somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাসাজ স্যার....মাসাজ

২৫ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:২০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



"স্যার...মাসাজ স্যার....মাসাজ....মাসাজ স্যার....!!!"

কোকিলকন্ঠী মধুর আহবান শুনিয়া চটক ভাঙিল। তাকাইয়া দেখি, স্বল্পবসনা এক সুন্দরী রমনী মদির কন্ঠে আমারই দিয়ে লুব্ধ দৃষ্টি হানিয়া আহবান করিতেছেন।

অহোঃ এই স্বর্গীয় আহবান যেন এ পুরুষজন্ম ধন্য করিয়া দিল।

ঘটনাটি তাহলে খুলিয়াই বলি।

স্বস্ত্রীক হাঁটিতেছিলাম শ্যামদেশের রাজধানীর (অধুনা ব্যাংকক) ফুটপাথে। গৃহিনীর ঈগলচক্ষু পার্শবর্তী মাকড়সার জালে (পড়ুন ফুটপাথে বিছানো চটকদার দোকান) লুব্ধ মাছির ন্যায় ঘুরঘুর করিতেছিল। রাজ্যের অপ্রয়োজনীয় 'দরকারি' জিনিসের পসরা হতে দৃষ্টি টানিয়া লওয়া আমার পক্ষেই দুষ্কর। তা, আর গৃহিনীকে দোষ দিয়া কি হইবে। ইহার মধ্যে উক্ত লাস্যময়ী আহবান তাঁহার কর্ণকুহরে প্রবেশ করে নাই। কিন্তু আমার কর্ণযুগল তাহা র‍্যাডারের মত ক্যাচ করিয়া লইল।

লইবেই তো। আফটার অল, তাঁহাদের লক্ষ্য তো হাট্টাকাট্টা পুরুষ।

তাই এই অধমের নজর ঘুরিয়া গেল।

আর নজর ঘুরিয়াই সাঁটিয়া গেল উহাদের দিকে। পদযুগলও যেন স্বইচ্ছায় 'হাঁটি হাঁটি পা-পা' করিতে চাহিতেছে।

ইত্যবসরে অর্ধাঙ্গিনীরও খেয়াল হইয়াছে, ডাল মে কালা আ র‍্যহা হ্যায়।

আসলে এতক্ষন উনি আমার দক্ষিনহস্ত পাকড়াইয়া রাখিয়াছিলেন। আমিও হ্যাঁচড়াইতে হ্যাঁচড়াইতে উনার পশ্চাদগমন করিতেছিলাম নির্বিবাদে। এক্ষনে পদযুগল যেই না অন্য পথের পথিক হইতে চাহিল, গৃহিনীর হাতেও হালকা টান পড়িল। দেখিলেন, স্বামী বাবাজি হাঁ করিয়া 'মাসাজ গার্ল'দের পানে চাহিয়া রহিয়াছে।

না...যাহা ভাবিতেছেন তাহা হয় নাই।

নিশ্চয়ই ভাবিতেছিলেন আমার দৃষ্টিস্খলন দেখিয়া গৃহিনী দন্ত কড়মড়াইবেন। অন্ততপক্ষে দৃষ্টি দ্বারা ভষ্ম করিয়া ফেলিবেন। কিন্তু তাহা হয় নাই। হইয়াছিল উল্টাটি।

আমি বাতব্যাধিগ্রস্ত। গৃহে মধ্যে মধ্যেই আমাকে হালকা দলাই মলাই করিতে হয়। আর এই কাজটি মাঝে মধ্যে অপটু হস্তে তিনিই সম্পাদন করেন। এক্ষনে professionalদের দেখিয়া তিনি হয়ত ভাবিলেন, দেই না একটা ঘোড়ার দলাইমলাই। হয়ত আমার হতাশামিশ্রিত লোলুপ দৃষ্টি উনার প্রাণে করুণা সঞ্চার করিয়া থাকিবে।

অথবা হয়ত ভাবিলেন, খালটি কাটিয়াই দেখি, কুম্ভির আসে কি না। আর কুম্ভিরকে 'ওয়াচ' করিবার জন্য তিনি স্বয়ং হাঙর রহিয়াছেনই।

সুতরাং...

