাইয়্যা আলাল ফালাহ’ এই দুটি বাক্য একসাথে ব্যাখ্যা করার প্রয়োজন আছে। এখানে এই দুটি বাক্যের অর্থ হোল ‘সালাহর দিকে আসো’, ফালাহ্, ‘সফলতার দিকে আসো’ অর্থাৎ সালাহই সফলতা। এখন দেখা দরকার সালাহ্ই সফলতা কিভাবে?

মহান আল্লাহ আখেরী নবীর উপর দায়িত্ব দিয়েছেন হেদায়াহ্ ও সত্যদীন এই পৃথিবীতে অন্য সমস্ত জীবন ব্যবস্থার উপর প্রতিষ্ঠা করার জন্য। প্রতিষ্ঠা কিভাবে কোরবেন তাও বোলে দিলেন- জেহাদ ও কেতাল। এই জেহাদ কেতাল কোরতে হোলে প্রয়োজন একটা চরিত্রের। চরিত্র অর্জন ছাড়া জেহাদ সম্ভব নয়। সেই চরিত্র হোল আত্মিক, মানসিক, ও শারীরিক। এই সংগ্রাম করার জন্য ৫ দফার একটা কর্মসূচি দান কোরলেন। তা হোল- ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য, হেযরত ও জেহাদ। কর্মসূচির প্রথম চার দফা ঐক্য, শৃঙ্খলা, আনুগত্য ও হেযরত মো’মেনের চরিত্রে আনয়ন কোরবে সালাহ। দৈনিক ৫ বার নির্দিষ্ট স্থানে (মসজিদে) একজন আমীরের অধীনে একত্রিত হবে। সেই মো’মেনগণ কেউ লম্বা, কেউ খাটো, কেউ বুদ্ধিমান, কেউ কম বুদ্ধিমান, কেউ সামর্থবান, কেউ দরিদ্র। যার অবস্থা যাই হোক না কেন- তাঁরা কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে তাদের প্রভু আল্লাহর সামনে, উম্মাহর ঐক্যের প্রতীক পবিত্র কা’বাকে সম্মুখে রেখে দাঁড়াবে, অর্থাৎ ঐক্যবদ্ধ হোল। মহানবীর দেখানো নিয়ম মোতাবেক লাইন সোজা কোরে, বুক টান টান কোরে, মেরুদণ্ড সোজা কোরে, এক সঙ্গে সকলে উঠা বসা কোরল, রুকু-সাজদা কোরল, কেউ আগেও না কেউ পরেও না। এতে কোরে তাদের চরিত্রে শৃঙ্খলা আসলো। এমামের পেছনে এমামের হুকুম মোতাবেক তাঁরা সালাহ্র যাবতীয় কাজ কোরল। কেউ এমামের বিরুদ্ধাচারণ কোরল না, এমাম যোগ্য কি অযোগ্য প্রশ্ন তুললো না। তাঁর হুকুমের সঙ্গে সঙ্গে এতায়াত কোরল। এতে কোরে তাঁদের চরিত্রে এমন একটা বৈশিষ্ট্য আসলো যে, তাঁদের নেতার, আমীরের হুকুম হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সবাই জান দিয়ে তা বাস্তবায়ন কোরবে। আর আত্মিক শক্তি অর্জনের জন্য মো’মেন যখন সালাতে দাঁড়াবে তখন সে আল্লাহর সামনে দাঁড়াবে, তার মনের ভাব, আকিদা হবে এই যে, ‘আল্লাহ তুমি আমাদের উপর তোমার নবীর মাধ্যমে যে মহা দায়িত্ব অর্পণ কোরেছ, সেই দায়িত্বপূর্ণ করার জন্য যে মহান চরিত্রের, আত্মার বল প্রয়োজন সেই চরিত্র সৃষ্টির জন্য প্রশিক্ষণ নিতে তোমার সামনে দাঁড়িয়েছি। তুমি দয়া কোরে আমাদের সেই চরিত্র, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও আত্মিক শক্তি দাও যাতে আমরা সেই মহান দায়িত্ব পালন কোরতে পারি। আমাদের ধন-সম্পত্তি, পুত্র-পরিজন এবং জীবন তোমার জন্য কোরবান কোরতে পারি। আল্লাহর রাস্তায় ধন-সম্পত্তি পরিবার-পরিজন এক কথায় এই দুনিয়া কোরবান কোরে দেওয়ার চেয়ে বড় আত্মিক উন্নতি আর কি আছে?

এই দুই ধরণের গুণ মুসল্লিদের চরিত্রে কায়েমের মাধ্যমে ইস্পাতের মত কঠিন ঐক্য সৃষ্টি, পিঁপড়ার মত শৃঙ্খলা, মালায়েকদের মত আদেশ পালন, আনুগত্য সৃষ্টি করে, আল্লাহর বিরুদ্ধে যা কিছু আছে সে সব কিছু থেকে বিচ্ছিন্ন, হেজরত করায়, শাহাদাতের জন্য আকুল আকাক্সক্ষা জন্মায়, শত্র“র প্রাণে ত্রাস সৃষ্টিকারী দুর্ধর্ষ মোজাহেদ, যোদ্ধার চরিত্র সৃষ্টি করে। ফলে তারা হোয়ে যান এক দুর্দমনীয় অনন্য চরিত্রের মানুষ। যাদের সামনে পৃথিবীর সকল অন্যায় ও জুলুমকারীরা তাসের ঘরের মত ভেঙ্গে পড়ে, ঝড়ের সামনে খড়-কুটোর মত উড়ে যায়। দুনিয়া এবং পরকালীন এই দুই ধরণের সফলতাই তাদের পায়ের তলায় লুটিয়ে পড়ে। কাজেই সালাহর দিকে আস, সফলতার দিকে আস- অর্থাৎ সালাহর মাধ্যমে মো’মেনের চরিত্রে যে গুণের (অঃঃৎরনঁঃব) বিকাশ ঘটবে সেই চরিত্রই তাদেরকে সফলতা এনে দেবে।

