আমি একজন স্বল্প আয়ের চাকুরিজীবী। আমার মতো ঢাকা শহরে এমন হাজারো স্বল্প আয়ের মানুষ রয়েছেন যারা, প্রতিদিন এক গন্তব্য থেকে অন্য গন্তব্যে যাওয়ার মাধ্যম হিসেবে বাস, লেগুনা ব্যবহার করেন। এটা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, সিএনজি কিংবা রিক্সায় যাতায়াত করাটা তুলনামূলকভাবে ব্যয়বহুল। আমার মতো অধিকাংশ স্বল্পআয়ের মানুষের পক্ষে তা বহন করাটা কষ্টসাধ্য ব্যাপার। অবশ্য রিক্সা কিংবা সিএনজিতে যে চড়া হয়না তা কিন্তু নয়। গরিবেরও তো মাঝে-মধ্যে ইলিশ, মাংস খাওয়ার সাধ হয় এবং মাসে অন্তত একবার হলেও তা খায়।
এবার আসা যাক, মূল প্রসঙ্গে। ফার্মগেট থেকে নাবিস্কো যাওয়ার জন্য মাধ্যম রয়েছে দুইটি। এক: রিক্সা। দুই: লেগুনা। রিক্সায় নাবিস্তো যেতে খরব সর্বনিম্ন ৪৫ টাকা। লেগুনায় মাত্র ১০ টাকা। অধিকাংশ স্বল্প আয়ের মানুষকে দেখেছি লেগুনাতে করে এই রুটে যাতায়াত করতে। তবে ২-৩ দিন থেকে ফার্মগেট বিজ্ঞান কলেজের সামনে আর লেগুনা দেখা যাচ্ছে না। এতে করে চরম ভোগান্তিতে পরেছে সাধারণ যাত্রীরা। বাধ্য হয়েই তাদের উঠতে হচ্ছে রিক্সায়।
তেঁজগাওতে ট্রাক স্ট্যান্ড ছিলো। তা সরিয়ে দিয়েছেন মেয়র আনিসুল হক। সেখানে এখন আর জ্যাম থাকে না। নতুন রাস্তা, সামনে এগুলেই আবার ফ্লাইওভার। সবমিলিয়ে ফার্মগেট থেকে মহাখালীর রাস্তাটা কিন্তু বেশ। তবে লেগুনা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তটা কতটা যৌক্তিক তা বোধগম্য নয়।
মানছি এই রুটে অধিকাংশ লেগুনা ড্রাইভারেরই নেই ড্রাইভিং লাইসেন্স। হয়তোবা তাদের চলাচলের জন্য নেই রুট পারমিটও। তবে সরকার চাইলেই আইন করতে পারে। কিন্তু লেগুনা তুলে দেওয়াটা কোনও সমাধান হতে পারে না।
একবার হিসেব মিলিয়ে নিন। ২৬ দিনে আপনি রিক্সায় গেলে আপনার খরচ হবে ১১৭০ টাকা (প্রতিদিন ৪৫ টাকা) আসার সময় আরও ১১৭০ টাকা। মানে এক মাসে আপনার খরচ ২৩৪০ টাকা। অথচ রিক্সায় আপনার একমাসে যাতায়াত বাবদ মোট খরচ হচ্ছে ৫২০ টাকা। মানে লেগুনায় চড়লে আপনি সঞ্চয় করতে পারছেন মাসে ১৮২০ টাকা।
আশা করি কর্তৃপক্ষ বিষয়টি ভেবে দেখবেন। স্বল্প আয়ের মানুষের কথা বিবেচনা করে পুনরায় ফার্মগেট থেকে লেগুনা চলাচলের ব্যবস্থা করে দেবেন।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই এপ্রিল, ২০১৬ বিকাল ৫:৩২

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


