somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আদি ও আসল সোলেমানী তদবীর

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


১.
আমার বান্ধবী নীলা। অপরূপ সুন্দরী। এমবিবিএস থার্ড ইয়ারের স্টুডেন্ট। ওর বয়ফ্রেন্ড একই মেডিকেলে ফোর্থ ইয়ারে। ওদের দুজনের প্রেম চলে রোদ-বৃষ্টির মতো; এই ঝগড়া, এই ভাব। মেয়েটা ছেলেটাকে পাগলের মতো ভালোবাসে। প্রায়দিনই নিজে রান্না করে খাওয়ায়, এটাসেটা গিফট করে। ওর ভাষ্যমতে, এক বছরের সম্পর্কে প্রায় ২০ বার বিরিয়ানী রান্না করে খাইয়েছে। এভাবে ভালোই চলছিল।

তো একদিন নীলা ফেসবুকে নক করল, 'মুনা তোর সাথে একটা জরুরী কথা আছে। ওই মুনা...'
অনলাইনে এসে মেসেজ দেখতেই রিপ্লাই দিলাম, 'হ্যাঁ বল কী কথা?'
- ও আমাকে ভালোবাসে না...
বলে সে কয়েকটা স্ক্রিনশট দিলো। ওদের কনভার্সেশন দেখে বুঝলাম, ছেলেটা এখন তাকে ভালোবাসে না। সে লিখেছে , 'এত ভালোবাসো কেন আমাকে?! আমি তো তোমাকে ভালোবাসিনা।... বিয়ে করতে পারব না। প্রেম করলে করতে পারো, না চাইলে ব্রেকআপ করে দিতে পারো।'
'ওহ মাই গড এসব কী বলতেছে!! এইভাবে বলতে পারলো?!!' আমি লিখলাম।
নীলা বলল, 'ওর মার জন্য ও এমন করতেছে। ওর মা ওকে বলছে যে প্রেম করে বিয়ে করলে ওকে ত্যাজ্যপুত্র করবে! '
আমি একটু গাম্ভীর্য নিয়ে বললাম, 'হুম... কঠিন সমস্যা...!'
এবার ও আমাকে কয়েকটা ছবি দিলো।
একটা বইয়ে লেখা,
" কাহাকেও মনে ভালো লাগিলে এবং তাহার ভালোবাসা পাইতে হইলে নিম্নের আয়াত পড়িয়া কোনো মিষ্ট দ্রব্য বা মিষ্টির উপর দম করিয়া তাহাকে খাওয়াইয়া দিবে।..."
- এইডা পড়। এগুলো করব ভাবছি... কিন্তু ঠিক নাকি ভুল বুঝতেছিনা।

আমি হাসতে হাসতে মরি, আগে ভাবতাম এগুলো অশিক্ষিতদের কাজ। কিন্তু একটা মেডিকেল স্টুডেন্ট হয়েও ও এসবে বিশ্বাস করে! আহা, প্রেমের জন্যে মানুষ কী-ই না করে!

আমি ফাজলামি করে বললাম, ' দোস্ত আমি ফেসবুকে এক তান্ত্রিক বাবার আইডি পাইছি। ওনার নাম্বার জোগাড় কইরা দিমু নাকি তোরে?'
ও হেসে বলল, 'আমি আরবি বিশ্বাস করি। তান্ত্রিক ভন্ড। তোরে যে ছবি দিছি ঐটা দেখ, দেখে বল এগুলো ঠিক কিনা। কাজ হয় এসবে?'
আমি বললাম, তাবিজ করা শিরক।
ও বলে , 'এইটা হাদিস এ দেওয়া! তাবিজ না। অনলি দোয়া পড়ে মিষ্টিতে ফুঁ দিয়ে খাওয়াবো।'
আমি অনেকবার বোঝানোর চেষ্টা করলাম। প্রেম করার ব্যাপারে, বশীকরণের ব্যাপারে ইসলাম কী বলে সেটা বোঝালাম, কাজ হলো না। তারপর আমি আর তর্কে গেলাম না। ওকে না পেলে নাকি ও জীবনেও বিয়ে করবেনা।

ও বলে চলল, 'তিনটা কাজ করবো- মিষ্টি খাওয়াবো, রাতে জাফরান দিয়ে দোয়া লিখে পুড়াবো আরেকটা আরও কঠিন- চল্লিশ দিন দোয়া লিখে নদীতে ফেলতে হবে।'
আমি বিরক্ত হয়ে বললাম, 'আচ্ছা তুই এত পাগল হইছস ক্যান! তুই কি ওর থেকে কোনো অংশে কম? তোর ভাব দেখে তো মনে হইতেছে ও-ই তোরে কিছু খাওয়াইছে! নইলে তুই এত সুন্দরী, তোর কি ছেলের অভাব পড়ছে? তোরে নিশ্চই কিছু খাওয়াইছে।'

- কত কিছুই তো খাইছি। কী খাওয়াইছে জানিনাহ।

- কস কী!

