somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কাঁটা দ্য ফিল্ম'_অডিশন থেকে প্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশ্যে দুটি কথা...

১১ ই নভেম্বর, ২০১৭ দুপুর ১:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কাঁটা দ্য ফিল্ম'_অডিশন থেকে প্রাপ্ত অভিনেতা-অভিনেত্রীদের উদ্দেশ্যে দুটি কথা...
....................................

মহান কথাসাহিত্যিক শহীদুল জহিরের গল্প 'কাঁটা' অবলম্বনে নির্মাণাধীন ছবি 'কাঁটা দ্য ফিল্ম' সরকারি অনুদানে মনোনীত হওয়া একটি চিত্রনাট্য। এখন একটি ভাবনা ভাবা দরকার, যারা অাগে ওল্ড টেস্টামেন্ট না পড়েই সরাসরি বাইবেল বা পরবর্তীতে উন্মোচিত হলি গ্রন্থের পাঠক, তারা যেমন একটা গ্যাপে পড়ে থাকেন এবং সেটি স্বাভাবিক, সেভাবেই যারা বাংলা সাহিত্যের অাড়াইশো বছরের ধারাবাহিকতার সঙ্গে নিবিড়ভাবে পরিচিত নন কিন্তু হঠাৎ একটি ছবিতে অভিনয়ের জন্যে পড়ে ফেললেন 'কাঁটা' বা জনাব জহিরের অার যে-কোনো গল্প-উপন্যাস, তারাও একটা গ্যাপে পড়ে থাকেন। বাংলা সাহিত্যের একজন নিবিড় চাষী হিসেবে পাঠক সমাজের মধ্যে এই বাস্তবতা অামি দেখতে পাই। অাবার ভাবি, এ তো হতেই পারে। পাঠক এক জিনিস অার সিনেমার দর্শক অারেক জিনিস। হয়তো শহীদুল জহির লিখেছেন, ...অার সেই সময় ভূতের গলির মহল্লাবাসিরা ইয়োর চয়েস সেলুনের সামনের বেঞ্চে বসে কিয়ের যেন গন্ধ পায়। গন্ধ কিয়ের?' অাবার মহল্লাবাসিরাই মনে করে যে, খরায় কাওয়া-মাওয়া মরতাছে, গন্ধ হইব না?' এখানে ঠিক কয়জন মহল্লাবাসি উপস্থিত, তার কোনো সংখ্যাতাত্তিক নির্ণয় নেই। তাই অামার ধারণা, 'কাঁটা' গল্পের চিত্রনাট্য যদি পাঁচজন লোক অালাদা অালাদা ভাবে বসে লিখতে বসেন, মূল কাঠামো ঠিক থাকলেও চিত্রনাট্যের ফর্ম হয়ে পড়বে পাঁচ রকমের। এটাই হবে, এটাই হয়। হতেই পারে।

অামার চিত্রনাট্য রচনার অনেক পরে (২০১৪ সালে ইউটিউবে) অামি 'কাঁটা' টেলিভিশন প্রোডাকশন দেখেছি, যেটি ২০০৯ সালে নির্মিত হয়। সেখানে সব মিলিয়ে চরিত্রের সংখ্যা অাছে হয়তো ২৫/৩০ জন। ভালোভাবেই তিনি গল্পটা ফুটিয়ে তুলেছেন। অাবার ২০০৫ সালে সরকারি অনুদানের জন্যে একজন ফিল্ম মেকার 'কাঁটা' জমা দিয়েছিলেন, সেটি তখন মনোনয়ন পায়নি। সম্প্রতি সেই চিত্রনাট্য পড়ার সুযোগ অামার হয়েছে। সেখানে চিত্রনাট্যকার যে-ভঙ্গিতে গল্পটা দেখাতে চেয়েছেন, তাতেও যে চরিত্র সংখ্যা খুব বেশি, তা নয়। কিন্তু অনুদান পাওয়ার পরও অারো বছর দেড়েক সময় ধরে অামি 'কাঁটা' গল্পের চিত্রনাট্য নিয়ে নির্ঘুম থেকেছি, কাটাছেড়া করেছি, বারবার সংযোজন-বিয়োজন করেছি, প্রযোজন মনে হয়েছে বলে করেছি, পুরান ঢাকায় গিয়ে ফরাসগঞ্জের ৪২, বিকে দাস রোডের অাড়াইশো বছরের পুরোনো বাড়িটিতে ৬ মাস থেকেছি। ১৯ তম ভার্সন শেষ করে অারেকটু কাটাকুটির পর 'কাঁটা দ্য ফিল্ম' চিত্রনাট্য ২০ তম ভার্সনে এসে যখন ফাইনাল হলো, তখন ছবিতে চরিত্র গিয়ে দাঁড়াল দু'শোর অধিক। এবং এতেই অামার সন্তুষ্টি।

