somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভালবাসা নয়, মেয়েটির পছন্দ অর্থ

১৪ ই জুন, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ভালবাসা নাকি অন্ধ। অনেক শুনেছি। টিভি কিংবা সিরিয়ালেও অহরহ এমনটাই দেখি। তবে আমার ভালবাসা অন্ধ কিনা তা জানিননা। এটুকু বুঝি, সে ছাড়া আমার জীবন পরিপূর্ণ নয়।

জীবনে ইনজেকশনের সুচ দেখলে আমার ১০০ ডিগ্রি জ্বর চলে আসে। রক্ততো দেকতেই পারিনা। কিন্তু কি করব, তাকে এতটাই ভালবাসি যে একবার রক্ত না ঝড়িয়ে পারলাম না। তার জন্মদিনের নির্ধারিত দিনের আগের থেকেই জানিয়ে রেখেছিলমা- তোর জন্মদিনে কিন্তু আমার জন্য সামান্য কিছু সময় রাখবি। আমি তোর সাথে দেখা করব। জাস্ট কেক কাটবি আর চলে যাবি। সে আসেনি। কিন্তু আমি কেক আর মোমবাতি নিয়ে সন্ধ্যায় নির্ধারণকৃত জায়গায় ঠিকই গিয়েছিলাম। তাকে পাইনি। অভিমানে কেক আর মোমবাতি ছুড়ে ফেলেছিলাম ধানমন্ডি লেকের পাশে। পরে রুমে ফিরে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে তার নাম লিখেছিলাম। যা আজও সযত্নে আমার মানিব্যাগে রয়েছে।

ভালবাসার গল্পটার শুরু ২০০৯-এর দিক। ওর আসল নাম বললে সমস্যা হতে পারে। তাই বলতে চাইনা। তবে আমি ওর একটা নাম দিয়েছিলাম। আমার মনের আকাশে রঙ্গিন প্রজাপ্রতি। আমি ওকে বাটারফ্লাই বলে ডাকতাম। যাই হউক, আমাদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল মুঠোফোনের মাধ্যমে, বন্ধুত্ব দিয়ে। আমিই ওকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ব্যস আমার বন্ধুত্ব গ্রহণও করেছিল। মাঝে কিছুটা সময় বেশ আনন্দেই কাটিয়েছি। কখনো অভিমান, আবার কিছুসময় পরেই সবঠিক। এভাবেই চলছিল।

সবলোক বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। ধনীর দুলালি। একসময় ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পরলাম। বিষয়টি হয়তোবা বাটারফ্লাইও বুঝতে পারতো। বলতো, ঈশ্বর তোর মনের আশা পূরন করুক। বলতাম কবে? আর যাকে চাই সে রাজি না হলে ঈশ্বর কিভাবে মনের আশা পূরন করবে। সে বলতো অপেক্ষা কর।

এরই মধ্য সে ঢাকায় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দামী একটি বিভাগে ভর্তি হল। তখন ওর একজন ডাক্তার বন্ধুর প্রয়োজন পড়ল। যদিও আমাকে আগের থেকেই বলত, ওর পরিবারেরর নাকি ডাক্তার ছেলে প্রয়োজন। যাই হউক, আমার এক বন্ধু নামকরা একটি মেডিক্যাল কলেজে পরত। একই এলাকার হওয়ায় ওকে বাটারফ্লাই খুব ভালোমতোই চিনত। যাই হউক, ঢাকায় পা দেয়ার পরেই সে আমার কাছ থেকে আমার সে বন্ধুটির নম্বার নিল।

