
খুব ভালো ভাবে লক্ষ্য করলে দেখা যায় রাতের বেলায় কিছু কিছু প্রানীর চোখ রাতের বেলায় অন্ধকারে জ্বল জ্বল করে।আসুন জানার চেস্টা করি কেন এমন হয়।দিনের বেলায় ভালো ভাবে লক্ষ্য করলে দেখতে পাবেন,বিড়াল তার চোখ ছোট করে নিয়েছে।একই সাথে চোখের তারারন্ধ ও ছোট করে ফেলে যাতে করে চোখের ভিতরে বেশী আলো ঢুকতে না পারে।


এর কারন হলো-বিড়ালের অক্ষিপটে দুরকমের কোষ আছে- কোন আর রড কোষ।তবে এর মধ্যে কোনের চেয়ে রড কোষের সংখ্যা বেশী থাকে।এর মধ্যে কোন কোষ বেশী আলোতে দেখতে সাহায্যে করে আর রড কোষ কম আলোতে দেখতে সাহায্যে করে।অক্ষিপট হলো রড ও কোন কোষ দিয়ে তৈরী,চোখের ভিতরকার একটা পর্দা।বাইরে থেকে তারারন্ধ দিয়ে আলো ঢুকে অক্ষিপটে বাইরের বস্তুর ছবি তুলে ধরে।

বিড়ালের চোখে অক্ষিপটের পিছনেই একটা স্তর থাকে।এই স্তরটিকে ট্যাপেটাম লুসিডাম বলে।এক ধরনের কেলাস দিয়ে এই স্তর তৈরী।কেলাসে আলো পড়লে তা নানা দিকে ছড়িয়ে পড়ে।ঠিক তেমনি ভাবেই বাইরের আলো এই কেলাসের স্তরে পড়ে বিভিন্ন দিকে ছড়িয়ে যায় এবং আলো নানা দিকে প্রতিফলিত হয়।

রাতকে আমরা যতই অন্ধকার বলি না কেন অন্ধকারেই অল্পবিস্তর আলো থাকে।তাই অন্ধকার যতই ঘন হোক না কেন তা একেবারে অন্ধ করে দেয় না।বিড়ালের চোখের অক্ষিপটে রড কোষের সংখ্যা বেশী থাকার জন্য বিড়াল অন্ধকারে ভালো দেখতে পায়। রাতের অন্ধকারে বিড়াল তার চোখের তারারন্ধকে পুরোটা খুলে রাখে,যাতে বাইরের সবটা আলোই চোখের ভিতরে ঢুকতে পারে।

এই আলো তারারন্ধ দিয়ে ট্যাপেটাম লুসিডাম থেকে প্রতিফলিত হয়ে চোখের ভেতরে চারিদিকে ছড়িয়ে পড়ে।আলোক রশ্নি চোখের ভেতরে ছড়িয়ে পড়ার জন্য চোখের ভিতরটা আলোকিত হয়ে ওঠে আর অক্ষিপটেও বাইরের বস্তুর স্পস্ট প্রতিচ্ছবি গঠিত হয়।


প্রতিফলিত আলোয় চোখের ভেতরটা উজ্বল হওয়ার জন্যই অন্ধকারে বাইরে থেকে দেখলে বিড়ালের চোখের ভেতরটা জ্বলছে বলে মনে হয়।এমনি ভাবে কুকুর,শিয়ালের চোখও রাতের বেলায় জ্বলে।

ছবি গুগল-

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

