somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

উত্তর জানা নেই !!

১৩ ই জুলাই, ২০১৮ ভোর ৫:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ইদানিংকালে হয়েছে কি - দেশ বিদেশের কোন বিনোদন তারকা মারা গেলে কিঙ্গবা অভিনয় থেকে সড়ে গেলে আমরা যতটা দুঃখ পাই (লোকদেখানো কিনা জানা নেই!), তার সামান্যতম অংশ দুঃখ আমরা পাইনা আমাদের সবচেয়ে কাছের মানুষগুলোকে কষ্ট দিয়ে । আমরা তখন প্রাকটিক্যাল চিন্তার মানুষ হয়ে উঠি !
আমরা আমাদের পার্টনারদের কাছে থেকে সবসময় লয়্যালিটি , একগামী মনোভাব , ট্রান্সপারেন্সি এসব চেয়ে থাকি । সেই আমরাই আবার বেশীরভাগ ক্ষেত্রে চান্স পেলে এগুলোর বাইরে যেতে সামান্যতম কার্পন্য করিনা। আমরা তখন অনেক উদ্ভট কিছু যুক্তি দিয়ে বুঝাতে চেষ্টা করি, যে অনেক উচু লেভেলের লাইফ লিড করতিছি !
জীবনের নানান বাঁকে আমরা অনেক (পজেটিভ) বিষয়ে খুব ভেবে চিন্তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ হই। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে-সেই আমরাই আবার কোন কারন ছাড়া অথবা ক্ষুদ্র কোন কারনে , সেইসব প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করি। তখন আমরা ভুল জায়গায় “জীবন/মন পরীবর্তনশীল” টাইপের কিছু বুলি উচ্চারন করে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গের দ্বায় এড়াতে চেষ্টা করি!
আমরা নাক শিটকিয়ে নিজেরাই বলি –“শো অফ আমার একদম পছন্দ না”। সেই আমরাই আবার যখন কেউ “শো অফ” না করে, সামর্থ্য থাকার পরেও যদি নরমাল থাকতে চায় , তাকে ক্ষ্যাত বলতে বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করিনা । আমরা তখন আধুনিক চিন্তাচেতনার মানুষ হয়ে উঠি!
নিজেদের personality, Self-esteem, morality অনেক উচু লেভেলের & অন্যের এসব ব্যাপারেও যথেষ্ট respect আছে তা প্রমান করানোর চেষ্টায় আমরা ত্রুটি রাখিনা। সেই আমরাই আবার অন্যের personality, সম্মান/মর্যাদা নিয়ে টানাহ্যাঁচড়া করে নিচে নামাতে খুব পছন্দ করি । তখন আমরা “কি জন্য করছি , পরে বুঝবেন” টাইপের বোগাস কিছু কথা নির্দিধায় বলে প্রসঙ্গ পাল্টে দিতে চেষ্টা করি।
কথায় কথায় আমরা নিজেদের বাস্তববাদী বলে প্রমান করানোর চেষ্টা করি । সেই আমরাই আবার টিভি সিরিজ আর মুভির মত ঘটনাবহুল হবে নিজেদের জীবন ,এরকম ভাবতে পছন্দ করি । কেউ কেউ আবার সেই সব ক্যারেক্টারকে নিজেদের জীবনে খুজে ফিরি । আমরা তখন নিজেদের রঙিন স্বপ্নবাজ! আখ্যা দিয়ে আরো মোহাচ্ছন হয়ে পরি।
মানষিক ভাবে নিজেদেরকে আমরা সুস্থ-স্বাভাবিক বলে সবসময় দাবি করি । রিলেশনশিপে না থাকলে আমাদের হা-হুতাশের অন্ত নেই , সেই আমরাই আবার রিলেশনশিপে যাবার পরে কোন কারন ছাড়াই “হাঁপায় উঠছি ,এটা আর কান্টিনিউ করতে পারবো না” টাইপের কথা বলে নিজেদের মানষিকভাবে বিকৃত আদিম/বন্য স্বভাব সামনে নিয়ে আসি । আমরা তখন অতি আধুনিক মনস্ক এবং দ্বায় এড়াতে ক্যারিয়ার সচেতন হয়ে উঠি!
দেশের তরুণ সমাজ নিয়ে আমাদের চিন্তা বা আফসোসের শেষ নেই। পারলে পুরো দেশের তরুণদের দ্বায়িত্ব নিজের কাধে তুলে নিতাম টাইপের কথার ফুলঝুড়ি ফুটাতে আমাদের জুড়ি মেলা ভার , অথচ কোন তরুণ যখন ইউনিক কোন আইডিয়া অথবা প্রজেক্ট নিয়ে আমাদের সামনে আসে, তখন তারা তাদের কাজের কোন ইনভেস্টর & স্পন্সর খুজে পায়না । আমরা যেন কোথায় হারিয়ে যাই তখন ! কেউ কেউ আবার ক্রিটিকসের ভুমিকায় নেমে পড়ি নয়তো ডিমোটিভেট করি ।
বছরে ১ অথবা ২দিন আমরা সমাজসেবা করতে বেড়িয়ে পরি , ক্যামেরার সামনে নিজেদের প্রচন্ড ইমোশনাল! একজন মানবসেবী হিসেবে তুলে ধরতে একটুও ফাঁক রাখিনা । সেই আমরাই আবার পথচলতে গিয়ে কোন পথশিশু/ভিক্ষুক খাবার কিনে চাইলে তা শুনতেই পারিনা অথবা শুনলেও ধমকিয়ে বিদায় করি। আমরা তখন ইমোশনলেস যন্ত্র হয়ে যাই।
কি হচ্ছি আমরা দিনদিন !? কোনদিকে যাচ্ছে আমাদের মেন্টালিটি !?
উত্তর জানা নেই আমার ! কেউ জানলে- বলবেন প্লিজ !? :-&
সর্বশেষ এডিট : ১৩ ই জুলাই, ২০১৮ ভোর ৫:৩৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×