somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রামু প্রসঙ্গঃ ইন্ধন দিয়েছে আওয়ামী লীগ; প্রশাসন ছিল নীরব দর্শক!!- 'অধিকার' এর প্রতিবেদন।

১৮ ই অক্টোবর, ২০১২ সকাল ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কক্সবাজারের রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ায় সংখ্যালঘু বৌদ্ধ ও হিন্দু সম্প্রদায়ের উপাসনালয়-আবাসস্থলে বর্বরোচিত; ইতিহাসের ন্যাকারজনক ও ঘৃণিত হামলার মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের রামু উপজেলা কমিটির সভাপতি আনসারুল হক ভুট্টো, যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিম, ফতেখাঁরপুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজিজুল হক, রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজলসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সদস্যরা। আর এ ঘটনা প্রতিরোধে স্থানীয় প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করেছে। -সরেজমিন অনুসন্ধানে এ তথ্য পেয়েছে মানবাধিকার সংগঠন "অধিকার" ।

অধিকারের তথ্যানুসন্ধানী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২৯ সেপ্টেম্বর রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টায় কক্সবাজার জেলার রামু উপজেলার হাইটুপি গ্রামের বৌদ্ধ যুবক উত্তম কুমার বড়ুয়ার ফেসবুক প্রোফাইল থেকে পবিত্র কোরআনের প্রতি অবমাননামূলক একটি বিতর্কিত ছবি শেয়ার করা হয়। উত্তম কুমার ফেসবুক বন্ধুর তালিকায় বাংলাদেশ আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগের রামু উপজেলা কমিটির সভাপতি আনসারুল হক ভুট্টোও ছিলেন। তিনি ফেসবুকে মুসলমানদের ধর্মগ্রন্থ আল-কোরআনের অবমাননাকর ছবিটি দেখতে পেয়ে মোবাইল ফোনে উত্তমের সঙ্গে কথা বলেন। সেই সময় ভুট্টোর সঙ্গে উত্তমের উত্তপ্তবাক্য বিনিময় হয়। এরপর পবিত্র কোরআনের অবমাননাকারী হিসেবে উত্তম বড়ুয়ার শাস্তি দাবি করে রাত ৯টায় ভুট্টো নিজে নেতৃত্ব দিয়ে একটি মিছিল বের করেন। মিছিল শেষে রামুর চৌমহনী চত্বরে একটি সমাবেশ করা হয়। সমাবেশে তারা উত্তম বড়ুয়ার শাস্তি দাবি করেন। তাছাড়া এই সমাবেশ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর রামুতে হরতালেরও ঘোষণা দেয়া হয়। সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন যুবলীগ নেতা নুরুল ইসলাম সেলিম, ফতেখাঁরপুল ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আজিজুল হকসহ স্থানীয় আওয়ামী লীগের সদস্যরা। সমাবেশ শেষে আবারো মিছিল বের হলে তা রামুর বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি যখন বড়ুয়াপাড়ার দিকে প্রবেশ করে, তখন মিছিলে যোগ দেন রামু উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান সোহেল সরওয়ার কাজল। সোহেল সরওয়ার কাজলের পেছনে পেছনে কিছু যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে আসে। হঠাৎ করেই মিছিলে কয়েক হাজার মানুষ যোগ দেয় এবং বড়ুয়াপাড়ায় অবস্থিত বিহারগুলোতে প্রথমে লুটপাট, ইট-পাথর নিক্ষেপ ও এরপর অগি্নসংযোগ করে। এই ঘটনার পর পরই কক্সবাজারের রামু উপজেলার সঙ্গে সঙ্গে উখিয়া উপজেলা ও টেকনাফ উপজেলার বিহারগুলোও একযোগে আক্রমণের শিকার হয়। হামলাকারীরা বৌদ্ধবিহার ছাড়াও হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বাড়ি লুটপাট, ভাংচুর ও অগি্নসংযোগ করে বলে অভিযোগ পাওয়া যায়।

সূত্রঃ http://www.bangladesh.net/jjdin.htm

অধিকারের এই প্রতিবেদনের সত্যতা নিশ্চিত হওয়ার জন্য এই সংশ্লিষ্ট কিছু তথ্য উপস্থাপন করা যেতে পারে। আওয়ামী লীগ মুখে নিজেদেরকে ধর্ম নিরপেক্ষ দল দাবি করলেও মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় থেকেই আজ পর্যন্ত বাংলাদেশের সংখ্যা লঘুরার তাদের দ্বারাই আক্রান্ত ও নির্যাতিত হয়েছে বেশি। এই তো কয়েকদিন আগে সঞ্জীব চৌধুরী লিখেছেন,

“মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে অনেক অসহায় হিন্দু পরিবার তাদের স্থাবর সম্পত্তি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির নামে লিখে দিয়েছিল। অনেক ক্ষেত্রে জোর করে লিখিয়ে নেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর প্রবাসী মুজিবনগর সরকার ঘোষণা করে যে, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে সম্পাদিত কোনও দলিল আইনের চোখে বৈধতা পাবে না। এ ঘোষণা স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে বারবার প্রচার করা হয়েছিল।
দেশ শত্রুমুক্ত হওয়ার পর দেখা গেল, প্রায় সব ক্ষেত্রে দলিলদাতারা হচ্ছেন হিন্দু বা বিহারী, আর দলিল-গ্রহীতারা হচ্ছেন আওয়ামী বলয়ের নেতা-কর্মী। শেষ পর্যন্ত মুক্তিযুদ্ধকালে জাতির কাছে করা অঙ্গীকার বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বাধীন সরকার পালন করেনি। এ সব দলিল বৈধ হয়ে গিয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ-চলাকালে পাকিস্তানি বাহিনীর গোলার আঘাতে ঐতিহ্যবাহী রমনা কালীবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৭২ সালে এই ভাঙা মন্দিরে কালীপূজা হয়েছিল। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে গাজী গোলাম মোস্তফা এবং সুধাংশু শেখর হালদারের নেতৃত্বে মন্দিরটি বুলডোজার দিয়ে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়।

১৯৭২ সালের অক্টোবরে স্বাধীন বাংলাদেশে প্রথম দুর্গাপূজা চলাকালে অষ্টমী পূজার দিন টেকনাফ থেকে তেঁতুলিয়া পর্যন্ত প্রায় প্রতিটি পূজা-মণ্ডপে হামলা ও প্রতিমা ভাঙার ঘটনা ঘটে। প্রত্যেক ঘটনায় হামলাকারীরা "হিন্দু যদি বাঁচতে চাও বাংলাদেশ ছেড়ে যাও" স্লোগান দেয়।

তৎকালীন যুবলীগের এক নেতা মন্টু পোদ্দার পরে বলেছেন, যুবলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শেখ ফজলুল হক মণির নির্দেশে ওই হামলা হয়েছিল। হামলার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় শেখ মণির ‘বাংলার বাণী’ পত্রিকার অফিসে এক বৈঠকে।”

বর্তমান সময়ে ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকেই এই সংখ্যা লঘুদের উপর নির্যাতন, তাদের ভূমি দখল, মন্দিরে প্রতিমা ভাঙ্গচুরসহ এমন অসংখ্য ঘটনাবলির সচিত্র প্রতিবেদন দৈনিকগুলোতে প্রকাশিত হয়েছে।

মুখে স্যাকুলার বুলি উড়িয়ে এ দেশের মানুষকে বোকা বানানোর চেষ্টা করে রাজনৈতিক ফায়দা নেওয়ার সুযোগ খুঁজলেও রামু, উখিয়া, টেকনাফ এবং চট্টগ্রামের পটিয়ার ঘটনায় বুঝি প্রকাশ পেয়ে গেল স্যাকুলার(!!!) আওয়ামী লীগের আসল চরিত্র!
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইজিবাইক চলাচলের প্রকৃত কর্তৃপক্ষ কে?

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ০৮ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৩৪



দেশের বিভিন্ন শহর ও গ্রামে ইজিবাইক নামে একটি যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু এর পরিচালনা, লাইসেন্সিং এবং চলাচলের ক্ষেত্র সম্পর্কে সুস্পষ্ট ও সর্বজনবিদিত কোনো নীতিমালা সাধারণ মানুষের কাছে দৃশ্যমান নয়।

শহরের ভেতরে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন কথনিকা-৪৮৭৩-৭৪

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ০৮ ই জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৯

মন কথনিকা-৪৮৭৩
তোমার আমার মতামতে আকাশ পাতাল সীমা
আমার বুলি বরফ জলের তোমার যেন বোমা,
তুমি বলো রোদের তেজে আমি বর্ষার মতন
বুকের ভিতর বন্ধু বুঝি পাথর পুষো যতন।

মন কথনিকা-৪৮৭৪
পিঠে ব্যথা ভাল্লাগে না, মন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিলেন মমতার দলকে?

লিখেছেন ...নিপুণ কথন..., ০৯ ই জুন, ২০২৬ রাত ১:২২


শেখ হাসিনাই ধ্বসিয়ে দিয়েছেন মমতা ব্যানার্জিকে। কিভাবে? দুই দফায় পানিচুক্তি হতে দেননি মমতা। কংগ্রেসের মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন এবং বিজেপির Narendra Modi প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীন দুবার দুজনই বাংলাদেশ সফরে এসেছিলেন, দুবারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে চড়া আর মাউন্টেনিয়ারিং: এক নয়

লিখেছেন মুনতাসির, ০৯ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১০:০৮




আজকাল পাহাড়ে ওঠা অনেক সহজ হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রায় প্রতিদিনই দেখা যায় কেউ না কেউ কোনো পাহাড়ের চূড়ায় দাঁড়িয়ে ছবি তুলছেন। ট্রেইল ধরে হেঁটে, কখনো দড়ি ধরে, কখনো গাইডের সাহায্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

লিখেছেন মোস্তফা কামাল পলাশ, ০৯ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৪৭



“আবহাওয়াবিদ” মোবাইল অ্যাপের শুভ উদ্বোধন: বুধবার, ১০ জুন ২০২৬

আনন্দের সঙ্গে জানাচ্ছি যে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষের কাছে সহজে আবহাওয়া পূর্বাভাস এবং আবহাওয়া-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতামূলক তথ্য পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে abohawa.com... ...বাকিটুকু পড়ুন

×