ভালবাসা নাকি অন্ধ। অনেক শুনেছি। টিভি কিংবা সিরিয়ালেও অহরহ এমনটাই দেখি। তবে আমার ভালবাসা অন্ধ কিনা তা জানিননা। এটুকু বুঝি, সে ছাড়া আমার জীবন পরিপূর্ণ নয়।
জীবনে ইনজেকশনের সুচ দেখলে আমার ১০০ ডিগ্রি জ্বর চলে আসে। রক্ততো দেকতেই পারিনা। কিন্তু কি করব, তাকে এতটাই ভালবাসি যে একবার রক্ত না ঝড়িয়ে পারলাম না। তার জন্মদিনের নির্ধারিত দিনের আগের থেকেই জানিয়ে রেখেছিলমা- তোর জন্মদিনে কিন্তু আমার জন্য সামান্য কিছু সময় রাখবি। আমি তোর সাথে দেখা করব। জাস্ট কেক কাটবি আর চলে যাবি। সে আসেনি। কিন্তু আমি কেক আর মোমবাতি নিয়ে সন্ধ্যায় নির্ধারণকৃত জায়গায় ঠিকই গিয়েছিলাম। তাকে পাইনি। অভিমানে কেক আর মোমবাতি ছুড়ে ফেলেছিলাম ধানমন্ডি লেকের পাশে। পরে রুমে ফিরে ব্লেড দিয়ে হাত কেটে তার নাম লিখেছিলাম। যা আজও সযত্নে আমার মানিব্যাগে রয়েছে।
ভালবাসার গল্পটার শুরু ২০০৯-এর দিক। ওর আসল নাম বললে সমস্যা হতে পারে। তাই বলতে চাইনা। তবে আমি ওর একটা নাম দিয়েছিলাম। আমার মনের আকাশে রঙ্গিন প্রজাপ্রতি। আমি ওকে বাটারফ্লাই বলে ডাকতাম। যাই হউক, আমাদের সম্পর্কের শুরুটা হয়েছিল মুঠোফোনের মাধ্যমে, বন্ধুত্ব দিয়ে। আমিই ওকে বন্ধুত্বের প্রস্তাব দিয়েছিলাম। ব্যস আমার বন্ধুত্ব গ্রহণও করেছিল। মাঝে কিছুটা সময় বেশ আনন্দেই কাটিয়েছি। কখনো অভিমান, আবার কিছুসময় পরেই সবঠিক। এভাবেই চলছিল।
সবলোক বাবা-মায়ের একমাত্র মেয়ে। ধনীর দুলালি। একসময় ওর প্রতি দুর্বল হয়ে পরলাম। বিষয়টি হয়তোবা বাটারফ্লাইও বুঝতে পারতো। বলতো, ঈশ্বর তোর মনের আশা পূরন করুক। বলতাম কবে? আর যাকে চাই সে রাজি না হলে ঈশ্বর কিভাবে মনের আশা পূরন করবে। সে বলতো অপেক্ষা কর।
এরই মধ্য সে ঢাকায় একটি বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ে দামী একটি বিভাগে ভর্তি হল। তখন ওর একজন ডাক্তার বন্ধুর প্রয়োজন পড়ল। যদিও আমাকে আগের থেকেই বলত, ওর পরিবারেরর নাকি ডাক্তার ছেলে প্রয়োজন। যাই হউক, আমার এক বন্ধু নামকরা একটি মেডিক্যাল কলেজে পরত। একই এলাকার হওয়ায় ওকে বাটারফ্লাই খুব ভালোমতোই চিনত। যাই হউক, ঢাকায় পা দেয়ার পরেই সে আমার কাছ থেকে আমার সে বন্ধুটির নম্বার নিল।
সম্পর্কের নষ্টের শুরুটা সেদিন থেকেই। আমার সে ডাক্তার বন্ধুকে আগেই বলে রেখেছিলাম। বন্ধু আমি কিন্তু ওকে আমার জীবনের চেয়েও বেশি ভালবাসি। সো তুমি এমন কিছু করোনা যাতে আমাদের তিনজনেরই ক্ষতি হয়। ও আমার কাছে প্রমিস করেছিল। যাই হউক, রাত ১২টা। বাটারফ্লাইয়ের ফোনে কল দিলাম। ওয়েটিং। আমার সে বন্ধুটির ফোনও তাই। আবার বাটারফ্লাইকে। স্টিল ওয়েটি। প্রায় আধা ঘন্টা পর বাটারফ্লাই আমার ফোন ধরে রাগতস্বরে বলল, এতবার কেন ফোন দিচ্ছিস। আমি বললাম কার সাথে কথা বলছিলি। বলল, আমার ঢাবির এক বান্ধবির সাথে। বুঝলাম মিথ্যা। আমার ডাক্তার বন্ধুটিতো আমার ফোনই রিসিভ করল না। পরে টেক্সট করে বলল, মন ভালো নেই। আজ আর কথা বলতে পারব না। এভাবেই চলতে থাকল। দুজনের রসায়নও বেশ জমে গেল। এই নিয়ে আমি ওকে প্রথমবারের মতো বললাম আমি তোকে ভালবাসি। এর মধ্য আমার এক বন্ধুর সঙ্গে বিষয়টি শেয়ার করায় সে আবার ডাক্তারকে হুমকি দিল। ব্যস সুযোগমতো এই কথাটি কনফারেন্সে বাটারফ্লাইয়ের কাছে বলে দিল ডাক্তার। আমি হয়ে গেলাম বাজে ছেলে। পরে ডাক্তারেরর কিছু বাজে বন্ধু এবং বাটারফ্লাইয়ের কিছু বড় ভাইয়ের মাধ্যমে আমাকে দুবার শারীরিকভাবে লাঞ্চিত করা হলো।
এভাবেই কেটে যাচ্ছিল। ওর সঙ্গে এরপরও কথা বলতাম। হয়তো ২-৩ মাস পরপর। আমি ওকে প্রায় ৫ বছর ধরে ভালবাসি। ওর সঙ্গ কথা বলব না বলে ঠিক করলেও আবার কিছুদিন পরই ফোন দেয়।
সর্বশেষ ঘটনা বৃহনস্পতিবার রাত মানে শুক্রবার। আমা ওর কাছে জানতে চেয়েছিলাম আমার ভালবাসা প্রত্যাখান করার কারণ কি। তখন ও আমাকে সরাসরি না বললেও ও আবার আগে একই পাড়ার যে ছেলেটিকে ভালবাসত তার কথা উল্লেখ করে যা বলল তা হলো...
১, সুন্দর হতে হবে।
২. অনেক টাকা থাকতে হবে।
৩. ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড অনেক ভালো হতে হবে।
৪. শিক্ষিত হতে হবে।
৫. অহংকারী মানে ভাব থাকতে হবে।
৬. সুন্দর একটা জব করতে হবে।
সংক্ষেপিত।
E-mail: [email protected]
আলোচিত ব্লগ
ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন
বিকেলগুলো থমকে থাকে, আজও তোমার পাড়ায়

