somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিমন্ত্রন।

১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সকাল ৮:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘুম ভাঙ্গার পর থেকেই শরীর মন কেমন তেতু হয়ে আছে,আজ নীড়ার বিয়ে মন তেতু হবার সেটাও বোধয় একটা কারণ।

ঘুম ভাঙ্গলেও শুয়া থেকে উঠতে ইচ্ছা করছেনা।মজিদকে ডেকে চায়ের কথা বললেও হয়,কিন্তু সেটা সম্ভব না,মজিদ চা বানালে সেটাতে পিপড়া না হয় তেলাপোকা ভাসবেই ইচ্ছা করে দেয় কিনা কে জানে!!

নীড়া রুপবতী মেয়েদের একজন,এমন রুপবতী যার মাটিতে বাস করার কথা না পড়ীদের সাথে বাস করার কথা...হঠাৎ দেখলে মনে হবে ভুল করে সে মানব সমাজে চলে এসেছে।

নীড়া সারাক্ষণ ই এটা সেটা নিয়ে ব্যাস্ত থাকে,সেই ব্যাস্ততায় মাঝে মাঝে আমাকেও শরিক হতে হয়....অটিজমে আক্রান্ত শিশুদের পিছনে ওর দিনের অনেকটা সময়ই কেটে যায়।পাষাণ হৃদয় বাবার ঘরে এরকম কোমলমতী মেয়ে কিভাবে জন্মায় কে জানে!!

টয়লেট এর চাপে বিছানা থেকে উঠতেই হলো।ফ্রেশ হয়ে পানজাবী পড়তে গিয়ে দেখি সেটা ধোয়া হয়না বহু দিন,পায়জামার অবস্থাও করুন!

বাহিরে বের হওয়ার সময় মেস ম্যানেজার হাতে একটা চিঠি ধরিয়ে দিলেন।উনি একটু মাই ডিয়ার টাইপ মানুষ।কথা শুরু করলে আর শেষ করতে চান না।কিন্তু আজ অল্পতেই ছেড়ে দিলেন।

রাস্তায় বের হয়ে মনে হচ্ছে হুট করে বের হওয়া উচিৎ হয়নি।নিড়ার বিয়েতে যাওয়াটাও বোধয় উচিৎ হচ্ছেনা।কিন্তু ও এমন একজন যার কথা সহজে ফেলা যায়না।

রিক্সায় উঠে চিঠি খুলে পড়ার পর মনে হচ্ছে চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছিনা। চোখ আপনাতেই ঝাপসা হয়ে আসছে এই চাকরির জন্যে ইন্টারভিউ দিয়েছিলাম তিন মাস আগে।মাসে এত্তগুলা ইন্টারভিউ দেই যে কোনটা কখন দিছি সেটা আর মনে থাকেনা।খুশির সংবাদ দিয়ে যে দিনটা শুরু হয় সেই দিনটার শেষও নাকি হয় খুশির সংবাদ দিয়েই।কিন্তু কপাল আমার এমনই মন্দ আজই কিনা নিড়ার বিয়ে!!

নিড়ার সাথে কখনোই ততটা ঘনিষ্ঠ ছিলাম না....ও ডাকলে যেতাম....নীড়া হচ্ছে শুভ্র সুন্দর।যাকে দেখলে মনের সব পঙ্কিলতা দূর হয়ে যায়,যাকে নিয়ে সপ্ন দেখা যায় কিন্তু তা কেবল দূর থেকেই।একরাশ ভালবাসা নিয়ে নীড়ার দিকে তাকিয়ে থাকা যায় কিন্তু তা তাকে বুঝতে না দিয়ে।রুপবতী মেয়েদের মাঝে বুদ্ধির ব্যাপারটা খুব কমই থাকে কিন্তু নীড়ার মাঝে সেটা পুরো মাত্রাই বিদ্যমান ধরি মাছ না ছুই পানি টাইপ, সেই নিড়ার আজ বিয়ে!!

ওদের বাড়িতে পৌছে কিছুটা অবাকই হতে হল.....বিয়ে বাড়ির কোন আমেজ বা ছিটেফোটাও দেখা যাচ্ছেনা।কলিং বেল বাজাতেই নীড়া দরজা খুলে তার সেই বিখ্যাত হাসিটা দিল....এটাকেই বোধয় বলে জলতরঙ্গ হাসি...।

নীড়া আমাকে ওদের ড্রইং রুমে বসিয়ে ভিতরে চলে গেল।মাঝে মাঝে কাজের মেয়েটা এসে খুজ খবর নিচ্ছিল।বাসায় আর কোন প্রাণী আছে বলেও মনে হয়না.....বাসায় ঢোকার পর থেকেই অস্বস্থি লাগা শুরু হয়েছিল,সেটা কেবল উত্তর উত্তর বাড়তেই আছে।

ঠিক এক ঘন্টা সাইত্রিশ মিনিট পর নীড়ার দেখা পেলাম.....নীড়াকে বিয়ের সাঝে অপূর্ব লাগছিল।

ব্যাবলার মত তাকিয়ে না থেকে যা পড়ে আসছ ওইগুলা বদলাও....তোমার শরীর থেকেও তো নোংড়া গন্ধ বের হচ্ছে!!বাথরুমে গরম পানি জামা কাপড় দেয়া আছে,গোসল করে পড়ে আস বাসার সবাই কমিউনিটি সেন্টার এ চলে গেছেন....বর পক্ষ আসতে দেড়ী হবে তাই আমার
ও দেরী করে যাওয়া তুমি গোসল করে আস আমি মেঝু খালাকে ফোন দিয়েছি,তুমি গোসল করতে করতে উনি চলে আসবেন তখন একসাথে যাওয়া যাবে।

কি সহজে হয়ে গেল বলা/কাপলো না গলা/বের হলনা এতটুকু দীর্ঘশ্বাস-শামসুর রহমান যথার্তই লিখেছিলেন।কিন্তু আমি তো সবকিছু এত সহজে মেনে নিতে পারছিনা।

গোসল শেষে গা মোছার টাওয়েল এর ভাজ খুলতেই একটা চিঠি পেলাম।নীড়ার হাতের লেখা চিঠি.....

শফিক সাহেব...
কেমন আছো বল তো??তুমি মানুষটা এত্ত বোকা কেন!?বোকা বললাম বলে রাগ করলে না তো!!বোকা বলেই যেই আমি তোমাকে বললাম আমার বিয়ে,অমনি তুমি সেটা বিশ্বাস করলে!!তোমার মনে আছে কি!তোমাকে যখন আমার বিয়ের কথা বললাম তুমি আমাকে ঠিক মত বিদায় না দিয়েই চলে গেলে। প্রথমে ভেবেছিলাম রাগ করে চলে গেছ কিন্তু পিছন থেকে তাকিয়ে দেখি তুমি হাত দিয়ে অশ্রু মুছার চেষ্টা করছ!!

শফিক সাহেব তুমি কি জান আজকে বিয়েটা আমার তোমার সাথেই হচ্ছে!!তোমার এক ফোটা চোখের জল এর জন্যে আমি জনম জনম কাদিব।

সর্বশেষ এডিট : ২১ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৭:৩১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

লিখেছেন চারাগাছ, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:০০






সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।

পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১১:০২

পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০


অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।

আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০২

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:০২



আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×