সাব্যস্ত হইল 'দলিত' হইব। উভয়ই। তবে আমি পুরা দেহ আর উনি শুধু পদযুগল।

এতদস্থলে উল্লেখ থাকে যে, মাসাজ কর্মটি সচরাচর নারীদিগের দ্বারাই সংঘটিত হইয়া থাকে। কদাচিৎ পুং মর্দনকারীও যে থাকে না, তাহা নহে। কিন্তু সে তথ্য আমাদিগের জ্ঞাত ছিল না।

বলাইবাহুল্য, মৎ প্রাণে হিল্লোল জাগিয়া উঠিল। এই অপ্সরাদের পুষ্পসম কোমলহস্তে দলিত হইবার সৌভাগ্য বিশ্বাস করিতে মনে চাহিতে ছিলনা। কিন্তু গৃহিনী যখন দ্বারপ্রান্তে অগ্রসর হইলেন, তখন আমিও প্রফুল্লচিত্তে অনুগামী হইলাম।

প্রথমেই মেনু চার্ট।

হরেকরকম মাসাজের বর্ননা সহ মূল্য লিখা রহিয়াছে। গৃহিনীতো একবারেই অঙ্গুলিনির্দেশ করিলেন ফুট-মাসাজের দিকে।

আমি পড়িলাম ফাঁপড়ে। এত বিচিত্র উপায়ে যে দেহ-মর্দন করা যায়, জানিতাম না। সঙ্গে অভিজ্ঞ কেউ থাকিলে তা-ও হইতো। যাহাই হউক, মেন্যু বাছিতে গিয়া তো আর সুযোগ ফস্কানো চলিবে না। সুতরাং বাছিয়া লইলাম 'থাই মাসাজ'। মনে তখন প্রেমভাব জাগ্রত হইতেছে।

কিন্তু হায়! মানুষ ভাবে এক, হয় আতেক।

বাহিরে যাহা ছিল, তাহা ট্রেলার। আসল মুভি হইল আর্টফিল্ম।

বুঝিলেন না? আহহা..! বাহিরের প্রলুব্ধকারী সুন্দরী নারীগন শুধু জাল বিছাইয়াই রহিয়াছেন। কিন্তু যিনি আমাকে দোতলায় ডাকিয়া লইলেন তিনি আকারে মহিলা মল্লবীরসদৃশ। বুকখানা ধড়াশ করিয়া উঠিল। প্রেম চুলায় যাক, প্রান লইয়া ফিরিতে পারিব তো?

একখানা জোব্বা ছুঁড়িয়া দিয়া মল্লবীর অদৃশ্য হইলেন। বুঝিলাম, এই পোষাক পরিধান করিতে হইবে। করিলাম। মল্লবীর প্রবেশ করিয়াই যাহা শুরু করিলেন, তাহার বর্ননা দিতে লাগিলে মহাভারত হইয়া যাইবে।

শুধু বলি, পরবর্তী একটি আর্তস্বরে চিৎকার করিয়াছি। কারন তিনি আমাকে গামছা মুচড়াইবার মত করিয়া দলাইমলাই করিয়াছেন। উফ...! ভাবিলে আজও সর্বশরীর কন্টকীত হইয়া উঠে।

মাসাজ শেষে বিদ্ধস্ত আমি কোঁকাইতে কোঁকাইতে বাহির হইয়া আসিলাম। গৃহিনীর দন্তপঙতি দেখিয়া গা জ্বলিয়া গেলেও চুপ থাকা ছাড়া গত্যন্তর ছিল না। কারন চয়েজ আমারই।

আবার পথে নামিলাম। দুই পা আগাইতেই পুনরায় কানে আসিলঃ

"মিত্তার...মাসাজ..মাসাজ...বুম...বুম..."
সর্বশেষ এডিট : ২৫ শে এপ্রিল, ২০১৭ রাত ১২:২০
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরিয়াতন্ত্রের নিষ্ঠুরতা, ধর্মীয় উগ্রবাদ ও নৈতিক দেউলিয়াপনা

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১১ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৪৭


পৃথিবীজুড়ে মুসলমানদের প্রতি ঘৃণা বাড়ছে। এই বিদ্বেষ শুধু ইসরায়েল বা তার পৃষ্ঠপোষক ডানপন্থী দেশগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। কানাডার মতো তুলনামূলকভাবে মধ্যপন্থী এবং ফিলিস্তিনের প্রতি জোরালো রাজনৈতিক সমর্থন থাকা আয়ারল্যান্ডের মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

×