এই অাড়াইশো চরিত্রের সন্ধানে অামি বাজারের বা দোকানের জিনিস কম নিতে চেয়েছি। তাই টেলিভিশন, মঞ্চ বা প্রথাগত সিনেমার লোক অামি চাইনি, চাইও না। কারণ, তাদের অভিনয়-অভিজ্ঞতার চেয়ে অামার দরকার কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্টের মানুষ। তাইলেই অামি পারব, করিয়ে নিতে। সে বিশ্বাস অামার মধ্যে সবসময় বিদ্যমান। অার ফিকশনে তারকা-ফারকা জিনিসটায় অামার সামান্য কোনো অাস্থা কোনোকালেও নেই, এখনো নেই, কাজেই 'অডিশন থেকে অাসা নতুন নতুন মুখগুলো কে কোন চরিত্রের ভার বইতে পারবেন, সেটি দেখে নেওয়ার জন্যে 'কাঁটা দ্য ফিল্ম' টিম প্রচুর পরিশ্রম করে যে-কাঠামোতে পৌঁছেছে, সে-অনুসারে টিমের সাপোর্টে এর নির্মাতা হিসেবে অামাকে দেখে নিতেই হচ্ছে, কে কি পারে? কতটা পারে? কিরকম করে পারে? সেই পারাটা কি তেমন, যেমনটা অামি চাই? 'কাঁটা' গল্পটি পড়ে নিয়ে চরিত্রের অাকাঙ্খা কারো হতেই পারে কিন্তু নিজ থেকেই চরিত্র চাইবার বা নিজে চরিত্র কি চরিত্র পাচ্ছি_তা ভাববার কোনো সুযোগ নেই। কোনোভাবেই নেই। এটা অার কারো ভাবনার মধ্যেই পড়ে না, সেই এখতিয়ারও কারো নেই। অভিনেতা-অভিনেত্রীর নিজে থেকেই নিজের চরিত্র ভেবে বসাটা যে ঠিক নয়, সেটি বুঝতে হবে। প্রোডাকশন কাঠামোতেই যে সেটা থাকে না, ছিলও না কোনোকালে, এটা না জানলে তাকে ছবিতে নিয়ে কে পোহাবে যন্ত্রণা? বরং চরিত্র অনুযায়ী চরিত্র অন্বেষণে অর্থ-সময়-পরিশ্রম অামরা ব্যয় করছি, তারও কোনো দরকার ছিল না তাহলে! অাপনার সঙ্গে তো দেখাই হতো না।

বরং অপেক্ষা করুন। ধৈর্য ধরুন। 'কাটা অাপনাকে সঙ্গে নিয়ে যাবে, সেই অাস্থা রাখুন। মনে রাখবেন, একটি প্রোডাকশনে ডিরেক্টরের ওপর অাস্থা রাখাই অাপনার চলবার রাস্তা...

মহান বিনয় মজুমদারের কবিতার উদ্ধৃতি দিয়ে এই মুহূর্তে ইতি টানছি_
'ভালোবাসা দিতে পারি, তোমরা কি গ্রহণে সক্ষম?'

'কাঁটা দ্য ফিল্ম' এর পক্ষে
টোকন ঠাকুর
বড় মগবাজার
কাঁটা ক্যাম্প টু
১১.১১.২০১৭



সর্বশেষ এডিট : ১১ ই নভেম্বর, ২০১৭ সন্ধ্যা ৬:১৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসলাম ও বিজ্ঞান এআই বিবেচনায় আমার ফরিদ আহমদ চৌধুরী ব্লগের সেরা পোষ্ট

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



# কপি করা যায় না বিধায় এআই তারমত করে পোষ্টটি সাজিয়ে দিয়েছে

ইসলাম ও বিজ্ঞান
লেখক: ফরিদ আহমদ চৌধুরী
প্রকাশিত: ২৮ নভেম্বর ২০১৮
আল্লাহ, নবী (সা.) ও পরকাল ইসলামের প্রধান আলোচ্য বিষয়;... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ ডিসেম্বর ১০-১৬: বিশ্ব বাংলাদেশকে নিয়ে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে ছিল

লিখেছেন কলাবাগান১, ০৪ ঠা অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৯:১১


লিখা টির ইতিহাস ভিত্তিক ইনফো এআই থেকে সংগৃহীত

আমরা সবাই জানি যে ১৯৭১ সনের ১৬ই ডিসেম্বর বিকেলে পাকিস্হান হানাদার বাহিনী আত্মসমর্পন করে মিত্রবাহিনীর কাছে। কিন্তু আমরা অনেকেই হয়তো জানি না,... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুক্তিতে নেই, তবু প্রবাসীদের আশা: NCT দিলেই মিলবে ভিসা ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৪:০০


জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারের কাছে জনগণের প্রত্যাশা ছিল, বিগত অনির্বাচিত সরকারের সকল প্রজেক্ট পর্যালোচনা করা হবে। দেশের স্বার্থবিরোধী হলে তা বাদ দেওয়া হবে। কিন্তু সরকার তো আগের দেখানো... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুগল এ.আই. - প্রফেশনাল সার্টিফিকেট পেয়ে গেলাম

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৩৫


বিগত কয়েক বছর ধরেই অনলাইনে কোর্সেরাতে টুকটাক কোর্স করছি, মাঝে মধ্যেই সার্টিফিকেট পাচ্ছি। তবে প্রফেশনাল সার্টিফিকেট কোর্স কখনো করা হয় নি। বলে রাখা ভালো কোর্সেরা ফ্রি নয়, এখানে আপনাকে পে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মদিনার মিষ্টান্ন, শ্রী ঘোষের দধি: সম্প্রীতির যে রেখা চোখে পড়ে না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৫ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৮



২০২১ সালের ডিসেম্বরে দেওয়া এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে প্রয়াত লেখক, গবেষক ও বাম রাজনীতিক বদরুদ্দীন উমরকে দেশের সাম্প্রদায়িকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ষাটের দশকে যিনি ‘সাম্প্রদায়িকতা’ নামে আস্ত একটা বই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×