The Last King of Scotland
ছবিটা দেখলাম। ফরেস্ট হুইটেকার অস্কার সম্ভবত পেয়েই যাবে। অসাধারণ এবং অনবদ্য অভিনয়।
নামটা শুনে একটু হোঁচট খেয়েছেন জানি। কিন্তু সবার জ্ঞাতার্থে বলি এই ছবিটা উগান্ডার একনায়ক ইদি আমিনকে নিয়ে। তার ব্যাক্তিগত চিকিৎসকের চোখে দেখা ইদি আমিন। তার মানে কিছু ইতিহাস, কিছু ছবির প্রয়োজনে তৈরি ঘটনা কিছু মিডিয়া প্রচারণা। তবে ইতিহাস বলে ইদি আমিন নিউরোসিফিলিস এ ভুগতো, ভীষণ আতংকে থাকতো সব সময় কেউ তাকে খুন করে ফেলবে এই ভয়ে, অস্থির এবং সর্বোপরি দুর্বল প্রশাসক। ধারণা করা হয় তার শাসনামলে(১৯৭১-৭৯) ৮০,০০০
থেকে ৩০০,০০০ লোক হত্যা করা হয়। বিভিন্ন সময়ে কেনিয়া, তানজানিয়াকে, সুদান দখলের হুমকি এবং ১৯৭২ সালে উগান্ডা থেকে সমস্ত এশিয়ানকে প্রত্যাহার। যার মূল অংশ ছিল গুজরাটি ইন্ডিয়ান।
ছবির নামকরণের শানে নূযুল আমিন নিজেই। ১৯৭৭ সালে গ্রেট ব্রিটেন , উগান্ডার সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার পর আমিন ঘোষনা দিলেন তিনি ব্রিটিশদের হারিয়ে দিয়েছেন এবং নিজের নামের সাথে একটা টাইটেল জুড়ে দিলেন CBE (Conqueror of the British Empire)। সেই সাথে নিজেকে King of Scotland ঘোষনা করলেন।
ইদি আমিন নিজে মনে করতেন তিনি যদি উগান্ডান না হতেন, তবে স্কটিশ হতেন। কারণ ব্রিটিশদের হারানোর জন্যই তার জন্ম। মজার ব্যাপার হচ্ছে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ও স্কটিশ এবং এই ফিল্মের ডাইরেক্টরও।
ছবির মূল আকর্ষনই ফরেস্ট হুইটেকারের অভিনয়। একজন রাষ্ট্রনায়কের পাগলামী, অসহায়ত্ব এবং তীব্রভাবে বিশ্বাসী মানুষ খুঁজবার চেষ্টা। প্রতিনিয়ত সন্দেহ এবং অবিশ্বাস। তরুণ স্কটিশ ডাক্তারের চোখে ইদি আমিন কে দেশের ত্রাতা মনে হতে থাকে, এবং এক পর্যায়ে আমিনের প্রধান উপদেষ্টায় পরিণত হয়। কিন্তু এক সময় আবিষ্কার করে সে আসলে বন্দী হয়ে গেছে এবং কখনোই আর এখান থেকে ফিরতে পারবে না। ১৯৭৬ এ ফ্লাইট ১৩৯, প্যালেস্টাইনিয়ানরা ছিনতাই করে কামপালা, এনটেব এয়ারপোর্ট এ ল্যান্ড করে আমিনের আমন্ত্রণে। সেই ফ্লাইটের ছেড়ে দেওয়া হোস্টেজদের সাথে পালিয়ে যায় স্কটিশ ডাক্তার।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


