somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

বিচিত্র পেশাঃ ৬ (ইসলাম ভাইয়ের বনাজী শরবত)

২৭ শে ডিসেম্বর, ২০১৪ দুপুর ২:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমার বড় ছেলেকে স্কুলে দিয়ে এবং নিয়ে আসতে যে পথ দিয়ে যেতে হয়, সেই পথের ধারেই ইসলাম ভাইয়ের বনাজী শরবতের দোকান। দোকান মানে বেশ জকিয়েই বসছেন আমাদের ইসলাম ভাই। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজী ইসলাম ভাইকে আমি অনেক দিন ধরে দেখে আসলেও কখনো কথা হত না। একদিন সন্ধ্যায় সেই পথ দিয়ে বাসায় হেঁটে আসতে ভাবলাম, ইসলাম ভাইয়ের সাথে আজ কথা বলি!


কিশোর গঞ্জ থেকে ভাগ্যের টানে এই ঢাকা শহরে এসেছিলেন একদিন। মোটামুটি নানান কাজ করেছেন এবং এক সময়ে একটা গ্রোসারী দোকান করতে পেরেছিলেন কিন্তু জীবন সঠিক ভাবনায় চলে না। বাড়ীওয়ালা সেই গ্রোসারীর এডভান্স এবং ভাড়া বাড়াতে ইসলাম ভাই সেটা আর চালু রাখতে পারলেন না। বছর দেড় আগে বাধ্য হয়ে সেই দোকান বন্ধ করে লস দিয়ে রাস্তায় নেমে পড়লেন। এমনি সময়ে মাথায় আইডিয়া এল, খুব কম পুঁজিতে কি করে কিছু একটা করা যায়। খোঁজাখুঁজির এক সময়ে এই শরবতের ব্যাপারটা মাথায় এল। হাতে থাকা টাকা দিয়ে একটা চমৎকার ভ্যান বানিয়ে নিলেন, অনুষঙ্গিক প্রয়োজনীয় জিনিষ কিনে ফেললেন এবং কয়েকদিন ট্রেনিং নিলেন এক পেশাদার শরবত বিক্রেতার কাছে, সাথে কিছু বই পত্র পড়লেন এবং নেমে গেলেন এই মহৎ পেশায়। ইসলাম ভাই জানালেন, গাছ পালার উপরে এই দুনিয়াতে আর কি আছে। মানুষ সহ দুনিয়ার প্রায় সব প্রানীই তো গাছ পালার উপর নির্ভরশীল, গাছ থেকেই তো সব কিছু আসে।

ইসলাম ভাইয়ের এই ব্যবসার মেয়াদ প্রায় দেড় বছর এবং তিনি সাফল্য পেয়েছেন বলেই জানান এবং উপরোয়ালাকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন এখন ভাল আছেন। কোন কিছুতেই কোন ভেজাল নেই, নিজ হাতে গাছপালা, ফুল ফল কিনে নিয়ে আসেন এবং ফরমুলা বা কাষ্টমার চাহিদা মাফিক এই বনাজী শরবত বানিয়ে দেন। ফিল্টারের পরিস্কার পানি ব্যবহার করেন। আমি কখনো এমন বনাজী শরবত পান করি নাই শুনে মিষ্টভাষী ইসলাম ভাই বললেন, আপনার জন্য আমি নিজে পছন্দ করে এক গ্লাস শরবত বানিয়ে দিচ্ছি।


কম কথা বলা ইসলাম ভাই বললেন থেমে না যেয়ে এক টানে পান করে ফেলতে। না, আমি পারি নাই। এই গ্লাস শেষ করতে আমাকে তিন টান দিতে হয়েছে এবং শেষেও কিছু বাকী ছিল এবং সেটা হাতে ধরে ইসলাম ভাইয়ের সাথে কথা বলছিলাম। তিনি চিরতা চুবিয়ে রাখা একটা বোয়াম দেখিয়ে বললেন, এমন অনেক কাষ্টমার আসে যারা শুধু এলোভেরা এবং চিরতার এই রস মেশানো শরবত একটানে পান করে যায়। আমি আগ্রহ প্রকাশ করে বললাম, চিরতার নাম শুনেছি, অনেক তিতা, একটু দিন দেখি। ইসলাম ভাই কয়েক চামচ চিরতা আমার গ্লাসে মিশিয়ে দিলেন, আমি চেষ্টা করলাম, না সামান্য পান করতে পেরেছি, এই জন্মে এমন তিতা আর পান করি নাই।

