somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সাধু খাঁ'র ওজন কন্ট্রল

০৫ ই মে, ২০১৭ সকাল ৮:৪২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

সাধু খাঁ প্রতি শুক্রবার সকালে ওয়েট মেশিনের ওপর দাঁড়ায়। চোখ থাকে বন্ধ। তারপর ভয়ে ভয়ে মেশিনের ডায়ালের দিকে তাকায়।

এবং হতাশ হয়। রিডিং হয় গত সপ্তাহের মত, না হয় তারচেয়ে বেশি। হতাশার রিডিংটাও বাড়তে থাকে।

কি এক জিনিস এই 'ওজন'!! শুধু বেড়েই যায়, কমে না।

সাধু খাঁ মনে করার চেষ্টা করে গত এক সপ্তাহ কি কি খেয়েছে। কাচ্চি, গ্রীল চিকেন, রসমালাই - একেরপর এক নাম আসতেই থাকে। সবশেষে আসে চকলেট কেক উইথ আইস্ক্রিম। আহা...!! এইসব মাল পেটে ঢুকলে রিডিং তো এরকমই হবে। ভাগ্য যে মেশিন বলে ওঠে নাঃ

"নেমে দাঁড়া বজ্জাত। প্রতি শুক্রবারে তোর গোদা পায়ের পাড়া আর দিস না। "

কি করা যায়? কি করলে ওজন কমবে?

সাধু খাঁ আকাশ পাতাল ভাবে। তারপর স্বপ্নে গিয়ে ওট বিস্কুট কেনে। লাঞ্চ বাদ। দুপুরে শুধু তিনিটা ওট বিস্কুট খেয়ে পেট ভরায়। এবং অবধারিত ভাবে বিকেলে ক্ষুধার চাপে চোখে অন্ধকার দেখে। তখন মাথা খারাপ অবস্থা। মবিলে ভাজা পিয়াজু, বেগুনি, আর আলুর চপ গোগ্রাসে গিলতে থাকে। ওট বিস্কুট তলপেটে শুয়ে হাহাকার করে। রাতে ভাত খায়। ঘুমানোর আগে চককেট - বেশি না, গোটা দুই।

প্যান্ট টাইট হয়ে গেছে থোড়ের কাছে। ব্লেজারের বোতাম তো লাগেই না। কত শখ করে কেনা। আর শার্টের বোতাম লাগালে হাইপারবোলিক শেপ নেয়। মানে বোতামের কাছে শুধু শার্টের দু'প্রান্ত আটকানো। আর দুই বোতামের মধ্যিখানের কাপড় গোল হয়ে থাকে। ভেতর থেকে কাশফুলের মত থোকা থোকা পশম উঁকি দেয়। এই হলো অবস্থা।

সাধু খাঁ এখন শুয়ে শুয়ে গল্পের প্লট ভাঁজছে। কিন্তু মাথায় আসছে শুধু নাস্তার প্লট। পরটা, নাকি রুটি? সাথে কি থাকবে - এই দুশ্চিন্তায় সে উৎকন্ঠিত। মনে একঝলক উঁকি দিয়ে যায় - ফ্রিজে রসমালাই আছে। অন্যকেউ খাওয়ার আগেই মেরে দেবে কি না। সাথে একটা ডাবল ওমলেট চলতে পারে।

অবশেষে.....ইউরেকা...ইউরেকা বলে লাফিয়ে ওঠে সাধু খাঁ। উপায় আবিষ্কার করে ফেলেছে সে।

এবস্যলুট ওজন যেহেতু কমবেই না পণ করেছে, তাইলে কম্পারেটিভলি কমানো যাক। ওজন কমানো নিয়ে কথা।