সম্পর্কের নষ্টের শুরুটা সেদিন থেকেই। আমার সে ডাক্তার বন্ধুকে আগেই বলে রেখেছিলাম। বন্ধু আমি কিন্তু ওকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। সো তুমি এমন কিছু করোনা যাতে আমাদের তিনজনেরই ক্ষতি হয়। ও আমার কাছে প্রমিস করেছিল। যাই হউক, রাত ১২টা। বাটারফ্লাইয়ের ফোনে কল দিলাম। ওয়েটিং। আমার সে বন্ধুটির ফোনও তাই। আবার বাটারফ্লাইকে। স্টিল ওয়েটি। প্রায় আধা ঘন্টা পর বাটারফ্লাই আমার ফোন ধরে রাগতস্বরে বলল, এতবার কেন ফোন দিচ্ছিস। আমি বললাম কার সাথে কথা বলছিলি। বলল, আমার ঢাবির এক বান্ধবির সাথে। বুঝলাম মিথ্যা। আমার ডাক্তার বন্ধুটিতো আমার ফোনই রিসিভ করল না। পরে টেক্সট করে বলল, মন ভালো নেই। আজ আর কথা বলতে পারব না। এভাবেই চলতে থাকল। দুজনের রসায়নও বেশ জমে গেল। এই নিয়ে আমি ওকে প্রথমবারের মতো বললাম আমি তোকে ভালবাসি। এর মধ্য আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করায় সে আবার ডাক্তারকে হুমকি দিল। ব্যস সুযোগমতো এই কথাটি কনফারেন্সে বাটারফ্লাইয়ের কাছে বলে দিল ডাক্তার। আমি হয়ে গেলাম বাজে ছেলে। পরে ডাক্তারেরর কিছু বাজে বন্ধু এবং বাটারফ্লাইয়ের কিছু বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আমাকে দুবার শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হলো।

এভাবেই কেটে যাচ্ছিল। ওর সঙ্গে এরপরও কথা বলতাম। হয়তো ২-৩ মাস পরপর। আমি ওকে প্রায় ৫ বছর ধরে ভালবাসি। ওর সঙ্গ কথা বলব না বলে ঠিক করলেও আবার কিছুদিন পরই ফোন দেয়।

সর্বশেষ ঘটনা বৃহনস্পতিবার রাত মানে শুক্রবার। আমা ওর কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার ভালবাসা প্রত্যাখান করার কারণ কি। তখন ও আমাকে সরাসরি না বললেও ও আবার আগে একই পাড়ার যে ছেলেটিকে ভালবাসত তার কথা উল্লেখ করে যা বলল তা হলো...
১, সুন্দর হতে হবে।
২. অনেক টাকা থাকতে হবে।
৩. ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ভালো হতে হবে।
৪. শিক্ষিত হতে হবে।
৫. অহংকারী মানে ভাব থাকতে হবে।
৬. সুন্দর একটা জব করতে হবে।

সংক্ষেপিত।

E-mail: [email protected]


৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমরা কি তাহলে গুহা যুগে ফেরত যাচ্ছি?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৫০



বিশ্ব যেখানে উন্নতির প্রতিযোগিতা করছে, কীভাবে জীবনমান আরও উন্নত এবং সহজ করা যায় তা নিয়ে চিন্তাভাবনা করছে আর আমরা ঠিক তার উল্টো পথে হাঁটছি। চারদিকে ভয়াবহ অবস্থা!! চাঁদাবাজি, খুন,... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:২৯

বাংলাদেশ কি অন্যের যুদ্ধ লড়বে, নাকি নিজের দেশকে আগে রক্ষা করবে?
============================================
সৌদি আরব, পাকিস্তান ও তুরস্কের মধ্যে যে নতুন যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি হয়েছে, সেখানে বাংলাদেশকে যুক্ত করার আলোচনা চলছে। বাংলাদেশের পক্ষ... ...বাকিটুকু পড়ুন

।। রাশিয়ার মতো বাংলাদেশে হামলা করুক ভারত।।

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:১২


আমি আজ পর্যন্ত আম্লিগে কোন ভালোমানুষ খুঁজে পাইনি। আম্লিগ মানেই ইয়ের বাচ্চা। আম্লিগ মননে মগজে ধর্ষক, লুন্ঠনকারী, দেশদ্রোহী ও পাচারকারী। এদের মাঝে কোন কালেই কোন ভালোমানুষ ছিলোনা বর্তমানেও নেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইয়ামানাকা ফ্যাক্টরস

লিখেছেন কলাবাগান১, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১০:৫৭


ছবিতে যাকে দেখছেন উনার নাম প্রফেসর ইমানাকা। উনাকে সারা বিশ্ব মনে রাখবে উনার যুগান্তরী আবিস্কার এর জন্য। তার আবিস্কার যেভাবে সবার জীবনকে বদলে দিবে এবং দিচ্ছে সেটা জানানোর জন্যই... ...বাকিটুকু পড়ুন

Movie-Obsession(2026)

লিখেছেন ডি এইচ তুহিন, ৩০ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বিশিদবার রাতে খুব বাজে আর একটা ছিনেমা দেখলাম। ভাই-রে ভাই কি বলবো, ঐ রাতে আর ঘুমাতে পারি নাই। মানে দেখার পর থেকে এখনো গা শিরশির করছে। চোখ বন্ধ করলেও চোখের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×