কুয়েটে আরাবিয়ান পোষাক পড়ে বছরের শেষ দিন পালন করায় কিছু কু-সাংবাদিকদের দেখলাম তাদের নিয়ে নিউজ করতে। ৭১ টিভির উপস্থাপিকা তো আরো ভয়ংকর জিনিস জিজ্ঞাসা করেছে। কেন তারা আরাবিয়ান পোষাক পড়লো? এই পোষাক আমাদের সংষ্কৃতির বিপরীত, আমাদের ঐতিহ্য কে কি অবমাননা করা হলো না? কিন্তু আশ্চর্যের ব্যাপার, যিনি প্রশ্ন করছেন তিনি ই ওয়েস্টার্ন পোষাক পড়ে আছেন!
পোষ্টটা লিখার কারন , আজ দেখলাম কুয়েটে এখন থেকে এই টাইপ পোষাক পড়াতে কর্তৃপক্ষ বাধা আরোপ করেছে, এখন থেকে অনুমতি নিতে হবে এমন কিছু করতে হলে।ভার্সিটির কোনো অনুষ্টানে আলাদা পোষাক পড়তে হলে আগে থেকে অনুমতি নিতে হবে।
সব প্রেজেন্টেশন-ভাইভা-ইন্টারভিউ তে আমাদের এই সংষ্কৃতির চেতনা কই থাকে? কেন এই কার্য্য গুলোতে লুঙ্গি-ধুতি পড়ে যাওয়া যায় না? কেন শার্ট-প্যান্ট-কোট পড়ে যেতে হয়।
উপস্থাপিকা প্রশ্ন করে বসলেন, জুব্বা-আলখেল্লা পড়ে কি ইসলাম কে অবমাননা করা হচ্ছে কি না!? এই জুব্বা আলখেল্লা নাকি ইসলামী পোষাক! কিন্তু যতদূর জানি, ইসলামী নির্দিষ্ট কোনো পোষাক নেই। পোষাকের তারতম্য আসে মূলত আবহাওয়া-ভৌগলিক অবস্থানের উপর। শীত প্রধান দেশের মানুষ ইচ্ছে করলে আমাদের মত হালকা টিশার্ট আর লুঙ্গি পরে ঘুরে বেড়াতে পারবে না , তেমনি আমরা ও সাইপ্রাসে গিয়ে সেন্টু গেঞ্জি আর লুঙ্গি পড়ে ঘুরতে পারব না। আরব মরুভুমিময় হওয়ায় ঐ খানে সূর্যের তাপে বালু প্রচন্ড উত্তাপ্ত হয়, তাই তারা মাথায় পাগড়ি আর পা অবধি ঝুলন্ত ড্রেস পড়ে যাতে গরম বালু তাদের মাথার চুলের ভিতর বা শরীরের কোনো অংশে না লেগে যায়।
চিন্তা করেন, আপনি গ্রামের জমির মাঝ দিয়ে হেটে যাচ্ছেন আর আপনার পরনে ফরমাল পোষাক । সামনে পড়ল ছোট্ট একটা ডোবা যেটা আপনাকে হেটে পাড় হতে হবে। এই পোষাক পড়ে সেটা পাড় হওয়া আপনার পক্ষে অসম্ভব। বাংলাদেশ পেক্ষাপটে তাই লুঙ্গি ই হচ্ছে উপযুক্ত পোষাক। এই হিসেবে ই প্রত্যেকটা দেশে নিজেস্ব পোষাক এসেছে।
তাই, কোন দেশের পোষাক পড়লেই সেই দেশের সংষ্কৃতি কে ধারন করা হয় না , আবার সেই দেশের কৃষ্টি-কালচার কে ও অবমাননা করা হয় না। এই উন্মুক্ত তথ্য প্রযুক্তির বিশ্বে এক দেশের কৃষ্টি-কালচার আরেক দেশে হুর হুর করে ঢুকে যাচ্ছে। এখন আপনাকে বুজতে হবে আপনি কোনটা ধরবেন আর কোনটা ছাড়বেন?????
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা জানুয়ারি, ২০২০ রাত ৯:২০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



