আগেকারদিনে গ্রাম্য বিয়েবাড়ীতে বাদ্যবাজনা ছিল নিষিদ্ধ। তবুও বিয়েবাড়ী কর্তৃপক্ষ বিয়ের আগের রাতে বাড়ীতে মাইক লাগাতেন। রাতব্যাপী মাইকে জকি হিসেবে নিযুক্ত হতেন মাদ্রাসায় পড়ুয়া একদল তালেবুন ইলম। সন্ধ্যারাতে তারা হামদ-নাত গাইলেও রাত বাড়লে শুরু হতো হিন্দিগান; ভিগি ভিগি হে ছামা.... মেরা দিলমে ফুকারে আজা...! তাদের পারিশ্রমিক ছিল ভাল আর তারসাথে থাকতো ভাল খাবারদাবার ও সিগারেট। এরকম আমাদের এক বড়ভাই ছিলেন আখতার ভাই। সুরেলা কন্ঠ, দরাজ গলা। তিনি একটানা চব্বিশ ঘন্টা বিয়েবাড়ীতে গান গেয়েছেন এরকম জলন্ত প্রমাণও রয়েছে। শুধু তাই নয় আখতারভাই বহু গরিব ঘরের বিয়েবাড়ীতে মাগনা গান গেয়ে রাত ফুরিয়েছেন এমন প্রমাণও বহু। এরকম একদিন এক গরিব ঘরের বিয়েবাড়ীতে আখতার ভাইয়ের ডাক পড়ে। সারারাত গান গাইতে টাকা না পেলেও তার যে জিনিষটি নিতান্ত প্রয়োজন, তা হলো; বিড়ি। আখতারভাই যে বাড়িতে দাওয়াত পেলন ওই বাড়ীতে বিড়ির টাকা পাবেন কিনা সন্দিহান ছিলেন। এমনসময় দেখলেন মুড়ি কিনতে টাকা নিয়ে দোকানে যাচ্ছিল এক শিশু। আখতারভাই বিসমিল্লাহ বলে বাচ্চাটির হাত থেকে টাকাটি নিযে নিলেন। একটাকায় তো আর রাত কাটানোর মতো সিগারেট পাওয়া যায় না। তিনি সিদ্ধান্ত পাল্টিয়ে বর্তমান আবুল খায়ের গ্রুপের জনপ্রিয় ‘আবুল বিড়ি’ কিনে নিলেন এক প্যাকেট। এ সময় আমাদের মাঝ থেকে কে একজন বলে উঠলো, তুমি কি বিড়ি খাবা? আখতারভাই তার জবাব দিলেন, আরবীতে ; “আল আবুলু খাইরুন মিনান গোল্ডলিফ”। অর্থাৎ যখন টাকা থাকবে না তখন আবুল বিড়ি গোল্ডলিফ সিগারেটের চেয়েও উত্তম। উল্লেখ্য বাংলাদেশের বহু বিখ্যাত মাওলানা ওয়াজীনদের মাদ্রাসায় পড়া অবস্থায় পেশা ছিল; বিয়েবাড়ীতে রাতভর গজল গাওয়া আর রাত বাড়লে, ভিগি ভিগি... হে ছামা..মেরা দিলমে ফুকারে আজা...
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৮ রাত ৯:৪২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




