somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অসময়ে প্রাপ্তি

০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তন্ময় এর চোখে-মুখে এখনো প্রাপ্তির হাসি লেগেই আছে।এত বছরের পরিশ্রম আজ সফলতায় পরিনত হয়েছে।অবশেষে সে অবন্তী কে নিজের করে পেয়েছে।কি করেনি তন্ময় অবন্তী কে পাওয়ার জন্য???
তন্ময় অবন্তীকে সেই কলেজ লাইভ থেকে চেনে।সে তখন সবে একাদশ শ্রেনীর প্রথম বর্ষের ছাত্র।পাশের বাসার দশম শ্রে্নীতে পড়ুয়া মেয়েটা কে প্রতিদিন বেলকুনীতে দেখত।শ্যামলা বর্ণের অবন্তী ,তন্ময় কে সব সময় তন্ময় করে রাখত।তন্ময় সব সময় আড় চোখ রাখত বেলকুনীর দিকে কখন অবন্তী আসবে আর সে তাকে দেখবে।এমন কি অবন্তী যখন ক্লাসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হত, সে তৃষ্ণাত্ব চোখে তাকিয়ে থাকত। তন্ময় সব সময় চাইত অবন্তী তাকে দেখুক, তার দিকে নজর দিক কিন্তু কখনোই তা হত না।তন্ময় সিদ্ধান্ত নিল অবন্তীর মুখোমুখি হবে।তাকে বলবে তার ফিলিংস , তার ভালোবাসা ,তার চাওয়ার কথা।
একদিন খুব সকালে অবন্তী যখন স্কুলে যাচ্ছিল। পিছন থেকে তন্ময় অবন্তীকে থামতে ইশারা করল।
--অবন্তী, কেমন আছো?
--ভালো।ভাইয়া কিছু বলবেন?
--হুম, কিছু বলতে চাই?
--জি বলেন।আমার ক্লাস শুরু হয়ে যাবে ?
--আমি তোমাকে অনেক পছন্দ করি? আই মিন , " আই ওয়ান্ট টু লাভ ইউ?'
--কি বলেন এসব ভাইয়া?
--হুম,সত্যি। বিলিভ মি।
--ভাইয়া, সরি, আমি এই সব কিছু নিয়ে ভাবি না।আমাকে কখনোই এসব কথা বলবেন না।
অবন্তী আস্তে আস্তে চলে গেল। কিন্তু, তন্ময় বেশ কিছু ক্ষন দাঁড়িয়ে থাকল।তারপর আবার হাটা শুরু করলো অবন্তীর স্কুলের দিকে।অবন্তীর ক্লাস শেষ হয় ১২ টার দিকে। অবন্তী বের হলে দেখতে পায় তন্ময় তার স্কুলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছে।সে কিছু না বলে রিক্সাতে উঠে এবং চলে যায়।তন্ময় পরদিন আবার অবন্তীকে রাস্তায় দাড় করিয়ে বলে, প্লিজ কিছু বলে যাও।আমি কাল থেকে ঘুমাতে পারছি না।কিছু খেতে পারছি না।এমন কি পড়ায় মন বসাতে পারছি না।
আমি তো আপনাকে বলেই দিয়েছি আমার পক্ষে সম্ভব না--অবন্তী সোজাসাপ্টা জবাব দিলো।
--কেন সম্ভব নয়??কেনই বা তুমি আমাকে ফিরিয়ে দিচ্ছো?
অবন্তী কোন জবাব না দিয়েই হাটা শুরু করে দেয়।তন্ময় পিছন থেকে বলে যেতে থাকে, অবন্তী আমি জবাব চাই।তুমি চিন্তা করতে ও পারবে না, আমি তোমাকে কত পছন্দ করি।কত টা ভালোবাসি।
কিন্তু, অবন্তী তন্ময়ের কোনো কথাতেই ভ্রুক্ষেপ না করে চলে গেল।এর পর থেকে তন্ময় ভীষন পাগলামী শুরু করে।অবন্তী যেখানেই যেত সে সেখানেই উপস্থিত।তন্ময় অবন্তীর প্রায় সব বন্ধু-বান্ধুবী কে আপন করে ফেলেছিলো।এমন কোনো দিবস ছিল না যে তন্ময় অবন্তীকে গিফট দে্যার চেষ্টা করে নি।কিন্তু প্রত্যেক বার ই সে ফিরিয়ে দিয়েছে।আর এসব কিছু করতে করতে তন্ময়ের একটা বছর কেটে যায়।
হটাৎ একটা দিন, অবন্তী কিছু বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যায় এক শপিং মলে। প্রতিবারের মত তন্ময় ও পৌছে যায় সেই জায়গায়।অবন্তী ভীষন বিরক্ত হয় তন্ময় কে দেখে।অবন্তী তন্ময় কে উদ্দেশ্যে করে বলে,
--আপনি এখানে?
--তুমি যেখানে আমি তো সেখানেই থাকব।
--প্লিজ, আমার জীবন টা বরবাদ করবেন না।আমাকে আমার মত বাচতে দিন?
--আমি তোমার জীবন কেমন করে বরবাদ করলাম? আমি শুধুই তোমাকে ভালোবেসেছি ?
তন্ময় কি যেন মনে করে অবন্তীর হাত ধরে ফেললো।আর, অবন্তী তন্ময়ের এ রকম আচরনের জন্য কোনো অংশেই প্রস্তুত ছিল না।সে চট করে তন্ময়ের মুখে একটা থাপ্পর বসিয়ে দিল।
তন্ময়, অবাক হয়ে তাকালো অবন্তীর দিকে।তার দু'চোখ ভারি হয়ে গেল লজ্জায়।কিছু বলার মত ভাষা ছিল না।
তন্ময় শুধু একটা কথাই বললো অবন্তী কে।,'ভালোবাসি'।শুধুই ভালোবাসি।আর, ভালোবেসে যাবো।তন্ময় চলে গেল।
কিছু দিন পর, তন্ময় আর অবন্তী একটা রেস্টুডেন্টে বসে আছে কাধে কাধ রেখে।হাসাহাসি করছে।অবন্তী বললো,
--তুমি ভালোই নাটক করতে পারো?
--তুমি ও কম যাও না।
--আচ্ছা, সেই থাপ্পরের কথা মনে আছে।তুমি হটাৎ করে উধাও হয়ে গেছিলা।আমি তখন তোমাকে মিস করা শুরু করেছি।সত্যি তখন বুঝেছি তুমি কত টা গুরুত্বপূর্ন আমার জীবনে।আর হারিয়ে যাবা এমন করে।
--না বাবা।প্রোমিজ যাবো না।আর, গেলে তুমি ধরে নিয়ে আসবা।
--থাপ্পর দিবো।
--দাঁও না।একটা থাপ্পর এর বিনিময়ে তোমাকে পেয়েছি।হাজার টা খেতে ও রাজি আছি।
আর, একটা থাপ্পর একটা প্রেমের চাবিকাঠি।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৬ রাত ১১:০৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ব্যাটারিচালিত রিকশা , তিন-চাকার যানবাহন ব্যবস্থাপনা, অবৈধ বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক নিরাপত্তা, কর্মসংস্থান ও জীবিকা সুরক্ষা এবং সিসা-দূষণরোধ বিষয়ে একটি সমন্বিত নীতিগত প্রস্তাব।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮


