somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতঃপর ব্লগর ব্লগর

১৯ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ইদানিং বড্ড অনিয়মিত হয়ে গেছি। মাঝে মাঝে যখন ব্লগে ঢুকি – চোখ বুলাই অনেকের লেখাতে। পড়লেও কখনো কখনো মন্তব্য লেখা হয়ে ওঠে না।

সমসাময়িক ক্রিয়েটিভ আর ডিজিটাল ভাবনার ভীড়ে হোঁচট খাচ্ছি প্রায়ঃশই। কোথায় যেন পড়েছিলাম – “History is always Right but it is often written wrongly.”
তাই যেন কেন মনে হয় ইতিহাস সাক্ষ্য দিতে এসে বড় বিব্রত হয়ে যাবে এদেশে।
থাক এসব কথা। আমি ইতিহাসের ছাত্র নই।
সাধারন জ্ঞানের উপর বিস্তর পড়াশোনাও করি না। খেয়াল খুশী মত লেখা – কবিতা – বা উপন্যাস পড়ি। তাও অনেক ক্ষেত্রে অন্যের অনুরোধে। তাই কোন বিশ্লেষনধর্মী লেখার সীমানা দিয়ে চুপিসারে হেঁটে আসি।
বয়ে যাওয়া জীবনই আমায় বেশী টানে – কখনো ভাবায় – হাসায় – কিংবা কাঁদায়।

জীবিকার ভারে ন্যুজ হয়ে ক্যালেন্ডারের পাতা উল্টিয়ে যাওয়ার নাম বেঁচে থাকা।
এ পথ চলায় ছন্দ থাকুক বা না থাকুক – সময় ঠিকই পেরিয়ে যায়।
সময়ের সাথে সয়ে যায় সব ব্যথা; ঠিক সয়ে যায় কিনা জানি না কিন্তু ব্যথায় মরিচা ধরে যায় হয়তো।
কিন্তু কখনো কখনো বেদনাটুকু জীবন্ত হয়ে ফিরে আসে। বিষন্ন হয়ে যাই আমরা। থমকে যাই; ভাবনায় ডুব মেরে থাকি। সময়ের তাড়নায় তারপর আবার গা ঝাড়া দিয়ে উঠি। ঝাপিয়ে পড়ি জীবন যুদ্ধে।
খুব অগোছালো হয়ে যাচ্ছে লেখাটা।
আসলে এ জীবনটাও কেমন যেন সময় সময় আগোছালো হওয়ার নেশায় মত্ত হয়ে ওঠে।

অনিশ্চিত জীবনটাকে কাছ থেকে দেখেছি মা যখন টানা পঁচ দিন আই সি ইউ তে ভর্তি ছিলেন। হাসাপাতালের ওয়েটিং রুমে অপেক্ষারত রোগীদের আত্মীয়-স্বজনদের মুখগুলি প্রায়ই ভেসে ওঠে। তাদের হাতে তজবী আর সুরা ইয়াসীনের বই – চেহারায় ক্লান্তি ছাপিয়ে প্রিয়জন হারাবার আশংকা ফুটে থাকত। প্রায় প্রতি রাতেই কেউ না কেউ হারিয়েছে তার আপনজন। মমতা – মিনতি আর ভালবাসাকে পিছে ফেলে নিয়তি চলে গেছে অন্য ভূবনে। আমার ডাক্তার বোন তার ঘর-সংসার ছেড়ে মোটামুটি একাই নিয়তির সাথে যুদ্ধ করে ফিরিয়ে এনেছে আমাদের মা’কে। সাথে ছিল আমার এক ডাক্তার বন্ধু আর তার চেষ্ঠায় সকল সিনিয়র ডাক্তার এবং নার্স/ স্টাফরা।
আলহামদুলিল্লাহ। আল্লাহকে অশেষ শুকরিয়া। আর সংশ্লিষ্ট সবাইকেই অনেক ধন্যবাদ।
ডায়বেটিক আক্রান্ত আমার মা এখন অনেকটাই সুস্থ। নিয়ম মেনে চলাটাই এখন মূল পথ্য।
শেষে মা’কে ক’দিন ওয়ার্ডে রাখা হয়েছিল।
আমি সেদিন মা’কে দেখতে যেয়ে শুনতে পেলাম – আমার এক বন্ধুর এক দিনের ছেলেটা সকালে মারা গেছে। যে পরিবারে সদ্য জন্ম নেয়া শিশুটির জন্য আনন্দের বন্যায় সকলের ভাসার কথা – সেখানে এখন কেবলই কান্না আর হাহাকার। আমি জানতে পেরে এগিয়ে গেলাম।
দৃশ্যটি ছিল এমন –
মর্গের সামনে খালি বারান্দায় এক সারি চেয়ার।
শেষ চেয়ারে নির্বাক বসে আছে আমার বন্ধুটি। কোলে তার ফুটফুটে ছেলেটা সাদা কাপড়ে মোড়ানো।
তার চোখের জলে আর চেহারার অভিব্যক্তি বলে দেয় – পৃথিবীর সব চেয়ে ভারী জিনিসটি সে পরম যত্নে ধরে থমকে বসে আছে।
ভেতরটা মোচড় দিয়ে উঠেছিল।
সাথে থাকলাম – জানাজা থেকে দাফন পর্যন্ত।
মনে মনে দোওয়া করলাম আল্লাহ যেন এই কষ্ট আর কারুকেই না দেন।
আর আল্লাহ যেন আমার বন্ধু আর বন্ধুপত্নীকে এ শোক কাটিয়ে উঠবার তৌফিক দেন।
এরপর ফিরে আসলাম।
চুপ চাপ কাটলো সারাটা দিন।
রাত পেরিয়ে সুর্য উঠার সাথে সাথেই আবার ঝাপিয়ে পড়লো – জীবিকা।
বাথরুমে আয়নায় দাঁড়িয়ে শেভিং ফোম লাগিয়ে রেজর দিয়ে চেঁছে ছিলে নতুন করে নিই নিজের চেহারা।
আফটার শেভ লাগিয়ে চুল আঁচড়ে পরিপাটি হয়ে নেমে যাই রাস্তায়।
তারপর শুরু হয় পথ চলা।
চারিদিকে যাই দেখি-
সবকিছুই চলছে।
লোক চলছে,
ট্রেন চলছে।
লাইট গুলো জ্বলছে।
গপ্পো চলছে,
গাড়ী চলছে।
দিন কেটে যাচ্ছে !



