ছোটবেলা যখন স্কুলে পড়তাম তখন হরতাল হলে খুব খুশি হতাম.. স্কুলে যেতে হবে না.. কি মজা কি মজা.. (বুঝতেই পারছেন কেমন ফাকিবাজ ছাত্র ছিলাম...
... সেই দিন অনেক আগেই পার হয়ে গিয়েছে... ভাল মন্দ বুঝতে শিখেছি... এখন আর হরতাল হলে খুশি হই না.. হরতাল মানে একটি দিনের অপচয়... অনেক কাজ পেন্ডিং হয়ে যাওয়া... কিন্তু আমাদের নেতা নেত্রীরা মনে হয় এখনো স্কুল জীবনেই আছে.. মানে তাদের বুদ্ধি শুদ্ধি এখনো স্কুল পড়ুয়া শিশু কিশোরদের পর্যায়ে রয়ে গিয়েছে... দেখছেন না কি মহা উৎসাহে হরতাল এর ডাক দিচ্ছেন ও পালন করছেন... আর আমাদের কিছু বুদ্ধিজীবি নামক পরগাছা তাদের সাফাই গাচ্ছেন। তারাও মনে হয় আমার মত ফাকিবাজ ছাত্র ছিলেন.. তবে আমি ফাকিবাজি ছেড়ে দিয়ে ভাল হয়ে স্কুল জীবনটা পার করে এখন কিছুটা হলেও বুদ্ধিমান হয়েছি.. কিন্তু তাদের আর তা হয়ে উঠেনি...এখনো ফাকিবাজিটা (নিজের সাথে না দেশের সাথে??) জিনের মধ্যে রয়ে গিয়েছে। যাই হোক.. তাদের সংখ্যা কম নয়..তাদের সাপোর্টারও কম নয় (আজকে ঘর থেকে বের হতে হলে একটু চিন্তা করে বের হতে হবে... আমাকে রাস্তায় ধরতে পারলে বিনা ভাড়ায় হাসপাতাল পর্যন্ত পৌছে দিতে পারেন.. )... কিন্তু আমরা যারা নিরীহ জনগন.. আমাদের পক্ষে বলার মত কেউ নেই.. অনেকে ভাবতে পারেন সরকারীদল তো আমাদের সাথে রয়েছেন.. তারা হরতালের বিপক্ষে বলছেন.. একদম ভুল... সরকারী দলকে বিরোধী দল বানিয়ে দেখুন তারাও দ্্বিগুন উৎসাহে হরতাল এর ডাক দিবেন। তাহলে আমাদের উপায় কি?? আমাদের কি হবে?? কিছুই না... আমরা বসে বসে এখন 30 বছর আগে কে রাজাকার ছিল... কার বউ কার সাথে হোটেলে ছিল... কার ছেলে কোন মেজরের বউকে নিয়ে টানা টানি করেছিলেন এইসব নিয়ে গবেষনা করব। দেশ গোল্লায় যাচ্ছে যাক না.. আমার কি? আমরা প্রগতিশীল মানুষ... দেশ নিয়ে চিন্তা করলে চলে? তারচেয়ে নিজের পকেটের কথা চিন্তা করি... কি বললে বিদেশী প্রভুরা খুশি হবেন.. কি বললে অমুক নেতা খুশি হয়ে আমাকে একটি চাকরির ব্যাবস্থা করে দিতে পারেন সেসব বলি... তাই বলছিলাম.. আসুন হরতাল পালন করি.. ওদের সাফাই গাই...... আর 30 বছর আগে কে রাজাকার ছিল কে মুক্তিযোদ্ধা ছিল... জিয়া কে কি শহীদ বলা যায় কি যায় না এসব নিয়ে গবেষনা করি।
সত্যি সেলুকাস.. কি বিচিত্র এদেশ.. কি বিচিত্র এদেশের মানুষ।।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১০ রাত ২:৩৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



