somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালোবাসার বৃষ্টি

১২ ই আগস্ট, ২০১৮ রাত ১২:৪৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঝুম বৃষ্টি হচ্ছে।চারদিকে এক বিশাল সুখের উন্মাদনা।নাবিহার বাসার নিচে দাঁড়িয়ে আছি।এই বার দিয়ে মোট চার বার ফোন করা হয়ে গেছে।নাবিহা কোনো এক অজানা কারনে ফোন ধরছে না।এই কয়েক মিনিটের মাঝে আমার চার কাপ চা খাওয়া শেষ।

পঞ্চম বার রিং বাজার পর নাবিহা ফোন ধরে হ্যালো বললো।ঘুমন্ত স্বরে বলে উঠলো, কি চাই? এত সকালে ফোন করসিস কেন? চারদিকে বৃষ্টি হচ্ছে, একটু ঘুমাতে ও দিবি না!

একটু বাহিরে আসবি? তোকে দেখতাম।সেই গত পরশু তোকে দেখেছি।মন টা তোকে দেখার জন্য কেমন জানি করছে। সঙ্গে সঙ্গে নাবিহার পালটা প্রশ্ন, পাগল নাকি? আর তুই এখন কই? রাতে ঘুম হইনাই। আবোল তাবোল বকসিস কেন?

আরে একটু বাইরে তাকিয়ে দেখ ই না।তোর জন্য সেই কখন থেকে দাঁড়িয়ে আছি।বাসা থেকে ছাতা পর্যন্ত নিয়ে আসি নি।

নাবিহা বিরক্তি আর তাচ্ছিল্যের ভাবে বললো, আমি বের হচ্ছি না, তুই চলে যাও।তবে হ্যা এক সত্বে বের হতে পারি। যদি তুই আমাকে এই বৃষ্টিতে রিক্সায় সারা ঢাকা ঘুরাতে পারিস, তবেই! কোনো ছাতা থাকবে না।রিক্সার হুট নিচেই থাকবো।দুই জন মনের সুখে বৃষ্টিতে ভিজতে ভিজতে রিক্সায় ঘুরবো।তুই আমাকে গেয়ে শুনাবি হুমায়ুন আহমেদের, "চলো বৃষ্টিতে ভিজি" এই গানটা।

আচ্ছা বাবা, ঠিক আছে। এখন নামত......

নাবিহা কে নিয়ে রিক্সায় উঠলাম সকাল ১১ টায় মোহাম্মাদপুর থেকে। পুরো রাস্তা খালি।রাস্তায় মানুষের বড্ড অভাব। আমি আর নাবিহা মনের সুখে ভিজছি। রাস্তা ফাকা বিধায় কিছু বাচ্চারা ফুটবল খেলছিলো। নাবিহার চুলা গুলা ভিজে টুপ টুপ জল গড়িয়ে পড়ছিলাম।মেয়েটা কে আজ কেন জানি আগের থেকে অনেক সুন্দরী লাগছে! কিন্তু নাবিহা তো আগে থেকেই সুন্দরী।তাহলে কি আমি ওকে ভালো ভাবে খেয়াল করি নি?

নাবিহা কে আজ বৃষ্টির দিনে বের করার আমার একটা উদ্দেশ্য ছিলো।অনেক দিন ধরে ইচ্ছে ছিলো এমন একটা মেঘলা দিনে ওকে বলবো আমার মনের সেই অব্যক্ত কথাটা।ভয়ে এবং অনিশ্চয়তা দুইটাই কাজ করছে মনে।নাবিহার এত কাছে আসাটা আমার মোটে ও সহজ ছিলো।

কলেজের ফাস্ট বয় বলে কলেজে একটা সুনাম ছিল আমার। সব টিচার রা আমাকে অনেক স্নেহের চোখে দেখত। আমার বন্ধুরা এই জন্য হিংসে করত।আমি যত টা ভালো ছাত্র ছিলাম ঠিক ততটা দেখতে কালো ছিলাম। কালো বলে মাঝেমধ্যে বন্ধু মহলে মেয়েদের প্রসঙ্গ টেনে আমাকে ছোট করা হত।মাঝে মাঝে অসহায় লাগত। বড্ড অসহায়!

যা গে সেই কথা।নাবিহার কথায় আছি।

আমাদের কলেজের সব থেকে সুন্দরী মেয়েটা নাবিহা।কলেজের প্রত্যেকটা ছেলে ই মনে মনে চাইত ওর সাথে কথা বলতে, ওর কাছে আসতে।আমি ও চাইতাম কিন্তু ভয়ে প্রকাশ করতে পারতাম না।

এক দিন হঠাৎ করে কলেজের গেট দিয়ে বের হওয়ার সময় নাবিহা পিছন দিয়ে ডাক দিলো।আমি পিছু ফিরে তাকাতে একটু ছোট খাটো শকড খেলাম।নাবিহা আমাকে বললো, আমি কি তার সম্পর্কে কারো কাছে আজেবাজে কিছু বলেছি কিনা?

