বিশাল প্রাচীরটার মাথা জায়গায় জায়গায় ভাঙা। মাঝে চারকোনা একটা জানালা, সেটি দিয়ে অসম্ভব চমৎকার একটি আকাশ দেখা যায়। চারপাশ মৃদু আঁধারে ঢাকা, একটা কালো স্তম্ভ 'ব্ল্যাক অবিলিস্ক' উপন্যাসের চরিত্র হয়ে দাঁড়িয়ে আছে, মাঝের জানালায় একটা আধ খাওয়া চাঁদ নিয়ে ডানা মেলা মুক্ত আকাশ। চেয়ে থাকতে থাকতে চোখ ঝাপসা হয়ে আসছে অজান্তেই।
আমি বসে আছি রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে। চোখের অশ্রুনালীতে সামান্য সমস্যা না থাকলে কেঁদে ফেলতাম নিশ্চিত। এইখানে এ দেশের সবচে' মেধাবী মানুষগুলোকে নিষ্ঠুরভাবে খুন করা হয়েছে ভাবলেই...
পিশাচগুলো ভেবেছিল এ দেশটাকে অচল করে দিতে হলে দেশের অসম্ভব মেধাবী মানুষগুলোকে খুন করতে হবে। ঠান্ডা মাথায় নির্মম ভাবে তারা এই কাজটি শেষ করেছিল। আহ!
আগে কখনো খেয়াল করে দেখিনি। আজ বের হওয়ার সময় খেয়াল করে দেখলাম, এই বধ্যভূমির ভিত্তিপ্রস্তর খালেদা জিয়া স্হাপন করেছিলেন। আমার হঠাৎ পাগলের মত হা হা করে হেসে উঠতে ইচ্ছে করে। এই 'মানুষটি' আন্দোলনের নামে গত ক'দিনে ঠিক কতজনকে খুন করেছে তা কি সে জানে? আমি মানুষ শব্দটি লিখতে গিয়ে শিউরে শিউরে উঠেছি। অবাক হয়ে দেখলাম আমার গায়ের লোম দাঁড়িয়ে গেছে, সেটি পৌষের মৃদু বাতাসের ছোঁয়ায় নাকি এই ....টির নিষ্ঠুরতার কথা মনে করে আমি ঠিক জানি না। আমরা কি আসলেই সেই যুদ্ধের সময়টি পেরিয়ে এসেছি? গনতন্ত্রের নামে মানুষ খুন করার অধিকার এরা কই পেয়েছে? আমি আওয়ামিলীগ-বিএনপি করিনা। রাজনীতির কিছুই আমার মোটা মাথায় ঢোকে না। শুধু এটুকু বুঝি, কোন আন্দোলনের নামে আমার বাবা, মা, ভাই, আত্মীয় স্মজন, বন্ধু বান্ধবকে আমার কাছ থেকে কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারো নেই। আমি হাসিনা-খালেদার মত মহৎ নই। পুরো দেশের মানুষের কথা ভাবার মত বড় চিন্তাবিদও নই। অতি ক্ষুদ্র মানুষ এবং স্বার্থপরের মত শুধু আমার কথাই আমি ভেবেছি। আর কারো কথা জানি না, ককটেল বিস্ফোরণে আমার বাবার ছিন্ন বিচ্ছিন্ন দেহ চোখের সামনে ভেসে উঠলে আমি শিউরে উঠি। আমার বাবাকে খুন করে এ দেশে রাজনীতি করার অধিকার আমি কাউকে দেইনি। কাউকে না। অর্থমন্ত্রীর রুমে ঢুকে পড়া মানুষটির মতই আমিও নিজেকে এ দেশের মালিকদের একজন মনে করি।
প্রতিদিন রাস্তায় পড়ে থাকা মানুষগুলোর জন্য কখনও কি একটা সৌধ তৈরি হবে? কেউ কি এই মানুষগুলোর কথা মনে রাখবে? রাখবে না। আমরা সবাই আদর্শ নাগরিকের মত ভোট দিতে যাব। এদেরকেই আবারও ক্ষমতায় বসাব। এবং মহাসমারোহে এদেরকে নিয়ে লাফালাফি করতে থাকব।
নিজেকে আমার মাঝে মাঝে বড় ঘেন্না করতে ইচ্ছে করে। বড় ইচ্ছে করে।
সর্বশেষ এডিট : ২৪ শে ডিসেম্বর, ২০১৩ রাত ৮:৪৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




