somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ইন্টিগ্রিটি, ভদ্রতা,নম্রতা এগুলো আমার জীবনের অঙ্গীকার ও অহঙ্কার।- 'সৈয়দ আবুল হোসেন

০৪ ঠা সেপ্টেম্বর, ২০১২ দুপুর ১:২৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ইন্টিগ্রিটি, ভদ্রতা,নম্রতা এগুলো আমার জীবনের অঙ্গীকার ও অহঙ্কার। এ অহঙ্কার নিয়ে আমি আমার বাকি জীবন থাকতে চাই" -– 'সৈয়দ আবুল হোসেন
Click This Link
আমাদের সবার প্রিয় সদা হাস্যোজ্জল সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উক্তিটি করেছেন।

সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ইন্টিগ্রিটি, ভদ্রতা,নম্রতা এগুলো যার জীবনের অঙ্গীকার ও অহঙ্কার তার সম্পর্কে সামান্য জেনে নেওয়াই কি সমীচীন নয়? এমন একজন ব্যক্তির জীবনীকে প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্য বইয়ে সংযুক্ত করা যেতে পারে। তা না হলে এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তি সম্পর্কে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানবে কি করে? প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্য বইয়ে এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তির জীবনী সংযুক্ত করলে তার সম্পর্কে জানতে পারবে ভবিষ্যত প্রজন্ম। কিন্তু আমরা যারা ঐ গণ্ডি পার হয়ে এসেছি তারা কি জানব না? তাই যারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয়ে এসেছি তাদের জানানোর জন্যই পদ্মা বুল ভাই সম্পর্কে যতটুকু আমার জানা আছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।

১. তাঁর সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারলাম স্বাধীনতার ঠিক পরপরই তিনি পরিচিতি হয়ে ওঠেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী মুজিব সরকারের(’৭২-‘৭৫) আমলেই তিনি একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তখন তিনি আওয়ামী লীগ করতেন না। কিন্তু তিনি টিসিবির ব্যবসা করতেন। তখন টিসিবির ব্যবসা কেলেঙ্কারির জন্য ঐ সরকারের আমলে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দ্বিতীয় দফায় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জনক এরশাদের আমলে তার উত্থান ঘটে।
Click This Link

২. ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার প্রথম সরকার গঠন করার পর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ঐ সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজের জন্য সরকারি লাল পাসপোর্টের বাইরে সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করতেন। লাল পাসপোর্টে বিদেশ গেলে অনেক প্রোটোকল মেইন্টেইন করতে হয়, ব্যবসায়ী পার্টনারদের সাথে প্রকাশ্যে যোগাযোগ করা যায় না। তাই তিনি সবুজ পাসপোর্টে ব্যাংকক গিয়েছিলেন। সংবাদ কর্মীরা এই সংবাদটি প্রকাশ করলে পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।

৩. ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে পদোন্নতি পেয়ে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পান। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সৎ আবুল ভাইয়ের সততা সম্পর্কে ১০০% নিশ্চিত থাকায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নামের নতুন একটা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে তার হাতে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু নিন্দুকরা (যারা দেশপ্রেমিক লোকদের একদম পছন্দই করতে পারেনা) এবং সরকারের বিরুদ্ধে দেশি বিদেশী চক্রান্তকারীরা এতে মোটেও খুশি হতে পারেনি। তাই তারা তখনও আবুল ভাইয়ের পদত্যাগ দাবি অব্যাহত রাখল। দেশের স্বার্থ বিরোধী ঐসব নিন্দুকদের চাপের মুখে অবশেষে গত ২৩ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। দীর্ঘ নাটকীয়তার এক মাস পর গত ২৩ আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমান সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং ঐ দিন থেকেই (২৩ জুলাই) থেকে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর করা হয়েছে।

এই তিনটি বিষয়ের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর সব থেকে আস্থাভাজন সাবেক মন্ত্রী সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেনের সততা ও দেশপ্রেমের আরও একটি ইনডিকেটরের সন্ধান মিলেছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের গতকালের একটি লেখা থেকে। তাঁর লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দু’চার মিনিটের জন্য আমাদের পদ্মা আবুল ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকায় গেলে তিনি কোথায় ওঠবেন, কোথায় বসবেন এই বিবেচনা করে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রীর অতিথিশালা হিসেবে বিশাল বাড়ি বানিয়েছেন এবং এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্যই রেখে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সে বাড়িতে একদিনও কেউ বসবাস করেনি।


গত ২৬ জুলাই, ২০১২ লণ্ডনে বাংলা মিডিয়াকর্মীদের সঞগে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এর আগে দুদকও আবুল ভাইকে আরেকখানা সার্টিফিকেট দুয়েছিল। সেটা ছিল সততার সার্টিফিকেট। ঐ সার্টিফিকেট পেয়ে আবুল ভাই ঘোষণা দিয়েছিলেন সততার সার্টিফিকেট সম্ভবত একমাত্র আমারই আছে। ভাগ্যবান ব্যক্তি। দুদক কর্তৃক সততা ও রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক দেশপ্রেমিক এর সার্টিফিকেট পেলেন তিনি।

এই দেশে এমন সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের জন্য মন্ত্রী পরিষদে জায়গা হতে পারেনি শুধুমাত্র সরকার বিরোধীদের জন্যই।

সত্যিই এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক সৈয়দ আবুল হোসেনকে আমরা কোনো দিনই ভুলতে পারবনা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৪৫
৫টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×