somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবে ফিরবে তুমি (পর্ব ৩)

১১ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

(দ্বিতীয় পর্বের পর)....চারদিন পার হয়ে যায়।এরিক মোবাইল ট্র্যাক করে মামাকে খুঁজে পায়না।সর্বশেষ লোকেশন দেখায় কয়েম্বাটুর।এরপর আর কোন খোঁজ নেই।আরও চারদিন পার হয়ে যায়।হঠাৎফোন দেয় জাহিদ। বলে, আমি মাদুরাই যাচ্ছি।শেলী জিজ্ঞেস করে, ‘এটা কোথায়?’ জাহিদ বলে,‘আরও দক্ষিনে।’
ব্যাস এতোটুকু।জাহিদ ফোন কেটে দেয়।এরিক অবাক হয়ে দেখে যে নাম্বার থেকে জাহিদ কল দিয়েছিল তা হচ্ছে 000000 বা ছয়টা শূন্য।কল আসার কথা ছিল ভারতীয় নাম্বার থেকে।অথচ এমন একটা সংখ্যা আসলো যেটা অবিশ্বাস্য।এরিক ভাবলো নিশ্চয় এটা কোন ইন্টারনেট কল ছিল।তারপরও খচখচানিটা মনের মধ্যে রয়ে গেল তার।
শেলী অপেক্ষা করে জাহিদ কখন কল দেবে।জাহিদ ফোন দেয়না।এক দিন দুইদিন করে ছয় দিন কেটে যায়।এরিক বারবার ট্র্যাক করার চেষ্টা করে।কিন্তু লাভ হয়না।মাদুরাই নামের অঞ্চলকে শো করেনা ডিভাইস।আট দিন, দশ দিন, বারো দিন পর ফোন দেয় জাহিদ।বলে মাদুরাইয়ের ডাক্তারগুলো ভালোনা।সে চেন্নাই যাচ্ছে।ওখানে ভালো কিছু হাসপাতাল আছে।সেখানকার ডাক্তারদের সাথে কথা হয়েছে ফোনে।তারা বলেছে কিছু ওষুধ দিলেই সেরে যাবে তার সব সমস্যা।শেলী প্রায় কেঁদে ফেলে।বলে,‘তোমার চিকিৎসার দরকার নেই।আমি তোমার চিকিৎসা ঢাকাতেই করাবো।তুমি চলে এস।’
‘এখন আর আসা সম্ভব নয়।’জাহিদ বলে।‘অনেক টাকা পয়সা চলে গেছে।আমি এখানেই চিকিৎসা করিয়ে ফিরবো।’
‘কিন্তু তোমার মোবাইল কোথায়?মোবাইল কি তুমি কোথাও রেখে এসেছো? তোমাকে দেখা যাচ্ছেনা কেন?’ শেলী বেশ উৎকন্ঠার সাথে জিজ্ঞেস করে।
জাহিদ ফোন রেখে দেয়।এরিক দিনের পর দিন ট্র্যাক করার চেষ্টা করে।বিফল হয়।শেষ লোকেশন কয়েম্বাটুরই দেখায় বারবার।জাহিদ এবার দীর্ঘসময় ফোন দেয়না।সবার ভেতর উৎকন্ঠা ছড়িয়ে পড়ে।শেলী মুষড়ে পড়েছে একেবারে।মানুষের একটা ধৈর্য্ভসীমা আছে।এর বাইরে যখন কোনকিছু চলে যায় সে অস্থির হয়ে যায়।ষোল দিন পর জাহিদ সেই একই নাম্বার 000000 থেকে ফোন দেয়।শেলী প্রায় চিৎকার করে জিজ্ঞেস করে,‘তুমি কোথায়?’
জাহিদ বলে,‘আমি চেন্নাই থেকে বিশাখাপট্টম যাচ্ছি।সেটা বেশ স্বাস্থকর জায়গা।ওখানে গেলে এমনিই রোগ সেরে যাবে।কোন অপারেশন লাগবেনা।’
‘কেন, চেন্নাইতে কি হয়েছে? এতোদিন কোথায় ছিলে?’শেলী উদগ্রীব হয়ে ওঠে।‘প্লিজ তুমি ফিরে এস।বাচ্চারা প্রতিদিন কান্নাকাটি করছে তোমার জন্য।’
‘এখন আর আসা সম্ভব নয় শেলী।’ জাহিদ দুর্বল গলায় বলে।‘এইতো কিছুক্ষন পর বিশাখাপট্টম ট্রেন থামবে।ফোন দিতে দেরী হলে চিন্তা করোনা।’
ফোন রেখে দেয় জাহিদ। শেলী দেশে ফিরে যাবার সিদ্ধান্ত নেয় কারন তার বাচ্চাগুলো তাকে না দেখে একেবারে মুষড়ে পড়েছে।দেড় মাসের বেশী সময় সে ঢাকাতে আছে।এই সময়ে জাহিদের ভাই আর ভাবী বাচ্চাগুলোকে তদারকি করছিল।তারা আর কতদিন এই বাচ্চাগুলোকে দেখেশুনে রাখবে?তাদের নিজেদেরও তো সংসার আছে।
শেলী দেশে ফিরে যায়।জাহিদ আর কোন ফোন দেয়না।ধীরে ধীরে উদ্বিগ্নতা কমে আসে সবার।কারন সবাই ব্যস্ত এই দুনিয়াতে।সবাই সবার পেটের দায়ে সকাল সন্ধ্যা পরিশ্রম করছে।কে কার খবর রাখতে পারে দীর্ঘসময় ধরে? এরমধ্যে জাহিদ আর ফোন দেয়না।একমাস পরে শেলী আবার ঢাকায় আসে তার বাচ্চাকাচ্চা নিয়ে। উদ্বিগ্ন হয়ে স্বামীর খবর জানতে চায় শাহানার কাছে।শাহানা জানায় এর মধ্যে জাহিদ তাকে কোন ফোন দেয়নি।শুনে কান্না শুরু করে শেলী।ও ভেবেছিল শাহানা বুঝি তার কোন খবর জানে।
ঠিক যেদিন শেলী ঢাকায় এল সেদিন রাতে ফোন দেয় জাহিদ সেই 000000 নাম্বার থেকে।বলে,‘আমি বিশাখাপট্টম থেকে মুম্বাই এসেছি।অনেকদিন ইচ্ছা ছিল জুহু বিচ দেখার।অনেক ইচ্ছা ছিল শাহরুখ খানের বাড়ি মান্নত দেখার।তাই শখগুলো পূর্ন করছি।’
শেলী কাঁদতে কাঁদতে বললো,‘তুমি তো তোমার শখগুলো পুরন করছো।তুমি জানো আমরা কি অবস্থায় আছি?আমরা বলতে গেলে না খেয়ে আছি।দোকানটার সব মাল তুমি বিক্রি করে দিয়ে গেছ।বাড়িতে কোন টাকা নেই।আমরা কি করবো?বাচ্চাগুলোর মুখের দিকে তুমি তাকালেনা।গেলে চিকিৎসার নাম করে এখন ঘুরে বেড়াচ্ছো সারা ইন্ডিয়াতে।’
লাইন কেটে দেয় জাহিদ।..(চলবে....শেষাংশ খানিক পরই প্রকাশিত হবে।)
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই মার্চ, ২০২০ বিকাল ৩:৩৯
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