সাধু খাঁ বউকে টেনে তোলে এবং ঠেলে ঠুলে ওজন মেশিনের ওপর তুলে দেয়। একটা যেন মৃদু ক্যাঁৎ আওয়াজ ওঠে মেশিন থেকে। আহা....! রিডিং দেখে সাধু খাঁ'র নিজেকে স্লিম মনে হতে শুরু করে। গম্ভীরমুখে বউকে উপদেশ দেয়ঃ দেখ, এত ওজন কিন্তু ঠিক না। কমাও...কমাও। এই যে আমি তোমার জন্য ওটমিল কিনে এনেছি। এইটা খাও। সাথে ইংরেজিও জুড়ে দেয়ঃ ইউ আর ভেরি মাচ ওভার ওয়েট। বউয়ের মুখ দুশ্চিন্তায় কালো করে দিয়ে সে বেরিয়ে আসে।

বউ আজ থেকে রুটি খাবে। ফ্যাট ফ্রি বিদেশি দুধ খাবে। ৭০০ টাকা দামের ছোট্ট এক প্যাকেট ওটমিল খাবে। আর এগুলো কিনবে আমাদের সাধু খাঁ।

তা হোক গে খরচ।

এক ঢিলে তো দুই পাখি মারা হলো। নিজের এবং বউয়ের - দুজনেরই ওজন কমানোর ব্যবস্থা তো হলো। আহা...! বউ স্লিম হবে, সে স্লিম হবে, দু'জনে নায়ক নায়িকা হয়ে ঘুরে বেড়াবে এক মাসের মধ্যে।

গল্পটা এখানেই শেষ হলে দারুন হত। আপনারা দারুন ফিট মিস্টার এন্ড মিসেস সাধু খাঁ'কে পেয়ে যেতেন। কিন্তু গল্পটা এখানে শেষ হয়নি।

বউ এখন ওই খাবারগুলো খায়। সাথে আরও কিছু খায়। যেমন ব্রাউনি উইথ আইস্ক্রিম, আইস্ক্রিম চকলেট সানডি, কোকোনাট উইথ স্টিকি রাইস। আর ঘরভর্তি চকলেট তো আছেই। সঙ্গ দেওয়ার জন্য সাধু খাঁ-ও খায়। আরাম করে খায় না বললে মিথ্যা বলা হবে।

আজও রোজ শুক্রবার দুজনে একে একে ওজন মেশিনে দাঁড়ায় এবং মেশিনের 'ক্যাঁৎ' করে কেতরে ওঠার শব্দ শোনে। অভ্যাস হয়ে গেছে।

শুধু ডায়ালের দিকে আর তাকায় না।

(সমাপ্ত)

সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মে, ২০১৭ সকাল ৮:৪২
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দেয়ালের ছবি আর বই এর পাতায় আধিপত্য দেখে ! অথচ বন্দর আর কড়িডোরের অসম চুক্তিতে সব শিয়ালের এক রা॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:১২


দেশ বিক্রির পরীক্ষিত ঠিকাদার....



দেয়ালের ছবি দেখলেই ভারতীয় আধিপত্য, আর বন্দর বেচে দিলে নীরবতা কেন?

দেয়ালে একটা ছবি আঁকা দেখলেই যাদের মুখে ফেনা উঠে যায় - "বাংলাদেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন সেনা কর্মকর্তা কর্মকর্তার মেজর নিদাল্ল হাসানের মৃত্যুদণ্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ২:৩২



নিদাল হাসান (পুরো নাম: নিদাল মালিক হাসান) হলেন মার্কিন সামরিক বাহিনীর একজন সাবেক মেজর এবং মনোরোগ বিশেষজ্ঞ (Psychiatrist)।

২০০৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের ফোর্ট হুড সামরিক ঘাঁটিতে সংগঠিত এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপার ফিরে আসার পদ্ধতি কি?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:২৩



আপা কেন ভারতে বেড়াতে গেলেন সেটা সবাই জানে। আগামী ডিসেম্বরে আপা দেশে ফিরে আসার আগ্রহের কথা জানিয়েছেন সেটাও সবাই জানে। আপা কিভাবে দেশ থেকে রাষ্ট্রীয় সফরে ভারতে গেলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×