সেদিন বিকেলেও লোকটা জানালার পাশে এসে দাঁড়িয়েছিল।
পাড়ার মানুষজন তাকে চেনে। চেনার কথাও। গত বাইশ বছর ধরে প্রায় প্রতিদিন বিকেল পাঁচটার দিকে লোকটাকে এই গলিতে দেখা যায়। কখনো হেঁটে... ...বাকিটুকু পড়ুন
অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত
অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।
বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন
চলার পথে ক্ষণিক দেখা – (১১)
পূর্বের পোস্টঃ ক্ষণিকের দেখা, মায়াময় এ ভুবনে -১০

অবশেষে আমার কিছু কথা শুনে ওরা হাসিতে ফেটে পড়লো। সবার মুখে ছিল উজ্জ্বল হাসি।
আজ দুপুরে একটি এলাকার মাসজিদ সংলগ্ন পুকুর... ...বাকিটুকু পড়ুন
আজকের ডায়েরী- ২০২

আমাদের চারপাশে অনেক কিছু আছে।
যা আমরা দেখতে পাই না। ব্যাকটেরিযয়া, ভাইরাস, ডার্ক ম্যাটার, অণু ও পরমাণুর কথা বলছি না। আমি বলছি, মৃত মানুষের কথা। প্রতিদিন বিশ্বে গড়ে দেড়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।