আব্বু, তুমি যখন কথা ঘুরাও আমি ঠিক টের পাই। আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো আব্বু, তুমি যে জামাত শিবির টেনে এনে ফারজানা আন্টিকে অরগাজমের কথা বলাটা জাস্টিফাই করেছো, তুমি আমার চোখের দিকে তাকিয়ে বলো, রাগইমন আন্টিও কি রাজাকার? তুমি রাগইমন আন্টিকে নিয়ে কিসব কিসব করেছো, সেসব যে সবাই বলে?
তুমি তো আমাকে খালি রাজাকার মুক্তিযোদ্ধার গল্প শোনালে। কিন্তু রাগ ইমন আন্টি নাকি মুক্তিযোদ্ধার মেয়ে? তুমি আন্টিকে ছাগু ডাকতে কেন? তুমি যে ভার্চুয়াল মুক্তিযুদ্ধ করো, তোমার সহযোদ্ধা কেউ যদি আমাকে ছাগু ডাকে? আমাকে নিয়ে অশ্লীল গল্প লিখে? ঈদ উপলক্ষে আমাকে মার্ডার কাহিনীর মার্ডারার বানিয়ে গল্প লিখে? আমার ওজন বেড়ে গেলে সেটা নিয়ে তামাশা করে? ওহ আব্বু তোমার সব লেখা ভালো মনে করে আমি ওটাও পড়ে ফেলেছি। পড়ে বুঝে ফেলেছি। বুঝে খুব কষ্ট হয়েছিল। আমার আব্বু এরকম কেন? আমার বান্ধবীদের আব্বুরা তো এরকম না! আমার আব্বুই এত ভালো ভালো কথা বলে, সাংবাদিক মানুষ, আর আমার আব্বুই এরকম।
আব্বু তুমি সাহিত্য করো। আমি বুঝতে পারি, তুমি কথা সাজাতে পারো ভালো। তুমি মুক্তিযুদ্ধের অজুহাতে ফারজানা আন্টিকে অর্গাজমের আহবান দিয়েছো, একবারও মনে হলো না আম্মু জানলে যে ভীষণ রাগ করবে? ছি ছি আব্বু, তুমি কি করে পারলে? তোমাকে কি করে আমি মুক্তিযোদ্ধা বলবো আব্বু? মুক্তিযোদ্ধারা না দেশের নারীদের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছে? তুমি কি আমাকে বলতে চাচ্ছো সত্যি সংগ্রামে জিততে হলে নারীদের অবমাননা করতে হয়? আব্বু তোমার কথা আমার পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর মত শোনাচ্ছে। ওরাও দাবী করে ওরা সত্যি প্রতিষ্ঠার জন্য যুদ্ধ করেছে। ওদের মিথ্যা কথা কখন ধরা পড়েছে জানো? যখন ওরা এদেশের মেয়েদের উপর ঝাপিয়ে পড়েছে।
আব্বু তুমিও সুযোগ পেলেই মেয়েদের উপর ঝাপিয়ে পড়ো। সবার উপর না, যাদের কাছে হেরে যাও তাদের উপর। রাগ ইমন আন্টি তোমাকে রিজেক্ট করেছিলো। কারণ তুমি ড্রাগের নেশা করে ডাক্তারী পাশ করতে পারো নি। হেরে গিয়ে তুমি রাগ ইমন আন্টির উপর ঝাপিয়ে পড়েছো। তারপর আদর্শের কথা বলে, নানা বুলি কপচিয়ে ওগুলো কে জাস্টিফাই করেছো। তুমি সব সময় এরকম করো। না না, কথা ঘুরিয়ো না। আমি আজকে দেখতে পাচ্ছি। বুঝতে পারছি।
রাগ ইমন আন্টির সব মুছে ফেলেছো তাই জানি না ওনাকে আরও কি বলেছো। এগুলো তো লেখা তাই প্রমানিত। আরও কত মেয়েকে তুমি কি করেছো চল্লিশে আম্মুকে বিয়ে করার আগে কে জানে?
আব্বু তুমি আমাকে কেন মিথ্যা কথা বুঝাতে চাও? তোমার মুখোশ আমি আজকে ঠিক চিনলাম।
তোমার রক্ত গায়ে আছে বলে তোমাকে আব্বু ডাকতে হবে। কিন্তু তোমার মিথ্যা বুলি, আদর্শের কচকচানি সব কিছুকে আমি থুথু মারি। দেখেছো, ঘেন্নায় মুখ কুঁচকে গিয়েছে আমার?
(এক চোখা নীতিতে খালি এক পাক্ষিক কথা চললে তো হয় না। একবার মুছে ফেলা হয়েছে, সবাইকে আসল সাক্ষাৎকারের আনকাট ভার্শনে আহবান।)
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মে, ২০০৮ দুপুর ২:২৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