একাত্তর বাঙালির অভিজ্ঞতা এবং গর্জিয়াস প্রকাশনা উৎসব

লিখেছেন রোকসানা লেইস, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:১৭


পহেলা মে বিকেলে একটি আমন্ত্রণ ছিল। অনুষ্ঠানটি ছিল বই প্রকাশনার। এই আয়োজনটি শুরু হয়েছিল বলা যায় এক বছর আগে। যখন একটি লেখা দেওয়ার আমন্ত্রণ এসেছিল। লেখাটি ছিল বিদেশের জীবনযাপনের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৯ ই মে, ২০২৬ দুপুর ১:৪৪



কথা হচ্ছিলো একজন আর্ট সমঝদার মানুষের সাথে। তিনি আক্ষেপ করে বলছিলেন, জীবিতবস্থায় আমাদের দেশে আর্টিস্টদের দাম দেওয়া হয় না। আমাদের দেশের নামকরা অনেক চিত্র শিল্পী ছিলেন, যারা জীবিতবস্থায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ মারা যাবার পর আবার পৃথিবীতে আসবে?

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১০



আমার মনে হয়, আমরা শেষ জামানায় পৌছে গেছি।
পুরো পৃথিবী ধ্বংস হয়ে যাবে খুব শ্রীঘই। চারিদিকে অনাচার হচ্ছে। মানুষের শরম লজ্জা নাই হয়ে গেছে। পতিতারা সামনে এসে, সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×