somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ট্রেন...,,,....,,,,....,,,,,!

১৫ ই জুন, ২০০৯ দুপুর ২:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শুয়ে শুয়ে ট্রেনে চট্রগ্রামে যাবার সময়ের কথা ভাবছিলাম কেন জানি। আমি যেতাম রাতের ট্রেনে। সবসময় টিকেট কাটতাম জানালার পাশে এবং সবসময়ই বেরসিক সহযাত্রী আমাকে জানালা খুলতে দিত না! দুইবার গিয়েছি দুইবারই একই ঘটনা! একদম খুব সকালে সূর্য ওঠার অনেক আগে ট্রেন চট্রগ্রামের সীমান্তে ঢুকে যেত। শীতের সকালে সব কুয়াশায় ঢাকা থাকত। হঠাৎ করে পাহাড় আসা শুরু করত। সবুজ সাদা পাহাড় গুলো দূরে দূরে দেখা যেত...আর কুমারী সূর্য(বেশি কাব্যিক হয়ে গেলেও কিছু করার নাই...এরকমই)। ঘুম ঘুম চোখে তাকিয়ে থাকতাম। কিছুখন পর পর কুয়াশায় কাঁচ ঘোলা হয়ে গেলে হাত দিয়ে মুছে নিতাম। তারপর এসে নামতাম চট্রগ্রাম স্টেশনে। নেমে কিছুখন হাটতে পারতাম না আর এত শীত লাগত!! চট্রগ্রামে আমার একেবারেই কেউ নেই। কোন আত্মীয় স্বজন বা বন্ধু যার বাড়িতে ওঠা যায়। কোন পথ-ঘাট কিচ্ছু চিনি না। আমি উঠতাম চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ভাইয়ের কাছে যাকে কি না আমি কখনোই চিনতাম না! সে আমার ভাইয়ের বন্ধুর ছোট ভাইয়ের বন্ধু !!! সেই ভাইয়ের মাধ্যমেই আমি তার কাছে থাকতাম। চমৎকার একটা ছেলে। চট্রগ্রাম স্টেশন থেকেই আরেকটা ট্রেনে উঠতে হয়। শাটল ট্রেন। যেটা শুধু চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে যায় আসে। সেখানে পৌছে সুমন ভাইকে ফোন দিতাম। সে তার কটেজে আমাকে থাকতে দিত। কটেজ শব্দটা একটা বড় ধরণের রসিকতা। সে যাক। না দেখালে বুঝবি না। চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়টা আর যার জন্যই হোক দেখার জন্য একটা দারুন ভার্সিটি। আর যদি খুব কাছের বন্ধূদের নিয়ে একসাথে ভর্তি হওয়া যায় আমার মনেহয় স্বর্গ টর্গে ঢুকে যাবি। একেবারে শহরের বাইরে। বাইরের কোন কিছু নাই শুধু ভার্সিটি। মনেহয় একটা দ্বীপদেশ!! গভীর রাতে একা একা ঘুরতাম। আসলে আমি যে দুবার গেছি একা একাই যেতে হয়েছে। ট্রেনে গেলে সবসময়ই মনে হয়েছে সাথে কেউ থাকলে খুব ভাল হত।

আমি ঘরের হইনি বাহির আমায় টানে
আমি তোমার হইনি শুধূ আকাশটা জানে
আমি পথ থেকে পথে যাই দূর থেকে দূরে
আমি তোমায় ভুলে বল যাব কোনখানে?
তাই তোমার হই নি আকাশটা জানে.......


