"সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ইন্টিগ্রিটি, ভদ্রতা,নম্রতা এগুলো আমার জীবনের অঙ্গীকার ও অহঙ্কার। এ অহঙ্কার নিয়ে আমি আমার বাকি জীবন থাকতে চাই" -– 'সৈয়দ আবুল হোসেন
Click This Link
আমাদের সবার প্রিয় সদা হাস্যোজ্জল সৈয়দ আবুল হোসেন গতকাল দুপুর সাড়ে ১২টায় দুদক কার্যালয় থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে উক্তিটি করেছেন।
সততা, স্বচ্ছতা, জবাবদিহি, ইন্টিগ্রিটি, ভদ্রতা,নম্রতা এগুলো যার জীবনের অঙ্গীকার ও অহঙ্কার তার সম্পর্কে সামান্য জেনে নেওয়াই কি সমীচীন নয়? এমন একজন ব্যক্তির জীবনীকে প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্য বইয়ে সংযুক্ত করা যেতে পারে। তা না হলে এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তি সম্পর্কে ভবিষ্যত প্রজন্ম জানবে কি করে? প্রাথমিক অথবা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঠ্য বইয়ে এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক ব্যক্তির জীবনী সংযুক্ত করলে তার সম্পর্কে জানতে পারবে ভবিষ্যত প্রজন্ম। কিন্তু আমরা যারা ঐ গণ্ডি পার হয়ে এসেছি তারা কি জানব না? তাই যারা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের গণ্ডি পার হয়ে এসেছি তাদের জানানোর জন্যই পদ্মা বুল ভাই সম্পর্কে যতটুকু আমার জানা আছে তা তুলে ধরার চেষ্টা করছি।
১. তাঁর সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিয়ে জানতে পারলাম স্বাধীনতার ঠিক পরপরই তিনি পরিচিতি হয়ে ওঠেছিলেন। স্বাধীনতা পরবর্তী মুজিব সরকারের(’৭২-‘৭৫) আমলেই তিনি একজন সৎ মানুষ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছিলেন। তখন তিনি আওয়ামী লীগ করতেন না। কিন্তু তিনি টিসিবির ব্যবসা করতেন। তখন টিসিবির ব্যবসা কেলেঙ্কারির জন্য ঐ সরকারের আমলে গ্রেফতারও হয়েছিলেন। এরপর বাংলাদেশে দুর্নীতিকে দ্বিতীয় দফায় প্রাতিষ্ঠানিকীকরণের জনক এরশাদের আমলে তার উত্থান ঘটে।
Click This Link
২. ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনা সরকার প্রথম সরকার গঠন করার পর তিনি স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পান। ঐ সময় তিনি ব্যবসায়িক কাজের জন্য সরকারি লাল পাসপোর্টের বাইরে সবুজ পাসপোর্ট ব্যবহার করতেন। লাল পাসপোর্টে বিদেশ গেলে অনেক প্রোটোকল মেইন্টেইন করতে হয়, ব্যবসায়ী পার্টনারদের সাথে প্রকাশ্যে যোগাযোগ করা যায় না। তাই তিনি সবুজ পাসপোর্টে ব্যাংকক গিয়েছিলেন। সংবাদ কর্মীরা এই সংবাদটি প্রকাশ করলে পাসপোর্ট কেলেঙ্কারির দায় মাথায় নিয়ে তিনি পদত্যাগ করতে বাধ্য হন।
৩. ২০০৮ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে শেখ হাসিনা সরকার পুনরায় ক্ষমতায় এলে পদোন্নতি পেয়ে তিনি যোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের পূর্ণ মন্ত্রিত্ব পান। কিন্তু পদ্মা সেতু প্রকল্পের দুর্নীতির অভিযোগ ওঠার পর সৎ আবুল ভাইয়ের সততা সম্পর্কে ১০০% নিশ্চিত থাকায় তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি নামের নতুন একটা মন্ত্রণালয় সৃষ্টি করে তার হাতে সেই মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়। কিন্তু নিন্দুকরা (যারা দেশপ্রেমিক লোকদের একদম পছন্দই করতে পারেনা) এবং সরকারের বিরুদ্ধে দেশি বিদেশী চক্রান্তকারীরা এতে মোটেও খুশি হতে পারেনি। তাই তারা তখনও আবুল ভাইয়ের পদত্যাগ দাবি অব্যাহত রাখল। দেশের স্বার্থ বিরোধী ঐসব নিন্দুকদের চাপের মুখে অবশেষে গত ২৩ জুলাই তিনি প্রধানমন্ত্রীর কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিতে বাধ্য হন। দীর্ঘ নাটকীয়তার এক মাস পর গত ২৩ আগস্ট মহামান্য রাষ্ট্রপতি মো.জিল্লুর রহমান সৈয়দ আবুল হোসেনের পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন এবং ঐ দিন থেকেই (২৩ জুলাই) থেকে তাঁর পদত্যাগ কার্যকর করা হয়েছে।
এই তিনটি বিষয়ের বাইরেও প্রধানমন্ত্রীর সব থেকে আস্থাভাজন সাবেক মন্ত্রী সংসদ সদস্য সৈয়দ আবুল হোসেনের সততা ও দেশপ্রেমের আরও একটি ইনডিকেটরের সন্ধান মিলেছে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বীর উত্তমের গতকালের একটি লেখা থেকে। তাঁর লেখায় তিনি উল্লেখ করেছেন, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী দু’চার মিনিটের জন্য আমাদের পদ্মা আবুল ভাইয়ের নির্বাচনী এলাকায় গেলে তিনি কোথায় ওঠবেন, কোথায় বসবেন এই বিবেচনা করে কয়েক কোটি টাকা খরচ করে প্রধানমন্ত্রীর অতিথিশালা হিসেবে বিশাল বাড়ি বানিয়েছেন এবং এটা শুধু প্রধানমন্ত্রীর জন্যই রেখে দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত সে বাড়িতে একদিনও কেউ বসবাস করেনি।
গত ২৬ জুলাই, ২০১২ লণ্ডনে বাংলা মিডিয়াকর্মীদের সঞগে আলাপচারিতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদত্যাগী মন্ত্রী সৈয়দ আবুল হোসেনকে দেশপ্রেমিক সার্টিফিকেট দিয়েছেন। এর আগে দুদকও আবুল ভাইকে আরেকখানা সার্টিফিকেট দুয়েছিল। সেটা ছিল সততার সার্টিফিকেট। ঐ সার্টিফিকেট পেয়ে আবুল ভাই ঘোষণা দিয়েছিলেন সততার সার্টিফিকেট সম্ভবত একমাত্র আমারই আছে। ভাগ্যবান ব্যক্তি। দুদক কর্তৃক সততা ও রাষ্ট্রের প্রধান নির্বাহী কর্তৃক দেশপ্রেমিক এর সার্টিফিকেট পেলেন তিনি।
এই দেশে এমন সৎ ও দেশপ্রেমিক লোকদের জন্য মন্ত্রী পরিষদে জায়গা হতে পারেনি শুধুমাত্র সরকার বিরোধীদের জন্যই।
সত্যিই এমন একজন সৎ ও দেশপ্রেমিক সৈয়দ আবুল হোসেনকে আমরা কোনো দিনই ভুলতে পারবনা।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই এপ্রিল, ২০১৩ সকাল ৮:৪৫

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



