somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কবি জামাই

১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১২:৫৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

তার ভোলাভালা মেয়েটাকে ভাগিয়ে নিয়ে গেছে যে ছেলেটা, সে কবিতা লিখে, তিনি লোকমুখে শুনেছেন, তবে তার যে বই বের হতে পারে, ছাপার অক্ষরে লেখা উঠতে পারে, তিনি কোনদিন কল্পনাও করেন নাই। ছোটবেলায় তার প্রিয় কবি ছিল জসীমউদ্দিন এবং এখনো, এই বয়সে- তার বোধহয় জন্ম হয়েছে ৫৪ সালে, আম্মা বলতেন, তিনি জসীমউদ্দিনের কিছু কবিতা মুখস্থ বলতে পারেন।
কবি জামাইয়ের বই প্রকাশের খবর শুনে, তিনি নাখোশ হওয়ার চেষ্টা করেছিলেন এবং স্বভাবসুলভ গম্ভীর মুখে বসে ছিলেন। তারপর তার স্ত্রী, যাকে তিনি বিয়ে করেছিলেন ২য় স্ত্রীর মৃত্যুর পর এবং তার একমাত্র মেয়েটি যার ঔরসেই জন্মেছিল, বলেছিল, “পালিয়ে বিয়ে করেছে তো কী হয়েছে? খারাপ ছেলের হাতে তো পড়ে নাই। বই প্রকাশ করেছে। কয়জনের বই প্রকাশ পায়?”
তিনি জবাব দিতে পারেন নাই, ইচ্ছাও ছিল না। তিনিও ভেবেছিলেন, তার প্রতিদ্বন্দ্বী শরিফুল আবেদ, যার কাছে তিনি বরাবরই হেরে আসছেন, তার জামাই সরকারি চাকরি করে, যা নিয়ে শরিফুল আবেদের গৌরবের সীমা নাই, সেও তো বই লিখতে পারে নাই! বই লেখা যে খুব কঠিন কাজ, বই লেখা যে যা-তা লোকের কর্ম নয়, তিনি স্বীকার করেছিলেন বৌয়ের কথায়, মনে মনে। এবং গৌরব বোধ করেছিলেন।
তিনি তাই বইমেলা এসেছেন জামাইয়ের বই এর খোঁজে, সাথে এসেছে তার সর্বক্ষণের সাগরেদ শফিক। যদিও ভেগে যাওয়ার পর মেয়ের মুখদর্শন তিনি করেন নাই, কথাও বলেন নাই, এমনকি ফোনেও, জামাইয়ের বইটি সংগ্রহের লোভ তিনি সামলাতে পারেন নাই, শরিফুল আবেদকে ছলেবলে বইটা দেখিয়ে তার এতদিনের অপমানের শোধ নেয়ার একটা সুপ্ত ইচ্ছাও তার ছিল।
বইটির নাম তিনি জানতেন না, তার সাগরেদ শফিক শুধু প্রকাশনীর নামটাই জেনে নিতে পেরেছিল। নির্দিষ্ট স্টলে গিয়ে জামাইয়ের নামটি বলতেই চশমাআঁটা গোলগাল মুখের মেয়েটি অধিকতর গোলগাল হেসে বলল, “ওর একটা বই এসেছে। খুব ভাল চলছে। দিচ্ছি…”
জামাইয়ের বই ভালো বিক্রি হচ্ছে শুনে তার মুখে গর্বের হাসি ফুটে উঠে, তবে তিনি “আমি কবির শ্বশুর” বলে পরিচয় দেয়ার লোভ ও হাসিটাকে সামলে রাখেন।
মেয়েটি বইটি হাসিমুখে তার হাতে দিলে, তিনি বইয়ের নামের দিকে তাকিয়ে থাকেন এবং তার হাসিটি মিলিয়ে যায়। বইটির নাম, তিনি বিশ্বাস করতে পারেন না, “জিহ্বা দিয়ে চেটে চেটে খা!”।
নামটা দেখে, নামের নিচে তার জামাইয়ের নামটা বারবার পড়ে, হতভম্ভ হবেন নাকি রেগে যাবেন বুঝতে না পেরে তিনি সাগরেদের দিকে তাকান এবং দেখেন, শফিক তার দিকে তৈলাক্ত মুখে তাকিয়ে আছে। তিনি বইয়ের পাতা উল্টাতে থাকেন, উৎসর্গ পৃষ্ঠায় নিজের নামটি দেখে আবার থমকে যান এবং মুখের হাসিটা আবার ফুটে উঠতে চাইলে সেটা নিয়ন্ত্রন করেন।
উৎসর্গপাতায় নিজের নামটি তিনি বারবার পড়েন, এবং কবি জামাইয়ের অছিলায় তার নামটিও ছাপানো হয়েছে দেখে সুখবোধ করেন। মেয়ে ও কবি জামাইকে ক্ষমা করে দেয়ার কথাও একবার তার মাথায় চট করে ঘুরে যায়।
তিনি প্রথম কবিতাটা পড়ার প্রস্তুতি নেন।
প্রথম পৃষ্ঠার ছাপানো শব্দগুলো তার চোখে ভাসে এবং তিনি উচ্চস্বরে আবৃত্তির মতো করে পড়েন, “তোমার স্তন ধরে ঝোলাঝুলি করছে ছ'টা সাতাশ বছরের শিশু…”
তিনি আর পড়তে পারেন না, শক্ত চোখে আবার তিনি সাগরেদের দিকে তাকান এবং শফিক তার চোখ দেখে ভয়ে কুকুরের মত জিহ্বা দিয়ে ঠোঁট চাটে। পৃষ্ঠা উল্টালে 'পরস্ত্রী' নামের একটা কবিতা তার চোখে পড়ে এবং তিনি আবার পড়েন,
স্ত্রীর পাশে শুয়ে তোমাকে দেখি আর হস্তমৈথুন করি রোজ
প্রেসক্রিপশনে প্যারাসিটামল নেই, তুমি আমার রোগমুক্তির ডোজ…”

