মণিপুর স্কুলে ছাত্রছাত্রী ভর্তির সময় অতিরিক্ত টাকা আদায়ের খবর সংগ্রহ করতে গিয়ে সরকার দলীয় সাংসদ কামাল আহমেদ মজুমদারের হাতে লাঞ্ছিত হয়েছিলেন আরটিভির মহিলা সাংবাদিক। সাংবাদিকদের আন্দোলনের মুখে নিজের ঐ অপকর্মের জন্য ভুল স্বীকার করে ক্ষমাও চেয়েছিলেন তখন। এবার সেই কামাল আহমেদ মজুমদারের মণিপুর স্কুলে পদ্মা সেতুর ফান্ডে টাকা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল নাকি সেই নোটিশ ঝুলানো হয়েছে। যে যত পারে তত সাহায্যের কথা নোটিশে উল্লেখ থাকলেও প্রয়োজনে টিফিনের পয়সা বাঁচিয়ে হলেও পদ্মা সেতুর ফান্ডে জমা দেওয়ার নাকি মৌখিক নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।গতকাল সন্ধ্যায় বাসায় ফেরার পর আমার ভাতিজা বলল, কাকা, আমাদের স্কুলে পদ্মা সেতুর ফান্ডে টাকা দেওয়ার জন্য নোটিশ দেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসা করলাম, কি উল্লেখ করেছে? সে বলল, নোটিশে লিখেছে যে যত পারি তত ক্লাস টিচারের কাছে জমা দেওয়ার জন্য। কিন্তু মুখে বলে দিয়েছে বাসা থেকে টাকা না দিলে তোমাদের টিফিনের টাকা বাঁচিয়ে হলেও জমা দিও।
সরকার দলীয় সাংসদ তিনি। ভবিষ্যতে আবারো নোমিনেশন পেয়ে এমপি হওয়ার বা আরও সরকারি সুযোগ সুবিধা নেওয়ার জন্য সরকারকে তৈল মর্দন করবেন খুবই স্বাভাবিক। তাই বলে কোমলমতি শিশুদের টিফিনের টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পদ্মা সেতুর ফান্ডে জমা দিয়ে? নিজে কি কম কামিয়েছেন? নিজের কাছ থেকে কয়েক কোটি টাকা দিয়ে দিতে পারেন না?
কতিপয় দুর্নীতিবাজের জন্য পুরো জাতিকে এমন হয়রানি কি আদৌ ঠিক হচ্ছে? কোমলমতি শিশুরাও এই হয়রানি থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা? এইসব দুর্নীতিবাজদের কারণে এই শিশুদের নিজের টিফিনের পয়সাও দিয়ে দিতে হবে পদ্মা সেতুর ফান্ডে? শাসকগোষ্ঠী সম্পর্কে কি ধারণা পোষণ করে তারা বড় হচ্ছে?
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুলাই, ২০১২ বিকাল ৩:০৯

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