বাংলাদেশের নগর ও শহরতলির পরিবহন ব্যবস্থায় ব্যাটারিচালিত রিকশা, ইজি-বাইক ও অন্যান্য বৈদ্যুতিক তিন-চাকার যান ইতোমধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতা। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের যাত্রীদের জন্য অপেক্ষাকৃত কম খরচের পরিবহন, বিপুলসংখ্যক চালক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:০৭



ধানমন্ডি ৩২: মানুষের হৃদয়ে যে বাড়ি আজও দাঁড়িয়ে আছে

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি কেনা ও নির্মাণের টাকা কোথা থেকে এসেছিল-এই প্রশ্নটা মাঝেমধ্যেই অনলাইনে ঘুরেফিরে আসে। উত্তরটা আসলে লুকিয়ে নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওয়ামী লীগ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয় - দরকার বিকল্প সরকার

লিখেছেন মাথা পাগলা, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৫৪



জামাতকে সংগঠন হিসেবে নিখুঁত বলা যায়, আলেম হতে হলে দীর্ঘদিন পড়াশোনা ও প্রশিক্ষণের মধ্য দিয়ে যেতে হয় - মানে নেতা হবার আগে অবশ্যই পড়াশোনা করতে হবে, বিএনপি-লীগের এমন কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বেলাশেষে

লিখেছেন নীল-দর্পণ, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৪৪

বাসায় আত্নীয় আসলে চলে যাবার সময় কিংবা তাদের বাড়ী থেকে ফেরার সময় ঘরের ছোট সদস্যের হাতে টাকা গুঁজে দেবার যে চল ছিল নিশ্চই আমরা কম বেশি সবাই সেটা সাথে পরিচিত।... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসংখ্য মানুষের স্বপ্নের নায়িকা যিনি।

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:১২



একদিন যে বিয়েকে ঘিরে ছিল পাঁচতারকা হোটেলের ঝলমলে আলো, ক্যামেরার অসংখ্য ফ্ল্যাশ আর শত মানুষের করতালি, সেই সংসারের আকাশেই কয়েক বছরের মধ্যে জমেছিল বিচ্ছেদের মেঘ। ১৯৮৭ সালের মে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×