তিনি নির্বাক ও লজ্জিত হয়ে কিচ্ছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন। তারপর ক্ষিপ্ত হয়ে বইটি ডিসপ্লেতে ছুড়ে মেরে গটগট করে হাঁটা শুরু করেন এবং সাগরেদটি কিছু বুঝতে না পেরে হতবুদ্ধি হয়ে তাকে অনুসরণ করে।
ছবিসূত্রঃ CLEANPNG
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২০ রাত ১:৩৩
১০টি মন্তব্য ১০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

দু'টো মানচিত্র এঁকে, দু'টো দেশের মাঝে বিঁধে আছে অনুভূতিগুলোর ব্যবচ্ছেদ

লিখেছেন মোহাম্মদ গোফরান, ২৮ শে মার্চ, ২০২৪ রাত ১২:৩৪


মিস ইউনিভার্স একটি আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতার নাম। এই প্রতিযোগিতায় বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সুন্দরীরা অংশগ্রহণ করলেও কখনোই সৌদি কোন নারী অংশ গ্রহন করেন নি। তবে এবার রেকর্ড ভঙ্গ করলেন সৌদি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমার প্রফেশনাল জীবনের ত্যাক্ত কথন :(

লিখেছেন সোহানী, ২৮ শে মার্চ, ২০২৪ সকাল ৯:৫৪



আমার প্রফেশনাল জীবন বরাবরেই ভয়াবহ চ্যালেন্জর ছিল। প্রায় প্রতিটা চাকরীতে আমি রীতিমত যুদ্ধ করে গেছি। আমার সেই প্রফেশনাল জীবন নিয়ে বেশ কিছু লিখাও লিখেছিলাম। অনেকদিন পর আবারো এমন কিছু নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমি হাসান মাহবুবের তাতিন নই।

লিখেছেন ৎৎৎঘূৎৎ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৪ দুপুর ১:৩৩



ছোটবেলা পদার্থবিজ্ঞান বইয়ের ভেতরে করে রাত জেগে তিন গোয়েন্দা পড়তাম। মামনি ভাবতেন ছেলেটা আড়াইটা পর্যন্ত পড়ছে ইদানীং। এতো দিনে পড়ায় মনযোগ এসেছে তাহলে। যেদিন আমি তার থেকে টাকা নিয়ে একটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুক্তিযোদ্ধাদের বিবিধ গ্রুপে বিভক্ত করার বেকুবী প্রয়াস ( মুমিন, কমিন, জমিন )

লিখেছেন সোনাগাজী, ২৮ শে মার্চ, ২০২৪ বিকাল ৫:৩০



যাঁরা মুক্তিযদ্ধ করেননি, মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে লেখা তাঁদের পক্ষে মোটামুটি অসম্ভব কাজ। ১৯৭১ সালের মার্চে, কৃষকের যেই ছেলেটি কলেজ, ইউনিভার্সিতে পড়ছিলো, কিংবা চাষ নিয়ে ব্যস্ত ছিলো, সেই ছেলেটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

শাহ সাহেবের ডায়রি ।। সাংঘাতিক উস্কানি মুলক আচরন

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৮ শে মার্চ, ২০২৪ সন্ধ্যা ৭:০৪



কি সাঙ্ঘাতিক উস্কানিমুলক আচরন আমাদের রাষ্ট্রের প্রধানমন্ত্রীর । নাহ আমি তার এই আচরনে ক্ষুব্ধ । ...বাকিটুকু পড়ুন

×