১৯৯৪-৯৫ সালে পাঠকের জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা একটি জাতীয় দৈনিকের নাম ছিল 'দৈনিক জনকণ্ঠ'। ১৯৯৬ সালের জুন মাস থেকে দৈনিকটির অধঃপতন শুরু হওয়ায় কিছু জনপ্রিয় লেখক যারা এখানে নিয়মিত লিখতেন তারা ঘোষণা দিয়েই সরে গেলেন(এখনো তারা তাদের বিভিন্ন লেখায় এখান থেকে চলে যাওয়ার কারণ উল্লেখ করেন।) ফলাফল পত্রিকাটির জনপ্রিয়তায় ধ্বস নামল। সবকিছুর মূলে কারণ একটাই সত্যমিথ্যা যাচাই না করে মনগড়া যা খুশি তাই প্রকাশ করে একটি দলের চাটুকারিতায় ব্যস্ত হয়ে পড়া। বর্তমানে কিছু ব্যক্তি যাদের লেখার গুণ বিবেচনায় অন্যান্য দৈনিকগুলোতে স্থান পায়না, তাদের শেষ আশ্রয়স্থল 'দৈনিক জনকণ্ঠ'। এজন্য পত্রিকাটি ছাপানো নাম 'দৈনিক জনকণ্ঠ' হলেও বিভিন্ন জন দৈনিকটিকে বিভিন্ন নামে ডাকেন- "দৈনিক জঘন্য কণ্ঠ", "দৈনিক জন কষ্ট", "দৈনিক জঘন্য কষ্ট" ইত্যাদি ইত্যাদি।
আমি যে প্রতিষ্ঠানে চাকরি করি গত কিছুদিন আগে সেই প্রতিষ্ঠানে কিছু সংখ্যক হিসাব রক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞাপণ দেওয়া হয়েছিল। বেতন উল্লেখ করা হয়েছিল তের হাজার টাকার সামান্য বেশি। উক্ত পদের জন্য যারা আবেদন করেছিলেন তাদের মধ্যে যারা লিখিত পরীক্ষায় পাশ করলেন তাদেরকে মৌখিক পরীক্ষার জন্য ডাকা হলো। আমিও সেই ভাইভা বোর্ডে ছিলাম। একজন প্রার্থী পাওয়া গেল যিনি বর্তমানে 'দৈনিক জনকণ্ঠে' হিসাবরক্ষক হিসেবে চাকরিরত। জিজ্ঞাসা করলাম, আপনি বর্তমানে যে পত্রিকাটিতে আছেন সেই পত্রিকার তো এখন স্বর্ণ যুগ; এই সামান্য বেতনের জন্য আপনি আমাদের প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতে চাচ্ছেন কেন?
তিনি বললেন, পত্রিকাটির খুবই দুর্দিন যাচ্ছে। জিজ্ঞাসা করলাম, যেমন? তিনি বললেন, চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে সর্বশেষ বেতন পেয়েছিলাম; এর পর থেকে কর্মীদের বেতন দিতে পারছেনা কর্তৃপক্ষ। এক সময়ের আমার প্রিয় সেই দৈনিকটির করুণ পরিণতি সম্পর্কে জানতে আগ্রহ জাগল। তাই জিজ্ঞাসা করলাম, কেন এই পরিণতি? তিনি বললেন, বর্তমানে এই পত্রিকাটিতে যে পরিমাণ উপসম্পাদকীয় ও সস্পাদকীয় লেখক আছেন তার চেয়ে পত্রিকাটির পাঠক সংখ্যা কম। তাছাড়া, বর্তমানে এই পত্রিকাটিতে যারা লেখেন, হয়তো তাদের লেখা মানুষ গ্রহণ করেন না; তাই পত্রিকাটির বিক্রি সংখ্যা দিন দিন শুধু কমছেই।
কিছুটা বুঝতে পারলাম, মানুষের নামকে ব্যঙ্গ করে, কোন নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কোন কোন ক্ষেত্রে সত্যের লেশ মাত্র না থাকলেও মনগড়া প্রতিবেদন তৈরি করে, সংকীর্ণ দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োগ করে নিম্ন মানের লেখকদের লেখা নিয়মিত প্রকাশ করে, নির্দিষ্ট কারো চাটুকারিতা করে আর যাই করা যাক, মানুষের হৃদয়ে স্থান করে নেওয়া যায়না।
অন্যদের নাম নিয়ে ব্যঙ্গ করতে করতে পত্রিকাটির ব্যঙ্গাত্বক নামই আজ জনপ্রিয় হয়ে ওঠেছে। তাই তো পত্রিকাটির নাম শুনলেই অনেকেই বলে ওঠেন, “ও, দৈনিক জঘন্য কণ্ঠ, দৈনিক জন কষ্ট, দৈনিক জঘন্য কষ্ট ইত্যাদি ইত্যাদি।”
ভাগ্যের কী নির্মম পরিণতি- অন্যকে নিয়ে ব্যঙ্গ করায় শীর্ষে থাকা ব্যঙ্গকারীই এখন প্রতিনিয়ত অন্যের ব্যঙ্গের শিকার।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