বর্তমানে আজানের আত্মাহীনতাঃ আজানের মাধ্যমে যে আহ্বান করা হয় বর্তমানে মো’মেন, মোসলেম ও উম্মতে মোহাম্মদী হিসেবে পরিচিত জাতিটি তা থেকে বহুদূরে অবস্থান কোরছে। আজানের মাধ্যমে আল্লাহর যে বিরাট এবং বিশালত্ব ঘোষণা করা হয়, বাস্তব ক্ষেত্রে বর্তমানে এর কোন প্রভাবই অবশিষ্ট নেই। আল্লাহর বিশালত্বকে ঘোষণার মধ্যেই সীমাবদ্ধ কোরে ফেলা হোয়েছে। বাস্তব ক্ষেত্রে মানুষের তৈরি বিধান মেনে নিয়ে এবং তা প্রতিষ্ঠা কোরতে গিয়ে তারা প্রকারান্তরে আল্লাহর শুধুই মৌখিকভাবে বিশালত্বকে অস্বীকার কোরছে। আর আহ্বান শুনে এই জাতি মসজিদে গিয়ে সালাহ কায়েম করে বটে, কিন্তু এই সালাহ তাদেরকে সফলতা এনে দেয় না। বরং দিন দিন তারা দুনিয়াতে আরো অবহেলিত ও আরো ঘৃণিত জাতি হিসেবে পরিচিতি লাভ কোরছে। আমাদের একটা কথা মনে রাখতে হবে যে, যদি কোন গাড়ি উল্টো দিকে যাত্রা করে তখন ঐ গাড়ির সমগ্র অংশসহই উল্টো দিকে যাত্রা করে। এর কোন কিছুই তখন সামনে চলতে পারে না। এর সকল নাট-বোল্টসহ সবই পেছনের দিকে চোলতে থাকে। এসলামের তওহীদ অর্থাৎ প্রাণ ‘লা এলাহ এল্লাল্লাহর’ অর্থ যখন “আল্লাহ ছাড়া কোন হুকুম দাতা নাই” এর পরিবর্তে “আল্লাহ ছাড়া কোন মা’বুদ নাই” হোয়ে গেলো- তখনই এসলামের সকল কর্মকাণ্ড হোয়ে গেলো উপাসনা কেন্দ্রীক। দুনিয়ার বুক থেকে যে বাণীর মাধ্যমে গায়রুল্লাহর বিধান উৎখাতের প্রচণ্ড বজ্রধ্বনি ঘোষিত হয় সেখানে তা আজ দাঁড়িয়েছে প্রচণ্ড নিষ্ক্রিয় বাণীতে। আজও পাঁচ বেলা নিয়ম কোরে মসজিদে আজান ঘোষিত হয় বটে, কিন্তু মৌখিক ঘোষণা দেয়া এই জাতির অন্তরে তার তেমন কোন প্রভাব ফেলে না। এসলামের সূচনাকালে আজান ঘোষিত হোলে মো’মেনগণ সকল কাজকর্ম বন্ধ রেখে, ব্যবসায়ীগণ দোকান-পাট খোলা রেখেই ছুটতেন মসজিদের পানে। সালাহর শিক্ষা আত্মায় গেথে নেয়ায় তাঁরা পেয়েছিলেন পার্থিব জীবনের সফলতা, বিজয়, এবং দুনিয়ার বুকে কর্তৃত্ব। কিন্তু আজকের দিনে সমানতালে চোলতে থাকে দুনিয়াবী কাজ, চোলতে থাকে হৈ-হল্লা, দুনিয়ার কর্মযজ্ঞ, গাড়ির হর্নের কর্ণ বিদারণ করা শব্দ। সালাহর যে শিক্ষা তা তাদের অন্তরে প্রবেশ করে না। তাই হারিয়ে গেছে এসলামের প্রাণ, হারিয়ে গেছে আজানের আত্মা।
তাহোলে আজান এমন একটা বিপ্লবী ঘোষণা, যে ঘোষণা, আহ্বান, একদিকে আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্বের, বড়ত্বের, সার্বভৌমত্বের, অন্যদিকে দৈনিক ৫ বার গৃহকোণের, দুনিয়াবী ব্যস্ততার অর্ন্তমুখীতা থেকে বের কোরে এনে এক জায়গায় সংগঠিত করার মাধ্যমে বহিঃর্মূখী চরিত্র, ঐক্য, শৃঙ্খলা শিক্ষা দেয়। আজ মোসলেম নামক এই জাতি যেমন তওহীদ ত্যাগ কোরে অর্ধ পৃথিবীতে একটি মরা লাশের মত পড়ে আছে, এদের মসজিদগুলিও প্রাণহীন, কাজেই আজানও প্রাণহীন, মরা।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই আগস্ট, ২০১৫ দুপুর ১২:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইনকা চিপা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৬


এখন পর্যন্ত জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল সিদ্ধান্ত ছিল প্রাথমিক সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে ঢাকা ছেড়ে বাড়িতে চলে আসা। যে সময়ে শ্রেণীকক্ষে কোমলমতি শিশুদের পাঠদান করার কথা, সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×