আছি কিন্তু…

আমি আছি-
বেঁচে আছি।
কাজে আছি।
ফাঁকে আছি।
মনে আছি।
মেনে আছি।
জেগে আছি।
ঘুমে আছি।
দিনে আছি।
রাতে আছি।
লোভে আছি।
ক্ষোভে আছি।
পাপে আছি।
পূণ্যে আছি !



অবিরাম অপেক্ষা !

যা জীবনে শেষ হয় না –
তাই ‘অপেক্ষা’।
এক জীবনে অপেক্ষাটুকুই বেশী।
ছোট বেলায় বড় হবার অপেক্ষা
বড় হয়ে পরীক্ষায় পাশের অপেক্ষা
পরীক্ষা পাশের পর চাকরীর অপেক্ষা
চাকরী পেলে বাড়ি-গাড়ির অপেক্ষা
বাড়ি হলে নারীর অপেক্ষা
নারী এলে পিতৃত্বের অপেক্ষা
পিতা হয়ে পিতামহ হওয়ার অপেক্ষা
শেষমেষ ও’পারের অপেক্ষা…।
এক জীবনে অপেক্ষা অনেক …
অনেক অপেক্ষা !


ছবিসুত্রঃ http://www.artgallery.co.uk/work/42440

সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে আগস্ট, ২০১০ সকাল ১০:৩৫
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

এনসিপি: বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন উদীয়মান শক্তি ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১:৫০


২০২৬-এর ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের ফলাফল যখন বের হলো, তখন দেশের রাজনৈতিক মহলে একটা চাঞ্চল্য পড়ে গেল। জাতীয় নাগরিক পার্টি: যাদের আমরা এনসিপি বলে ডাকি—প্রথমবারের মতো নির্বাচনে নেমে ৩০টা... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রথমেই বিএনপির যে কাজগুলো করা জরুরি

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৪:৪৬


বিএনপির প্রথম কাজ হলো তারা যে “অত্যাচারী” নয়, তা মানুষের কাছে প্রমাণ করা। "ক্ষমতাশালী" মানে যে ডাকাতি, লুটপাট এবং মাস্তানির লাইসেন্স পাওয়া নয়, এটা নিশ্চিত করা। এর জন্য তাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ভোর ৬:০৬

আমাদেশর স্বপ্নের বাংলা।
--------------------------
আমার স্বপ্নের বাংলাদেশ এমন একটি দেশ, যেখানে মানুষ আগে ধর্ম, বর্ণ, পরিচয় পরে। এই দেশে মোল্লা, পুরোহিত, সাধু, বাউল, ব্রাহ্মণ, চণ্ডাল, চামার, মুচি সকলেই সমান মর্যাদা নিয়ে বাঁচবে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

নির্বাচন ২০২৬

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ১৪ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৪:০৪

জুলাই বিপ্লবে হাজারো তরুন রাস্তায় নেমেছিল একটা বৈষম্যহীন রাস্ট্র গড়ার স্বপ্ন নিয়ে। নির্বাচনের দাবীতে কোন মানুষই জুলাইতে রাস্তায় নামেনি। একঝাক তারুন্যের রক্তের বিনিময়ে সবার প্রত্যাশা ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাতিয়ায় শাপলা কলিতে ভোট দেওয়ায় তিন সন্তানের জননীকে ধর্ষণ করে বিএনপির কুলাঙ্গাররা।

লিখেছেন তানভির জুমার, ১৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:১০

এক আওয়ামী ব্লগার আমাকে প্রশ্ন করছে আপনি তো বিএনপি করেন তাহলে জামাতের পক্ষে পোস্ট দেন কেন। উত্তরা এই পোস্টের শিরোনামে আছে। আমার উত্তর হচ্ছে আমি জামাতও করি না।

আমার পরিবার,আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×