somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

সাহাদাত উদরাজী
সাহাদাত উদরাজী'র আমন্ত্রণ! নানান বিষয়ে লিখি, নানান ব্লগে! নিজকে একজন প্রকৃত ব্লগার মনে করি! তবে রান্না ভালবাসি এবং প্রবাসে থাকার কারনে জীবনের অনেক বেশী অভিজ্ঞতা হয়েছে, যা প্রকাশ করেই ফেলি - 'গল্প ও রান্না' সাইটে! https://udrajirannaghor.wordpress.com/

অভিজ্ঞতা!

২৬ শে অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৩:২৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঘটনা ১ঃ
একটা অভিজ্ঞতার কথা না লিখলে চলে না। আমি প্রতিদিন মালিবাগ রেলগেইট থেকে অফিসের পথে রিক্সায় চলি, এখনাকার অনেক রিক্সাচালক আমাকে চিনেন, ফলে ভাড়া বলতেও হয় না, উনারা আমাকে দেখলেই হুডতুলে বলেন, চলেন! মোটামুটি ১০/১২ জনের সাথে এমনি পরিচয় হয়েছে, গত কয়েক সপ্তাহধরে (আমিও সময় আগে পিছে করছি) দেখি এখানে আরো অনেক রিক্সাচালক, পুরানোদের কাউকে না পেলে নূতনদের জিজ্ঞেস করতে হয়। আমি অবাক হয়ে খেয়াল করলাম, এই নূতন (আমার কাছে) চালকেরা ৪০/৫০টাকা ভাড়া চাইছেন, আমার মনে খটকা লাগে, আমি ৬০টাকাই বলে উঠে ভাড়া দেই, হেসে বলি কম চাইছেন কেন!

পথে গত কয়েকদিনে কয়েকজনের সাথে এভাবে কথা হল, কেন ভাড়া কম চাইছেন? প্রায় উত্তর হচ্ছে, এখন রিক্সা চড়ার লোক পাচ্ছেন না, ঘন্টা ধরে বসে আছেন, ভাড়া নেই, ফলে কম চাইছেন যেন ভাড়া মিস না হয়! আবার গতকয়েক দিনে এমন হয়েছে, অফিসের সামনে নেমে ১০০টাকার নোট দিলে, ৪০টাকা ফেরত দিতে পারছেন না, তখন প্রায় বেলা ১১টা। জানতে চাইলাম, সকাল থেকে ভাড়া পান নাই। গত দুই দুইজন জানালেন, আমিই নাকি তাদের প্রথম যাত্রী, সকাল থেকে আর ভাড়া পান নাই! আজকের জন ১০০টাকার নোট নিয়ে প্রায় ১০জন সামনে পড়া রিক্সাচালকে ভাংতির জন্য জিজ্ঞেস করলেন, কেহ দিতে পারলো না! পরে আমি জানতে চাইলাম, সকালে নাস্তা করেছেন, স্বলাজ হাসিতে বললেন, না! আমি উনাকে বাকী টাকায় নাস্তা করার জন্য বলে অফিসের দিকে চললাম!

গত পরশু বা তারো আগের দিন, পুরানো পরিচিত একজনের সাথে কথা হচ্ছিলো, তিনি জানালেন এখন ১ হাজার টাকা উঠাতে ১২ ঘন্টার বেশী রিক্সা চালাতে হচ্ছে, অনেকদিন তাও হয় না, আরো জানালেন, এত টানা রিক্সা চালানো সহজ নয়, শরীরে সায় দেয় না!

বুঝতে পারছি না, মাথা মাঝে মাঝেই আউলাইয়া যাচ্ছে!


ঘটনা ২
আমাদের টাকা কিভাবে শুন্য হচ্ছে, আসেন আমার নিজের উপর দিয়েই উদাহরণ দেই! ধরেন আমার মাসিক ইনকাম ৭০ হাজার টাকা ছিল বা হত, কিছু সঞ্চয় আছে। গত বছরও ইনকামের টাকা দিয়ে কোনমতে সংসার চালিয়ে পার পেয়ে যেতাম (আহমরি চলা একে বলে), সামান্য লাগলেও এদিক সেদিক থেকে তা ম্যানেজ করে ফেলতাম। এখন আর এই টাকা দিয়ে আগের মত সংসার চালানো সম্ভব না, এখন সব মিলিয়ে ৮০/৯০ হাজার টাকা লাগেই, বিশেষ করে আগের মত বাজার না করেও (হিসাব চাইয়েন না, আগের চেয়ে এখন অনেক কম খরচ করেও তাল পাই না), শিক্ষা খরচ, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও বাজার দ্বিগুন হয়েছে, এদিকে বরকতও গেছে মনে হয়! আবার মাসে ৫/১০ হাজারের একটা উটকা ঝামেলা আছেই, না বলার উপায় নেই, ঈদচাদ তো আছেই!

