লিকলিকে চেহারা, পরিপাটি চুল, নগ্ন পা। আর চেহারায় মলিনতার ছাপ।
বাস চলে আসে। তাকে যেতে হবে। কিন্তু কি ভেবে মেয়েটির পিছে এগিয়ে গেলাম। ডাক দিয়ে জিজ্ঞাসা করলাম নাম কি তোমার ?
- রিয়া।
সবাই চকলেট কিনে তুমার কাজ থেকে ?
- সবাই কিনে না ভাইয়া।
কত টাকা পাও দিনে ?
- ৫০০ টাকা থেকে ৬০০ টাকা ।
বাবা অসুস্থ্য বাসে বাসে চকলেট বিক্রি করে দিনে যা আয় থাকে তা দিয়ে বাবার চিকিৎসা সংসারের খরচ চালাতে হয় রিয়াকে ।
বাসে কোন সমস্যা হয়না ? হয়না আবার, কেউ গায়ে হাত দিয়ে কথা বলতে চায়,আবার কেউ ইচ্ছে করে শরীরে ধাক্কা দেয় । অনেকে খারাপ কথা বলে, আবার অনেকে খারাপ প্রস্তাব দেয়। মেয়েটির প্রশ্ন ,অনেক মেয়েরাই নিজের ইজ্জত বিক্রি করে ইনকাম করে,। কিন্তু ভাইয়া,আমিত খারাপ কাজ করিনা, সারাদিন বাসে বাসে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে সৎ পথে ব্যাবসা করি ।
তাহলে আমাকে পুরুষদের কাজ থেকে এত জঘন্য জঘন্য আচরন,কথা শুনতে হয় কেন?
আমি তার প্রশ্নের উত্তর দিতে পারিনি।
মনটা খারাপ হয়ে গেল, তার অনুমুতি নিয়ে একটা ছবি তুললাম। সে দ্রত একটি বাসে উঠে গেল খাবারের সন্ধানে ।
বাসে চকলেট বিক্রি করে এমন শতশত রিয়ারা আজ এই স্বাধীন দেশের প্রত্যেকটি রাজপথে মাখনের মত ক্ষুদে ক্ষুদে নগ্ন পায়ে সংগ্রামরত এক মুঠো খাবারের আশায়। যেখানে উদরভর্তি একবেলা খাবার পায় না, জোটে না ঘুমানোর জন্য নরম বিছানা সেখানে শিক্ষা দীক্ষার কথা না হয় বাদই থাকলো ! এ দেশের লক্ষ লক্ষ দরিদ্র মানুষেরা। আজ ২০১৫ সালে ৪৪ বছরের পূর্ণবয়স্ক স্বাধীন বাংলাদেশেও এদের দেখা যায় রাজপথে, স্টেশনে। এই শহরের ওলিতে গলিতে। কখনো এই শিশুরা ভিক্ষারত, কখনো বস্তা কাধে টোকাইরত আর কখনো বা ডাস্টবিনে কুকুরের সাথে খাবার সংগ্রহে প্রতিযোগিতায় ব্যস্ত।
আমারা যখন আমাদের শক্তি হারিয়ে ফেলি তখন এদের দেখলেই যেনো মনে কোথা থেকে অন্তরে নতুন এক শক্তির জন্ম নেয় ।এটাই কি অনুপ্রেরণার শক্তি !!!
ছবিটি আজ টঙ্গী ষ্টেশন রোড এলাকা থেকে তোলা।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