- খাবো না ক্যান! একসাথে ঘুরতে গেলে খাওয়া হয়। চকলেট, ফুচকা, আচার...

আমি বললাম , 'খাইছে!'

বান্ধবী আবারো তাগাদা দিয়ে বলল, 'কোনো হুজুর থাকলে জেনে জানাইস। মিষ্টি তো খাওয়াবোই, আরও কী কী করলে ফল পাবো সেটা শুনিস। ২২ জানুয়ারি আমার বার্থডে। ঐদিন খাওয়াবো।'

আমি বললাম, 'আচ্ছা।'
মনে মনে বললাম , 'আহারে, বেচারা এখন বলির পাঠা!'


২.
দেখতে দেখতে চলে এল জানুয়ারির ২১ তারিখ...
রাতে নীলার সাথে আমার চ্যাট হচ্ছে,
- দোস্ত মিষ্টি তো রেডি! কাল সকালে নিয়ে গিয়ে ওকে খাওয়াবো। দোয়া করিস যেন কাজ হয়!
আমি আর কী বলব! শুভকামনা জানালাম।
সেদিন রাতের মতো কথা শেষ হলো।

পরদিন বিকেলে নীলার মেসেজ, 'মুনা সর্বনাশ হয়ে গেছে রে!'
জিজ্ঞেস করলাম, 'কী হইছে?'
নীলা একগাদা কান্নার ইমো দিয়ে বলল - সকালে ওর সাথে দেখা করতে গেলাম, সব ঠিকঠাকমতোই এগোচ্ছিলো। আমি ওরে মিষ্টি খেতে দিলাম, তখনই এক টোকাই পিচ্চিছেলে এসে ওর জামা ধরে টান দিয়ে বলল, 'ভাইজান, মিষ্টি খামু। দুইদিন ধইরা কিছু খাইনাই ভাইজান...'
- হায় হায়! তারপর?
- আমি রাজিবকে বললাম, 'ওকে টাকা দিয়ে দাও কিনে খাবে।' রাজিব বলল, 'বাচ্চাটা দুইদিন না খেয়ে আছে... মিষ্টি খেতে চাচ্ছে দেই না!' আমি আবার মানা করতে গেলাম আমার কথা শুনলো না...। মিষ্টি ঐ পিচ্চিটা খেয়ে ফেলছে রে!

শুনে আমি বাকরুদ্ধ! হাহা রিয়্যাক্ট দিব নাকি স্যাড রিয়্যাক্ট দিব বুঝতে পারলাম না!
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ দুপুর ২:৫৭
৭টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রামের বন্যায় আক্রান্তদের জন্য আমরা কি কিছু করতে পারি?

লিখেছেন সৈয়দ তাজুল ইসলাম, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ ভোর ৪:০৭


সম্মানিত ব্লগার,
বাংলাদেশের সবরকমের দুর্যোগ মোকাবেলায় আমাদের ব্লগারদের বিশেষ অবদান রয়েছে। দুর্যোগে আক্রান্তদের সহযোগিতায় আমাদের সামু ব্লগারেরা সবসময়ই এগিয়ে এসেছেন। সেই ধারাবাহিকতা রক্ষার জন্য আমি অনুরোধ করছি না। আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট : প্রত্যাশা, বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জ একটি বিশ্লেষণধর্মী পর্যালোচনা

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ৭:৪১


বাংলাদেশের ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট শুধু একটি বার্ষিক আয়-ব্যয়ের হিসাব নয়; এটি নতুন সরকারের অর্থনৈতিক দর্শন, উন্নয়ন কৌশল এবং আগামী কয়েক বছরের অর্থনৈতিক রূপরেখার একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল। নতুন সরকারের... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য লাস্ট সাপার

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ সকাল ১০:৩৩



কক্সবাজার ডিবি কার্যালয়ের শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিশেষ কক্ষ। টেবিলজুড়ে সাজানো নামী রেস্তোরাঁ থেকে আনা রূপচাঁদা ফ্রাই আর কোরাল মাছের দো পেঁয়াজা। টেবিলের একপাশে বসা এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফান্দে পড়িয়া বগা কান্দে রে

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৩:৩৪


আব্বাসউদ্দীন আহমদের কণ্ঠে ভাওয়াইয়ার সেই কালজয়ী সুরটা আজকাল ঘনঘন খুব মনে পড়ছে-

... ...বাকিটুকু পড়ুন

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত!

লিখেছেন সাহাদাত উদরাজী, ১১ ই জুলাই, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭

সরকারের যে কোন বড় সিধান্ত গুলো কেমন হওয়া উচিত! বহুবার বলেছি, যারা আমার সাথে আছেন তারা নিশ্চয় দেখেছেন। সরকার যে কোন সিধান্ত দেবার আগে তার হাতে গবেষণা পত্র (কোন শিক্ষক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×