somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিবর্ণ প্রেমঃ বিষ্মৃত ভালোবাসা

২৬ শে আগস্ট, ২০০৮ দুপুর ২:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ওর সাথে আমার হঠাৎ দেখা। অনেকটা কাজের খাতিরে। ও ছিল আমার সহযাত্রী; সহযোদ্ধা। এক সাথে চলতে চলতে যেটুকু কাছে আসা তাতে আমি বলতে পারি না ও আমাকে নিয়ে ভাবে; আমার জন্য অপেক্ষা করে। আমিও দাবী করতে পারিনা যে আমি ওকে ভালোবাসি।

হঠাৎ একদিন আমার জ্বর হয়। কর্মক্লান্তির জ্বর। কাজে যাইনি। একা একা থাকি তাই শুশ্রুষা করার মত কেউ নেই। সকাল থেকে কিছু খাওয়াও হয়নি। তাছাড়া আমি জীবন সম্পর্কে বেশ উদাসীন। শক্তি বর্ধক কিছু ঘরে রাখব, সে খেয়াল কখোনো হয়নি। শরীর এত দূর্বল যে উঠে কিছু রান্না করব তার উপায় নেই। কি করা যায় তাই সাত পাঁচ ভাবছি...

সকাল আনুমানিক সাড়ে দশটা হবে। হঠাৎ কলিং বেল বেজে উঠল। কোন রকমে দরজা খুলেই অবাক। ও এসে হাজির। কিছু বলার আগেই...
আমি জানতাম ও খুব আবেগ প্রবন। কিন্তু এতটা... । ও ঘরে ঢুকেই চলে গেল রান্নাঘরে। ওখান থেকেই চিল্লপাল্লা শুরু করে দিল। - এজন্যই তো আজকে এই হাল। আমি জানতাম, এরম একটা কিছু হবে। মানুষ এতো বুদ্ধু হয়! বাব্বাহ, অন্তত নিজের জন্য না হোক...
- বলো থামলে কেন?
- আমার মাথা। পেটে কিছু পড়েনি তো? পড়বে কি? রান্না ঘরের যে হাল কে বলবে এখানে কোন কষ্মিনকালে চুলো জ্বলেছিল।
- বিশ্বাস করো...
- থাক আর ছাপাই গাইতে হবে না। কতটা মুরোদ তা জানা আছে। দেখি শুয়ে পড়ো তো।
মুখে থার্মোমিটার দিতে দিতে ওর চোখের পাতা ভীজে আসছিল। পাছে আমি দেখে ফেলি তাই ছুতো করে উঠে যাচ্ছিল।
হাতটা ধরে শুধু বল্লাম- কাছে একটুখানি বসো না। বলতে না বলতেই গম্ভীর মেঘের বুক চীরে অঝোরে বর্ষণ শুরু হল। নেই কোন বিজলীর চমক কিংবা বজ্রনাদ। সে কী বর্ষণ- ভেতর বাহির ভেজে একাকার। মেঘের গভীরে যে জলবিন্দুটি ছিল সেও ঝরে পড়তে লাগল। নিঃশব্দ সে বর্ষণ আমার ভেতরটাও ভিজিয়ে দিল।
_________________________________(চলবে)_____
৫টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কি আছে কারবার

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৪৩


ঐ যে হেঁটে যাচ্ছিলাম- দেখলাম
ভণ্ডামি আর প্রলোভন কাণ্ড;
ক্ষমতায় যেনো সব, ভুলে যাচ্ছি অতীত-
জনগণ যে ক্ষেতের সফল ভিত
অবজ্ঞায় অভিনয়ে পাকাপোক্ত লঙ্কা;
চিনলাম কি আর খেলেই ঝাল ঝাল
তবু ভাই চলো যাই, হেঁটে- হেঁটেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

সিংহাসনের লড়াই: নেকড়ের জয়ধ্বনি ও ছায়ার বিনাশ

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১:৪৮



“Game of Thrones: Winter is coming” - এর ছায়া অবলম্বনে।

বাংলার আকাশে এখন নতুন সূর্যের আভা, কিন্তু বাতাসের হিমেল পরশ এখনো যায়নি। 'পদ্মপুর' দুর্গের রাজকীয় কক্ষের একপাশে বিশাল মানচিত্রের দিকে তাকিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৭১ পরবর্তি বাংলাদেশ ( পর্ব ০৮)

লিখেছেন মেহেদী আনোয়ার, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:২৩


মুক্তিযুদ্ধে ‘ত্রিশ লাখ শহিদ হয়েছে'— এই দাবি বিশ্ববাসী প্রথম জানতে পারে ৩ জানুয়ারি ১৯৭২ সালে সোভিয়েত রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির পত্রিকা ‘প্রাভদা'তে প্রকাশিত এক সংবাদ নিবন্ধে। দু'দিন পর চট্টগ্রাম থেকে প্রকাশিত... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ শবে বরাত!!

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:২০



ইসলামি বিশ্বাস মতে,
এই রাতে আল্লাহ তার বান্দাদেরকে বিশেষ ভাবে ক্ষমা করেন। ফারসি 'শবে বরাত' শব্দের অর্থ ভাগ্য রজনী। দুই হাত তুলে প্রার্থনা করলে আল্লাহ হয়তো সমস্ত অপরাধ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফেলে আসা শৈশবের দিনগুলি!

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৪ ঠা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:২১


চট্টগ্রামে আমার ছোটবেলা কেটেছে নানুর বাড়িতে। চট্টগ্রাম হলো সুফি আর অলি-আউলিয়াদের পবিত্র ভূমি। বেরলভী মাওলানাদের জনপ্রিয়তা বেশি এখানে। ওয়াহাবি কিংবা সালাফিদের কালচার যখন আমি চট্টগ্রামে ছিলাম তেমন চোখে পড়েনি।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×