somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কুরানের প্রতি ভালবাসা

০৬ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কিছু দিন আগে আমার এক বোন আমার কাছে টেলিফোন করে বললেন যে তার হাত থেকে এক কপি কুরান (শরীফ) দুর্ঘটনা বশত মাটিতে পড়ে গিয়েছে, সে খুবই উদ্বিগ্ন এবং এটার কাফফারা স্বরূপ কি করতে পারে? আমার স্বল্প জ্ঞানের নিরীখে আমি যা জানি তা হলো এটা কোনো সমস্যা নয়, তাই তাকে দুশ্চিন্তা গ্রস্থ হতে নিষেধ করলাম এবং ভবিষ্যতে কুরান মজিদ হাতে নেয়ার সময় সতর্কতা অবলম্বন করতে বললাম।

আমার এই বোনের মত লক্ষ কোটি মা- বোন এবং ভায়েরা আছেন আমাদের দেশে যারা কুরান কে ভালোবাসেন, যারা কুরানকে যত্ন করে বুকশেলফের সব চেয়ে উঁচু তাকে গিলাফে জড়িয়ে তুলে রাখে্ন, কুরান তেলাওয়াত করেন, কিন্তু কুরান মজিদের প্রকৃত হক সম্পর্কে ওয়াকিবহাল নন।

প্রসঙ্গক্রমে একটি কথা মনে পড়ে গেল, আমার ছেলেবেলায় আমাকে ও আমার বোনকে আমপাড়া ও কুরান পড়াতে আসতেন একজন বিহারী মহিলা, ওনার একটি অদ্ভুত নিয়ম ছিল, কেউ যদি আমপাড়া পড়ার সময় সুরা আলাক শিখতে শুরু করে তাহলে বুট সিদ্ধ করে খেতে হবে বা সদকা করতে হবে। সে সময় দুর্ঘটনা বশত কুরান মজীদের কপি হাত থেকে পড়ে গেলে, ওনার নির্দেশ মত কুরান মজীদের ওজনের সমান চাল সদকা করতে হয়েছিল। তার এই ফতোয়াতে কুরানের প্রতি ভালোবাসা বা সম্মান হয়ত ছিল। কিন্তু সত্যতা একেবারেই ছিলোনা। আমার সেই ছেলেবেলায় বা এখনো বাংলাদেশের আনাচে- কানাচে হয়ত এরকম আরো অনেক কু-সংস্কার ছড়িয়ে ছিল বা আছে। আল্লাহর অপরিসীম রহমতে বাল্যের সেই কু-সংস্কার গুলোকে কু হিসাবেই চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছি।
কিন্তু এই সংস্কার গুলোর হেতু কি ? উত্তর হলো এক কথায় অজ্ঞতা। আমরা কুরানকে ভালোবাসি / সম্মান করি, কুরান তেলাওয়াত করি কিন্তু কুরান শিখিনা, জানিনা। কুরান মজীদের নাম যে কুরান শরীফ নয়, সেটাই আমরা অনেকে জানিনা। আল্লাহ সুবহানুতা’আলা কুরান কে আল-কুরানুল মজিদ, আল-কুরানুল হাকিম, আল-কুরানুল কারীম, আল-ফুরকান, কিতাবুল মুবীন ইত্যাদী নানা নামে অভিহিত করেছেন, কিন্তু কখনোই কুরান শরীফ নামে অভিহিত করেন নি, কিংবা রসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলায়হি ওয়া সাল্লাম থেকেও এমন কিছু বর্ণিত আছে বলে আমার জানা নেই। কিন্তু আপামর জন-সাধারণের এই ভুলটি খুব কমই ভুল হিসাবে চিহ্নিত করা হয়। ভারতীয় উপমহাদেশের বাইরে কুরান শরীফ নামটির কোনো প্রচলন নেই।

আমরা কুরান তেলাওয়াত করি কিন্তু এর অর্থ বুঝিনা। আমরা পার্থিব লাভের জন্য সারা জীবন ধরে ইংরেজি ভাষা শিখি, কেতাদুরস্থ ভঙ্গীতে ইংরেজীতে কথা বলে নিজেকে জাতে তোলার চেষ্টা করি, কিন্তু আল্লাহ যে ভাষায় মানুষের সাথে কথা বলেছেন, সেই ভাষা শেখার প্রতি অনীহা প্রদর্শন করি।

