সত্যি বলছি। গত সপ্তাহে খাগড়াছড়ি গিয়ে সিস্টেমে ঢুকে জীবনে প্রথম বাঁশ খেলাম।
তিন দিনের অফিসিয়াল কাজে গত ২৪-০৯-২০১২ তারিখে অফিসের কাজে খাগড়াছড়ি গিয়েছিলাম। দ্বিতীয় দিন গত বুধবার দুপুরের খাওয়ার সময় হতেই আমার এক সহকর্মী বললেন- দাদা, আমরা আজ অফিসে লাঞ্চ করব না। আপনাকে নিয়ে বাইরে খেতে যাব; ড্রাইভারকে ফোন করে আসতে বলেন। যথা সময়ে ড্রাইভার গাড়ি নিয়ে হাজির হলেন। আমার সহকর্মী ড্রাইভারের পাশে বসে কোন দিকে যেতে হবে তার দিক নির্দেশনা দিতে লাগলেন। চলতে চলতে কাগড়াছড়ি শহরের 'পানখায়া পাড়া' নামক স্থানে এসে একজায়গায় ড্রাইভারকে গাড়ি থামাতে বললেন। জিজ্ঞাসা করলাম, দাদা এখানে কোথায় গাড়ি থামালেন? এখানে তো কোন রেস্টুরেন্ট নেই, এটা তো দেখছি আবাসিক এলাকা; কারও বাড়িতে নিয়ে খাওয়াবেন নাকি? একটি ছোট ঘরের বেড়ার সাথে ঝুলানো একটা সাইন বোর্ড দেখিয়ে তিনি বললেন, এই সিস্টেম রেস্টুরেন্টে আমরা লাঞ্চ করব।
রেস্টুরেন্টটির ভিতরে ঢুকলাম। খুবই সুন্দর নিরিবিলি, একেবারেই ঘরোয়া পরিবেশ। অনেক মানুষ লাঞ্চ করছেন। রেস্টুরেন্টের এক পাশে একটি কক্ষে পান-সুপারি খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। লাঞ্চ শেষ করে কেউ কেউ পাশের কক্ষে বসে পান-সুপারি খাচ্ছেন।
রেস্টুরেন্টের একটি টেবিলে বসলাম। খাবারের অর্ডার দেওয়া হলো। ভাতের সাথে বিভিন্ন রকমের সবজি, ভাজি, ভর্তা ইত্যাদির সাথে অপরিচিত একটি সবজি দেখতে পেয়ে আমার সহকর্মীকে জিজ্ঞাসা করলাম- দাদা এটা কী? তিনি হাসতে হাসতে জিজ্ঞাসা করলেন- দাদা এই সবজি কখনো খান নি?
বললাম, মনে হচ্ছে এর আগে কখনো খাইনি; একটু বলেন না এটা কী!
তিনি বললেন, এটা বাঁশের সবজি। কচি বাঁশ আর পুঁই শাঁকের ডাটা একত্রিত করে সবজি তৈরি করেছে। পাহাড়ি এলাকায় এটা খুবই জনপ্রিয় একটা সবজি।
নতুন একটা সবজি পেয়ে এর স্বাদ নিতে ইচ্ছে করল। তাই সবজিটা না খেয়ে রেস্টুরেন্ট থেকে বের হতে পারলাম না। এই জীবনের প্রথম বাঁশ খেলাম।
রেস্টুরেন্ট থেকে বের হয়ে ফান করে আমার সহকর্মীকে বললাম- দাদা আপনাদের পাহাড়ি এলাকায় আসলাম আর সিস্টেমে ফেলে আমাকে বাঁশ খাওয়ালেন?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