এখন বাস্তবতা হচ্ছে মাসে ৫০ হাজারের বেশি ইনকাম হচ্ছে না, কোন মাসে আরো কম (এটা মধ্য মানের ব্যবসাহীরা বুঝতে পারবে), তা হলে বাকী টাকা কোথায় পাচ্ছি! হ্যাঁ, লজ্জায় কাউকে কিছু না বলে সঞ্চয় ভেঙ্গে ফেলছি, ভূর্তুকিটা সঞ্চয় থেকে আসছে, মানে পুঁজি হারাচ্ছি! খরচ বৃদ্ধির জন্য আমাদের মত পরিবার গুলো সঞ্চয় হারিয়ে ফেলছে এবং ভেতরে ভেতরে ভয়ে মরেই যাচ্ছে, এটা দেখার কেহ নাই বা কাউকে বলাও যায় না! আমরা যারা বিশ্বাসী, তারা বিধাতার কাছে হাত তুলে ক্ষমা চাইছি! বিকল্প বা অন্যায় পথে যেহেতু আমাদের পক্ষে রোজগার করা সম্ভব না, ফলে আর কি করা যায়! কিন্তু পরিনাম ভয়াবহ তা বুঝতেই পারছি এক্ষুনি! টাকা শুন্য হতে আর দেরী নেই!

অভ্যন্তরীণ বাজার কিংবা খরচ ব্যবস্থা স্থিতিশীল না হলে কোন ব্যবসাই টিকে থাকতে পারে না!

* কিছু ছালবাল এসে বলতে পারেন, গ্রামে চলে যান, এমন পরামর্শ যারা বলবেন, আমি তাদের বলবো আপনাদের মনধনগান অভিজ্ঞতা কিছুই নাই, দুনিয়াতে এসেছেন মাত্র গরম ভাত সাইজ করতে!
সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে অক্টোবর, ২০২৩ বিকাল ৩:২৬
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ফিরছে অনলাইন ক্লাসঃ বাস্তবতা অফলাইনে কিন্তু সিদ্ধান্ত অনলাইনে

লিখেছেন মোগল সম্রাট, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪০




সরকার তিনদিন অনলাইন, তিনদিন অফলাইনে ক্লাস চালুর কথা বলছে। কিন্তু প্রশ্ন হলো, অনলাইন ক্লাসের জন্য প্রয়োজনীয় ডিভাইস, ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ এসব কি সবার নাগালে আছে? নাকি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

লিখেছেন নতুন নকিব, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:৩০

পানি: জীবনের উৎস, আল্লাহর রহমতের অবিরাম ধারা এবং সৃষ্টিতত্ত্বের বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ

ছবি, অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

পানি এই একটি শব্দে লুকিয়ে আছে সৃষ্টির রহস্য, জীবনের ধারা এবং মহান আল্লাহ তাআলার অফুরন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের গ্রামের গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:২৪



একসময় আমাদের গ্রামটা খাটি গ্রাম ছিলো।
একদম আসল গ্রাম। খাল-বিল ছিলো, প্রায় সব বাড়িতেই পুকুর ছিলো, গোয়াল ঘর ছিলো, পুরো বাড়ির চারপাশ জুড়ে অনেক গাছপালা ছিলো। বারো মাস... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাসূলের (সা.) একমাত্র অনুসরনীয় আহলে বাইত তাঁর চাচা হযরত আব্বাস ইবনে আব্দুল মোত্তালিব (রা.)

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৩




সূরাঃ ৩৩ আহযাব, ৩২ নং ও ৩৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
৩২। হে নবী পত্নিগণ! তোমরা অন্য নারীদের মত নও। যদি তোমরা আল্লাহকে ভয় কর তবে পর পুরুষের সহিত কোমল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×