somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিষন্নতাকথন............।

২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

একটা একটা সময় আসে, যখন কিছুই করা হয়ে উঠে না। কেবল মনের ভিতর তিরতির করে কাঁপতে থাকে বিষণ্ণতা। যে সময়টাতে মনে হতো পৃথিবী পায়ের তলায়, সে সময়টাকে কেন আরো বেশি ভালোবাসলাম না, এই আফসোস আরো মন খারাপ করিয়ে দেয়।

ইদানিং মনখারাপ নিয়ে ঘুমাতে যায় আর ঘুমের মধ্যেই ফিরে যাই হলের ২০২ নং রুমে। পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জীবন আমার কেটেছে এই রুমের জানলার ধারের সিটটাতে। ঘুমের মধ্যেই ঘুম থেকে জেগে উঠে জানলা দিয়ে তাকিয়ে থাকি। ঘুমের মধ্যেই এখনকার এসময়টাকে মনে হয় স্বপ্ন। স্বপ্নের বাস্তবতাকে কি ভীষন ভালবাসি তখন। আর ঘুম ভেঙে গেলে কেমন কান্না পেয়ে যায়। কেন আরো বেশি করে ভালবাসলাম না হলের সেই রুমটাকে !!!

শীতকাল আসছে, আমার প্রিয়তম টিএসসির জন্য হাহাকার লাগছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ঘোরলাগা শীতকাল আমার প্রিয়তম ঋতুকে যে বিশেষ রং দিয়েছে, তার কাছে অন্য যে কোন জায়গায় এ ঋতুর উদযাপন পানসে। সে শীতের সাথে জড়িয়ে আছে কত বন্ধুর কতরকম স্মৃতি। কেন বন্ধুদের আরো বেশি ভালবাসলাম না। যারা কাছে নেই বলে এখনকার সবকিছু পানসে লাগছে, কেন তাদের আরো প্রাণ উজাড় করে ভালবাসলাম না !!!

চাইলেই এখন এসবের জন্য মন খারাপ করে থাকতে পারি, কিন্তু ভালবাসা দিতে পারি না। অথচ, ওরা সবাই, সবকিছুই আমাকে পূর্ণতার ধারণা দিয়ে আমার কাছ থেকে হারিয়ে গেছে। আমার আনন্দ, আমার গান, আমার 'সবকিছু পারি' ভাব, আমার স্বাধীনতা - সবকিছু ওই এলাকায় আটকে আছে। মনে হচ্ছে একবার ফিরে পেলে আবার এই মানুষটা তুমুলভাবে বেঁচে উঠতো।

অথচ ভাবতে গেলে আমার সুখের উপকরণের কোন অভাব নেই। আমার অসম্ভব ভালো বর আছে, কলিজার টুকরো ছোট্ট একটা মেয়ে আছে। আমার দুই পরিবারের প্রত্যেকটা মানুষ আমার খুব কাছেই থাকে এখন। তবু এক একটা দিন আমার স্বাধীনতা আর আমার বন্ধুদের জন্য কান্না পায় ভীষণ। ঢাকার মতো শহর কি করে আমার প্রিয় হয়, এ নিয়ে আমার কাছের লোকজনের বিষ্ময়। ঢাকা আমাকে কি দিয়েছে, তা বলে কখনো বোঝানো যাবে না। ওই শহরটা আমাকে ভীষনভাবে টানছে। যদিও জানি ফিরে গেলে- যার জন্য, যাদের জন্য হাহাকার, তাদের পাওয়া হবে না, তবু আজ সারাদিন টিএসসিতে বসে এক কাপ চায়ের জন্য মন খুব অস্থির হয়ে আছে।

বয়স যত হচ্ছে, ঝুলিতে মিস করার কতো ব্যাপারগুলো বাড়ছে। বেশিদিন বেঁচে থাকা মানে হারাতে হারাতে রাস্তা দিয়ে হাঁটা। পাচ্ছি ও অনেক কিছু, তবে ভীতরের অভিগ্ঞ মানুষ জানে সে কেবল হারানোর জন্যেই।

আজ বাতাসে শীতের গন্ধ, আজ খুব মন খারাপ।
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে অক্টোবর, ২০১৩ রাত ৯:৫৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একলা বিকেল

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:০৫

-একা থাকো?
-না।
-কে থাকে সাথে?
-কেউ না।
-তাহলে কিভাবে বলছো একা থাকো না?
-থাকি না তো।
-কিভাবে?
-তুমি থাকো যে পাশে।
-বাহ! ………কতক্ষণ থাকি?
-সারাক্ষণ। টেবিলে বসে খাচ্ছি, তুমি সামনে। রান্না করছি, তুমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

না ফেরার দেশে চলে গেলেন রথো রাফি

লিখেছেন ফেনা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৩৩



আজ অনেক দিন পর ব্লগে আসলাম। আসলে চাকুরী জীবনের প্রেসার সামলাতে সামলাতেই সময় চলে আয়, নেটে আর তেমন আসা হয় না। আজ আসলাম রাফি ভাই এর মৃত্যু সংবাদটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার পোষ্টে ব্লগার অপু তানভীরের এআই আপত্তি এবং এর এআই জবাব

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩০





কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

অপুতারভীরের এআই আপত্তি-
আপনার লেখা সম্পর্কে এআই মূল্যায়ন নিচে দিলামঃ
১. শূন্যতা ও উদ্ভবের ভুল ব্যাখ্যা (Misinterpretation of Void and... ...বাকিটুকু পড়ুন

১ টাকায় মিলছে ৪ লাউ, উৎপাদন খরচ তুলতেই হিমশিম কৃষকের

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪২

Click This Link

পঞ্চগড় এলাকায় ৪ টা লাউ বিক্রি হচ্ছে এক টাকায় ! ইত্তেফাকের মত প্রতিষ্ঠিত সংবাদপত্রে আসা এ সংবাদ অসত্য বা অতিরঞ্জিত না হলে বিষয়টা একেবারে উড়িয়ে দেয়ার মত না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৩ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৫১

ধর্মের লেবাস নয়, শিশুর নিরাপত্তাই হোক আমাদের প্রথম দায়িত্ব!

একজন বাবা তাঁর ছয় বছরের কন্যাকে মাদ্রাসায় পাঠিয়েছিলেন দ্বীনি শিক্ষা, নৈতিকতা ও নিরাপদ ভবিষ্যতের আশায়। তিনি কি কখনো কল্পনা করেছিলেন, ধর্মীয় শিক্ষকের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×