আমাদের গ্রামের বাড়ী চট্টগ্রামের সাতকানিয়া। এলাকায় জামাতের কিছুটা প্রভাব আছে। আর র্সবোতভাবে চট্টগ্রাম র্ধমপ্রাণ এলাকা।
এবার ঈদে মিলাদুন্নবীর দিন আমার মা, বড় ভাই এবং আমার সেজ জ্যাঠার ছেলে সবুজ ট্যাক্সি করে বাড়ী যাচ্ছেন। আম্মার মাঝে মাঝে এরকম বাতিক চাপে গ্রাম থেকে সবজি আনতে হবে, ফ্রেশ জিনিস। এই সব বাতিকের তো কোন জওয়াব নেই, ভাল বলছে ভাল। এবার যাচ্ছিলেন বোধহয় মিলাদুন্নবীর দিন কবর জেয়ারত করবেন তাই।
পথিমধ্যে আরাকান রোডে, দোহাজারির কাছা কাছি তখন দেখা গেলো মিলাদুন্নবীর বিশাল জশন আসছে। বিশাল মিছিল খান 500 লোক। ট্যাক্সি থামিয়ে ওরা অপেক্ষা করছে মিছিল পার হবার। এর মধ্যে কোন এক অর্বাচীন হাতের লাঠি দিয়ে ট্যাক্সিতে বাডি। এই বিষয়গুলি খুব হিস্টেরিক, জশনের মিছিল,জোশে আছে সবাই, আরো দুয়েকজন বাডি দিলো। আমার জেঠতুতো ভাই (ট্যাক্সিটা তার) বের হয়ে বললো কি ব্যাপার ট্যাক্সিতে মারেন কেন? আমার বড় ভাইও বের হয়ে আসলো, কথা কাটা কাটি শুরু হচ্ছে। ওরা অনেক লোক এসব বেয়াদবী সহ্য করবে কেন? ট্যাক্সির বদলে এবার দুচার ঘা দেওয়া শুরু করলো ভ্রাতৃদ্্বয়কে। পরিস্থিতি আওতার বাইরে যাওয়া মাত্রই, ফ্রেমে ঢুকে গেলেন আম্মা।
আম্মা যেখানে ঢুকেন সেখানে উনিই লাইম লাইটে থাকবেন, এটাই সত্য, গত 68 বছর ধরে।
একটা জ্বালাময়ী বক্তৃতা এবং শেষে ডায়ালগ
'' আমার ছেলেদের কেন মারতেছ, পারলে আগে আমাকে মার''।
এই যাত্রা ভায়েরা বেঁচে গেল শুধুমাত্র আম্মার ভীষণ সাহসের কারণে। এই একগাদা লোককে উনি বুঝিয়ে নিবৃত্ত করলেন কেমনে, আমি অবাক হই ।
দশটি ভূজে আছেন তিনি
দশ মাথার ই সমান জানি
রাবণতো নয়, দর্ূগা সমান
সব বিপদেই আস্থা প্রমান।
=======================================
7'ই জুন, 2006
বিকাল 5:56
কলাম্বিয়া।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