আমার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়ার মত অবস্থা।আমি নিজেকে সংঘত রেখে বললাম, আমি আপনাকে ভালো মত চিনি ই না!আপনার সম্পর্কে কাকে কি বলবো?

নাবিহা একটু রিরক্ত আর রাগ দেখিয়ে চলে গেল।কলেজে রটে গেল আদিব প্রেমের প্রস্তাব দিয়েছে নাবিহাকে।আর নাবিহা সরাসরি অপমান করেছে।বন্ধুরা অনেক হাসাহাসি করলো।আমি প্রায় পাচ- ছয় দিন কলেজে যেতে পারি নি, কিছু মুখে দিতে পারি নাই।তখন ই জেদ মনে চেপে বসলো, যে কোনো মুল্যে আমার নাবিহা কে চাই।

আর সেই জেদের হাত ধরেই আজ নাবিহার সাথে আমার রিক্সায় পাশাপাশি হাত ধরে পথ চলা।

বন্ধুদের কেন জানি অনেক ধন্যবাদ দিতে মন চাচ্ছে! ওরা না থাকলে বোধহয় নাবিহা কে এইভাবে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলাম না।

নাবিহার ধাক্কাতে বর্তমানে ফিরে এলাম। কি হইছে তোর! আনমনে কি ভাবসিস?

অনেক কিছু! ভাবছিলাম নাবিহা এই বৃষ্টি থেকে ও সুন্দর! আমাকে দুইটা থেলে একটা বেচে নিতে বললে, বললাম আমি আজীবন নাবিহা কে চাই!

নাবিহা, " তুই কি আমার সারা বছরের বৃষ্টি হবি? যে বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে অঙ্গার হবো সারাটা জীবন।❤
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

সাবধানের মার্ নেই

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৩১


নিউ ইয়র্ক থেকে ফিরার পথে নিউ আর্ক্ লিবার্টি ইন্টারন্যাশনাল এয়ারপোর্টে যখন এরোপ্লেনে উঠে নির্দিষ্ট সীটের কাছে পৌঁছলাম দেখলাম এক প্রৌঢ় ভদ্রলোক জানালার পাশের সিটটাতে অলরেডি বসে আছেন। আইল ও... ...বাকিটুকু পড়ুন

হারানো বিজ্ঞপ্তি

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৩১



অত্যন্ত দুঃখ ও ভারাক্রান্ত হৃদয়ে জানানো যাচ্ছে যে, গত প্রায় দুই বছর যাবৎ বিবেক, বুদ্ধি, জ্ঞান, বিচার ও বিবেচনা - এই পাঁচজনকে কোথাও খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। একসময় তাঁরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১১:২৫


মার্কিন মাটিতে ‘আত্মঘাতী ভুল’- নাকি বদলে যাচ্ছে হিসাব?

শেখ হাসিনা কি ফিরবেন?
আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে কখনো কখনো একটি বৈঠকের চেয়েও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে- কোন বৈঠকটি হলো, কোনটি হলো না এবং কোন... ...বাকিটুকু পড়ুন

সংখ্যা গরিষ্ঠ মুসলিম হিসেবে গর্ব করার কিছু নেই......

লিখেছেন মুহাম্মদ মামুনূর রশীদ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৮:২৮

আমরা যারা আপাত দৃষ্টিতে হায়েনা নই কিন্তু নিরবে স্বচক্ষে হিন্দুদের সর্বনাশ দেখে যাচ্ছি তারা সবচেয়ে বেশি দায়ী। অথচ বাংলার হিন্দু, বাংলার খ্রীষ্টান, বাংলার বৌদ্ধ, বাংলার মুসলমান, আমরা সবাই বাঙ্গালী-এই বৈষম্যহীনতা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অল্প একটু পাশে থেকো

লিখেছেন রানার ব্লগ, ২৫ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১০:১০



আমাকে খুব বেশি কিছু দিতে হবে না,
এক মুঠো আকাশও নয়,
আচেনা কোনো বিকেলও নয়।

শুধু কখনো কখনো
আমার নির্জন ঘরের দরজায়
টোকা দিয়ে দাঁড়িয়ো, যেন বুঝতে পারি
ফুরিয়ে যাবার বেলা এখনো আসেনি ।

আমাকে প্রতিদিন মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×