আসার সময় মনে হল লোকাল ট্রেনে আসি। টাকাও কম লাগবে একটা অভিজ্ঞতায় হবে। হ্যা, অভিজ্ঞতা হয়েছিল। যা আসলেই বলে বোঝানো যাবে না। আমি খুব সহজে যে কোন পরিস্থিতি মানিয়ে নিতে পারি অন্তত চেষ্টা করি। সে আমাকে আমি দেখছিলাম করুনার দৃষ্টিতে! একটা বগি..যার কোন বাতি নাই(আসলে আছে তবে তা শুধু ট্রেন চললেই জ্বলে আর তার পাওয়ার ষাট পাওয়ারের একটা বাতির সমানও না।) আমি বসে(?) ছিলাম ট্রেনের মেঝের এক কোণায়। তবু ভাগ্য ভাল বলতে হবে অতটুকু জায়গা পেয়েছিলাম। পা মেলার এতটুকু জায়গা নেই। একটু নড়লেই চারপাশের অভ্যস্ত কিছু দরিদ্র হতভাগ্য মানুষ চরম বিরক্তি নিয়ে তাকায়। একজন গায়ে জুতা লাগিয়ে নির্বিঘ্নে ঘুমাতে লাগল! যা হোক, স্রষ্টা আরো দেখানো বাকি ছিল। যে আমি বিলাসিতা করে জানালার পাশের টিকেট কেটে সুখ বাতাস লাগাতে লাগাতে যেতে চাইতাম সে আমি যেখানে বসেছিলাম সেখানে ছিল কপাটবিহীন একটা জানালা....হু হু করে শীতের রাতের বাতাস আসছিল। তার মধ্যে দিয়েই শরীরে কোন রকমে একটা চাদর পেচিয়ে আর সবার সাথে সিগেরট ফুকতে ফুকতে প্রচন্ড শব্দের মধ্যে দিয়ে(মেঝেতে বসেছিলাম বলে এত শব্দ ছিল) আসছিলাম। একসময় আমার এমন অবস্থা হয়েছিল যে কাঁদতে ইচ্ছে হচ্ছিল। তার অনেক পর যখন এভাবেই যেতে হবে বলে নিজেকে মানিয়ে নিচ্ছিলাম তখন দেখলাম দু একটা সিট খালি হচ্ছে..এবং তাড়াতাড়ি ভরেও যাচ্ছে। একটা সিটে দু'জন বসা(তিনজন খুব কষ্টে সে সিট এ বসা যায়...এবং সব সিটেই তিনজন) দেখে জিজ্ঞেস করলাম বসা যাবে কিনা। তারা খুব সানন্দে বলল বসেন! বসতে গেলেই বিপরীত দিকের সিটে বসে থাকা পুলিশ বলল বসা যাবে না...এরা আসামী!! বেচারা আসামীও খুব দুঃখ পেল!! এই হচ্ছে অবস্থা! তারপর শেষমেশ একটা সিট পেয়েছিলাম। এবং বাকি পথ ওটার উপর বসে দুঃস্বপ্নের মতো চলে আসলাম!! একেবারে শেষে যখন ঢাকা পৌছলাম দেখি একটা লোককে কোন একসময় কিছু খাইয়ে অজ্ঞান করে তার সব নিয়ে গেছে।(আহা হতভাগা..এতবার বলা হয় বাইরের মানুষের খাবার না খেতে!!) আমার কাছে দামি ক্যামেরা, জিনিসপত্র ছিল! দারিদ্রতা কি তার কিছূটা বুঝেছিলাম সে দিন। নিজের ভাগ্যকে ধন্যবাদ দিচ্ছিলাম আমি অন্তত এ দলের মানুষ নই, আমি পাশেই থেমে থাকা টিকেট কাটা সুন্দর ট্রেনের মানুষ!!
সর্বশেষ এডিট : ১৫ ই জুন, ২০০৯ বিকাল ৩:০২
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

একজন বণিক, যিনি বদলে দিয়েছিলেন সমগ্র আরবের ইতিহাস

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৪৩


মরুভূমির মাঝে দাঁড়িয়ে পুরো আরবকে বদলে দেওয়ার স্বপ্ন দেতেন একজন মানুষ। শুনতে পাগলামি লাগে, তাই না? কিন্তু সেই মানুষটা যদি ছোটবেলা থেকে কাফেলায় কাজ করে থাকেন, যদি তিনি জানেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

কৃত্তিম বুদ্ধিমত্তা যেভাবে আব্বাসীদের জন্য হুমকি হয়ে আসছে- কী হবে খালেদ মহিউদ্দিনের?

লিখেছেন হিমন, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:৫০

হোমো ইরেক্টাসদের প্রায় বিশ লাখ বছর আগের আগুনের ব্যবহার থেকে শুরু করে ছয় হাজার বছর আগের চাকা আবিষ্কার, ১৮৩১ সালের বিদ্যুৎ, গত শতাব্দীর অ্যান্টিবায়োটিক, আর এই সেদিনের ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন—... ...বাকিটুকু পড়ুন

আসলে কেউ ফেরে না।

লিখেছেন রানার ব্লগ, ০৮ ই জুন, ২০২৬ সকাল ৭:০৬

মৃতরা ফিরে আসে না।
ফিরে আসে তাদের ফেলে যাওয়া শূন্যতা,
চায়ের কাপের ধোঁয়া,
অধেক বলা কোনো কথা
অথবা হঠাৎ থেমে যাওয়া কোন সুর

যে প্রেম চলে গিয়েছিল,
সে আর কোনোদিন দরজায় কড়া নাড়ে না।
শুধু একদিন আয়নায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য ড্রাগ কিং

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:১৫


সতর্কবার্তা: এটি একটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক ক্রাইম ফিকশন। বাস্তব একটি অপরাধের কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে পাঠকদের জন্য এর চরিত্র, নাম এবং স্থান পরিবর্তন করে গল্পটি সাজানো হয়েছে।

খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামুতে আবারও লিলিপুটিয়ানদের সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮

আমার গত পোস্টে আলামিন১০৪ নামের এক ব্লগার মন্তব্য করেছেন যে - "এ আই দিয়ে হুমায়ূন আহমেদের মতো লেখা যায়।"
তিনি এ আই-কে প্রম্পট দিয়েছিলেন ' হুমায়ুন আহমেদের মতো গল্প লিখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×