জাতির জনক হলো সম্মান প্রদর্শনের জন্যে দেয়া একটি উপাধি। যিনি কোন জাতিকে প্রতিষ্ঠার পেছনে গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। এক্ষেত্রে একাধিক ব্যক্তি ভূমিকা পালন করে থাকলে তাদের ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠাতা জনক কথাটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে।
এখানে জাতি বলতে জাতিরাষ্ট্রকে বোঝানো হয়। আমরা জানি একজন মানুষ বা নেতা যত বড় মাপেরই হোন না কেন একটি জাতির জন্ম দিতে পারেন না। কারণ একটি জাতির উন্মেষ, বিকাশ এক দীর্ঘ সময়ের ব্যাপার। কিন্তু সে জাতিকে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রীয় পরিমন্ডলে রূপায়ণের জন্য যে নেতা সর্বপ্রধান ভূমিকা পালন করেন তিনিই জাতির পিতা। অর্থাৎ জাতির পিতা কোনো জাতির জন্ম দেন না। কিন্তু সে জাতির নিজস্ব আবাসভূমি হিসেবে একটি স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের জন্ম দেন। এ একই সূত্রে মহাত্মা গান্ধী, মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ, লেনিন, ফিদেল ক্যাস্ট্রো, কামাল আতাতুর্ক তাদের স্ব-স্ব দেশের জাতির পিতা।
একই ধারায় বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। ১৯৭২ সালে বাংলাদেশের সংবিধান শেখ মুজিবুর রহমানকে "জাতির জনক" হিসেবে ঘোষণা করেছিল।
মুজিব বাংলার শোষিত, বঞ্চিত, নির্যাতিত মানুষের মুক্তির জন্য স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করতে বাংলার জনগোষ্ঠীকে স্বাধীনতার অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত করেন। ১৯৫২-এর ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে '৭১ পর্যন্ত এ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বাঙালির তথা বাংলাদেশিদের প্রেরণাশক্তি ছিলেন বঙ্গবন্ধু। ৭ মার্চের ভাষণ, ২৫ মার্চ স্বাধীনতার ঘোষণা মাধ্যমে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়ার আহ্বান এবং ১৭ এপ্রিল যে অস্থায়ী সরকার গঠন হয়েছিল তাই আজকের স্বাধীন বাংলাদেশের গড়ার পিছনের মূল চাবিকাঠি।

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:৫১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