আমরা জানি কুরান পাঠ করলে প্রতি হরফের জন্য ১০ টি করে নেকি পাওয়া যাবে, কিন্তু কুরানে বর্ণিত আল্লাহর আদেশ- নিষেধ সম্মন্ধে আমরা জানিনা। কুরান হাতে থেকে পড়ে গেল আমাদের অন্তরাত্মা কেঁপে উঠে, কিন্তু কুরানে বর্ণিত পর্দার ফরজ বিধান সম্পর্কে অনেক বোন উদাসীন। তাদের কাছে মনে পর্দাই তখন বড় পর্দা হয়ে উঠে। আমরা নিজেদের মুমিন-মুসলমান দাবী করি এবং মসজিদ থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করি , কিন্তু আমরা জানিনা আল্লাহ তার পবিত্র গ্রন্থে ঈমান এবং সালাত কে একই অর্থে ব্যাবহার করেছেন। আমরা কুরানকে ভালোবাসি আর ইহুদী, খ্রিস্টান, মুশরিকদের কে বন্ধু হিসাবে পাওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে উঠি। কিন্তু আল্লাহ কুরানুল কারীমে ইহুদী- মুশরিকদের মুসলমানের শত্রু হিসাবে গণ্য করেছেন এবং ইহুদী- নাসারা দের বন্ধু হিসাবে গ্রহন করতে নিষেধ করেছেন, সে ব্যাপারে আমরা বিন্দু মাত্র জ্ঞান রাখিনা। এ রকম অসংখ্য উদাহরণ দেয়া যাবে, যাতে শুধু এই নিবন্ধের কলেবরই বৃদ্ধি হবে। যা আমার উদ্দেশ্য নয়।

কুরানকে জানতে হলে বুঝতে হলে আরবী ভাষা শেখা বা জানার কোনো বিকল্প নেই। এখন অনেকেই বলবেন, আরবীর মত বিদেশী ভাষা শেখা সোজা নয়। আমি জানি এটা আমাদের শিক্ষা ব্যাবস্থার গলদ, ৯০% মুসলমানের দেশে এটা দাবী করাও এখন এক রকম ধৃষ্টতা। কিন্তু আমরা কুরানের ভালো অনুবাদ ও তফসির পড়তে পারি। তবে আমাদের সমাজে অনেকেই আছেন যারা কুরানের অনুবাদ বা তফসির পড়তে নিরুৎসাহিত করেন, এর অন্যতম কারণ হলো এতে অনেকেরই ব্যাবসাতে ধ্বস নামবে, অবশ্য অনেকেই অজ্ঞতা বশত এ রকম কথা বলে থাকেন।

আর আরবী ভাষা শেখার ব্যাপারে আমাদের ব্যাক্তিগত বা সম্মিলিত উদ্দ্যোগ নিতে হবে, যে সমস্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আরবী ভাষা শেখানো হয়, সে সব জায়গাতে আমাদের সন্তানদের ভর্তি করার উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই হয়ত আমরা কুরানের প্রতি প্রকৃত ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা দেখাতে পারব এবং এর হক আদায় করতে পারব এবং কু-সংস্কার থেকে বেরিয়ে আসতে পারব।


সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই মার্চ, ২০১৬ সকাল ১১:০৯
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাবা শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান, ছেলে কিশোর মুক্তিযোদ্ধা

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২১

মুক্তিযুদ্ধকে ঘিরে অনেক হৃদয়বিদারক ঘটনা আছে। কুমিল্লার এমনই একটি ঘটনার কথা বলেছেন একজন মুক্তিযোদ্ধা -

কুমিল্লা শহরের উত্তর দিকে রসুল আহমদ নামে একজন ব্যক্তি ছিলেন। তিনি ছিলেন শান্তি কমিটির চেয়ারম্যান।... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের সীমা (জনস্বাস্থ্য বিষয়ক সতর্কতা!)

লিখেছেন আবু সিদ, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪০

“সুন্দর শব্দ মধুচক্রের মতো, আত্মার জন্য সুমিষ্ট এবং অস্থির জন্য আরোগ্য।” — প্রবচন ১৬:২৪, বাইবেল

প্রতিদিন বাসা থেকে বের হলেই হাজারো শব্দ উড়ে এসে আছড়ে পড়ে আমাদের কানে। দূর ও নিকট... ...বাকিটুকু পড়ুন

একজন কর্মী ও তার ন্যায্য পাওনা

লিখেছেন কিরকুট, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:২০

বাংলাদেশের বেসরকারি খাত নিয়ে কথা বলতে গেলে আমরা সাধারণত বিনিয়োগ, মুনাফা, ব্যবসায়িক প্রবৃদ্ধি, বাজার সম্প্রসারণ কিংবা উদ্যোক্তার ঝুঁকির কথা ভাবি। কিন্তু এই পুরো ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ কর্মীর শ্রম নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গ্যাস বিদ্যুৎ সংকটের জন্য দায়ী কে?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১১



২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের সামরিক, পারমাণবিক ও সরকারি স্থাপনাগুলোতে আকস্মিক বড় ধরনের বিমান হামলা চালায়।প্রথম দফার হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ীসহ বেশ কয়েকজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আ-তে আনন্দবাজার, আ-তে আওয়ামী লীগ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৫


ইন্টারনেটে খবর পড়তে পড়তে হঠাৎ একটা শিরোনাম সামনে এলো। পড়েই কয়েক সেকেন্ডের জন্য মনে হলো, বাংলাদেশের বিদ্যুৎ খাতে বুঝি বিশাল কোনো ঘটনা ঘটে গেছে। শিরোনাম, “আধ পয়সা বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×