আমি প্রায় ঘন্টা খানেক ছিলাম, ইসলাম ভাইয়ের সাথে। দেখছিলাম তার হাতের কৌশল, দারুণ। এত চমৎকার হাতের কাজ, ভালবাসা না থাকলে সম্ভব নয়। এই সময়ে তার অনেক কাষ্টমার দেখলাম, ঢাকা শহরের বাড়ীওয়ালা থেকে দারোয়ান, রিক্সাওয়ালা কে না খাচ্ছে! হা হা হা.।। ইসলাম ভাই বললেন, এই বনাজী শরবতে সত্যই শরীরের অনেক কাজ হয়। শরীরে ছোটখাট রোগ প্রবেশ করতে পারে না, ক্যালসিয়াম থেকে শুরু করে নানান খনিজ শরীরে কাজ করে। (যাই হোক, তিনি ভেজাল দিচ্ছেন না এবং কাষ্টমারের সামনেই যা বানিয়ে দিচ্ছেন, এটাও কম কিসে)

আমি ভাবছি, আরো অনেক দিন ইসলাম ভাইয়ের বনাজী শরবত পান করবো এবং তার নানান পদের শরবতের স্বাদ নিবো।

পেশা হিসাবে আমি এটাকেও বিচিত্র মনে করি এই জন্য যে, এটা সবার দারা সম্ভব নয় এবং এই পেশায় যে জ্ঞান থাকতে হয় সেটা অনেকেই অর্জন করতে পারবেন না। পাশাপাশি এটা একটা সৎ পেশা, খুব ভোরে উঠে নানান জায়গা থেকে নানান ভেজষ কিনে নিয়ে সেটা পরিস্কার পরিছন্ন করে ধুয়ে, সাজিয়ে বসা এবং নানান পদের ভেজষ কয়েকদিন বা কয়েক ঘন্টা পানিয়ে চুবিয়ে তার রস বের করা এবং তার গুনাগুন থাকা বস্থায় বিক্রি করা সহজ কাজ নয়।

আমি ইসলাম ভাইয়ের এই বনাজী শরবতের ব্যবসার সাফল্য কামনা করি। উপরোয়ালা উনাকে হাসি খুশি রাখুন।

বিদ্রঃ সাধারনত ১০ টাকা থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত এক গ্লাস শরবত বিক্রি হয়, কাষ্টমার ইচ্ছা হলে কাষ্টমাইজ করতে পারেন। চিনি ছাড়া না চিনি দিয়ে, এটা না ওটা, যেভাবেই কাষ্টমার চাইবেন!

বিচিত্র এই দেশ, বিচিত্র এই দেশের মানুষ, কত কি বিচিত্র পেশা! তবে সবই জীবিকার টানে!

(আসছি, আরো নানান বিচিত্র পেশা নিয়ে, আশা করি সাথে থাকবেন।)

বিচিত্র পেশাঃ ৫ (নুরু মিয়ার নেহারী রান্না)
http://www.somewhereinblog.net/blog/udraji/30001660
৯টি মন্তব্য ৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরো...

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:৫২

বাংলাদেশের জেন-জি ইন্ডিয়ার ককরোচ.....

বিপ্লবের লক্ষ্য কী- পরিবর্তন, নাকি প্রদর্শন?
বাংলাদেশে জেন-জি স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছে; কিন্তু প্রশ্ন- স্বৈরাচার গেছে, স্বৈরাচারী মানসিকতা কি গেছে?
যে তরুণ প্রজন্ম গণতন্ত্র, অধিকার ও মর্যাদার দাবিতে রাজপথ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রম্য: পর্নের সেকাল একাল!

লিখেছেন গেছো দাদা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৬

গুরুত্বপূর্ণ একটা টপিক নিয়ে অনেকদিন ধরে লিখব লিখব করছিলাম। সময় হচ্ছিল না। আজ এই গভীর রাতে মনে হলো, লিখেই ফেলি। কেন মনে হলো, সে আলাপে আর না যাই। টপিক হলো:... ...বাকিটুকু পড়ুন

দেশভাগ এবং ধর্ম- অধর্ম

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:২৪



শীতের শেষে সমস্ত গাছের পাতা ঝরে পড়ে।
তখন পাতা ছাড়া গাছ একদম রুগ্ন মনে হয়। শুকনো পাতা দিয়ে মাটির পথ ঢেকে যায়। সেই পথ দিয়ে কোনো পথিক হেটে গেলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

জিরো থেকে হিরো (মহাজগৎ সংক্রান্ত) - পর্ব-১

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৫০




কোন কিছুর অস্তিত্ববিহীন অসীম শূন্যে উদ্ভব ঘটেছে সকল বস্তু ও শক্তি উপাদানের। তাতে কোন স্থান না থাকায় উক্ত বস্তু ও শক্তি উপাদান সমূহ একে অপরের স্থান হয়েছে। সুতরাং... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×