somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নিশিকে বললাম তোমার জন্য একটা বদনা গিফট এনেছি

১৭ ই জুলাই, ২০১২ ভোর ৪:১৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


পাশের বাসার কুদ্দুস আর আমি ছোটবেলা থেকেই একজন আরেকজনের প্রাণপ্রিয় শত্রুপক্ষ। আমি যা কিছুই করিনা কেনো সে সেখানে বাগড়া দেবেই। আর আমাকে ডিঙ্গিয়ে তাকে হিরো হতেই হবে। আমাদের বাসার বাথরুমের ছিটকিনি ভাঙ্গা ছিল। তাই আমরা সবাই বাথরুমে গেলে গান গাইতাম যাতে অন্যরা সতর্ক থাকে, হুট করে আতিথ্য গ্রহণ না করে। এতে আমার সুবিধা হল, আমার গানের গলা নিয়মিত রেওয়াজে উন্নতি লাভ করল। বন্ধুমহলে নব্য গায়ক হিসেবে আমার সুনাম দিনদিন বেড়ে যাচ্ছিল। কুদ্দুসের আমার এই প্রতিভার বিকাশ সহ্য হয়নি। সেও আমার মত গায়ক হবার লোভে তাদের বাড়ির বাথরুমের ছিটকিনি ভাঙ্গলো এবং তার বাবার হাতে এই অপরাধে বেধড়ক মার খেলো। তবুও সে খুশি হল, যাক এইবার তার সঙ্গীতের প্রতিভার বিকাশ আর কেউ আটকাতে পারবেনা। কিন্তু হায়! তার বাবা আমার বাবার মত মহান কিপটা নন। তাই তার সঙ্গীতচর্চার অপমৃত্য সেখানেই হল। তাদের বাথরুমের ছিটকিনি ওইদিনই ঠিক করা হল। আরে বাবা, তোর বাবার কি সলিমুল্লাহ সাহেবের মত বিশাল কিপটা মন আছে? সলিমুল্লাহ সাহেব আমার পিতার নাম। যাইহোক, সেদিন থেকে আমি বুঝেছি কুদ্দুস আমাকে কখনো ক্লিন ব্যাম্বু দিবেনা। তার ব্যাম্বুতে অনেক শাখা-প্রশাখা থাকবে।
তবুও কুদ্দুসকেই আমি ভালোবাসি। মানে বিপদে তার কাছেই ছুটে যাই। কিছুদিন আগে আমার গার্লফ্রেন্ড নিশি আমাকে ছাগল বলেছিল। এরপর আমি যখন রহিমদের খোঁয়াড়ে ঢুকে ছাগলচোর হিসেবে খেতাব পেয়ে যাচ্ছিলাম, কুদ্দুস আমাকে উদ্ধার করে। সে সবাইকে জানিয়ে দেয়, আমার দৌড় মুরগী চুরি পর্যন্ত। ছাগল চুরি আমার দ্বারা হবেনা। তাই আমাকে মুরগী চোর ডাকা হোক। এরপর থেকে বন্ধুমহলে আমি মুরগীচোর হিসেবে খেতাব পেলাম। তবু বাঁচলাম। ছাগল চোরের চেয়ে মুরগীচোর নামটা সুন্দর। মীনা কার্টূনের মুরগী চোরটার কথা মনে পড়ে। আমার ছোটবেলায় ফেবারিট ছিল। নিশি এই নাম শুনে রাগ করেছিল। আমি পাত্তা দেইনাই। মেয়ে মানুষতো, আমার জনপ্রিয়তায় জেলাস ফিল করছে। কই কুদ্দুস রাস্তা দিয়ে হেঁটে গেলে কেউ ডাক দেয়? আমাকে তিনমাইল দূর থেকে দেখলেও বন্ধুরা মুরগীচোর বলে ডেকে উঠে।
নিশি আমাকে গতকাল একটা টাই গিফট করেছিল। টাই গিফট পেয়ে মনে অনেক কষ্ট পেয়েছি। সে আমাকে গলায় দড়ি পরাতে চায়! আমি কি গরু-ছাগল? আমি প্রথমে বুঝিনাই। খুশি-মনে নিছিলাম। পরে কুদ্দুসকে দেখানোর পর, কুদ্দুস গম্ভীর হয়ে যেতেই আমি শঙ্কিত হয়ে পড়ি। কুদ্দুস বলে,
-নিশি এটা তোকে দিছে?
-হ্যা। সুন্দর না?
- এই জন্যই তোরে আমরা বলদ কই। আইজক্যা নিশি সেটার চূড়ান্ত রুপায়ন করতাছে।
-মানে?
-মানে বুঝিস নাই? নিশি তোকে বলদ ভাবে। তাই মজা করে গলায় দড়ি বাঁধতে চায়। সরাসরি দড়ি দিলে তুই কষ্ট বেশি পাবি। তাই টাই দিছে।
-কস কি! এখন কি করব?
-তুই এটা আমাকে দিয়ে যা। আমি কাউকে গরু বানাব, এটা দিয়ে। আর তুই এক কাজ কর। নিশিকে তুই একটা বদনা গিফট কর।
-বদনা? নিশি রাগ করবে। এইটা কি বলিস! বদনা কিভাবে গিফট করা যায়?
-দেখ বদনা না থাকলে, তুই ইয়ে করার পর কি করতি? কিছুই করতে পারতিনা। এখানে বদনা প্রতীকি। সে যেমন তোকে প্রতীকী দড়ি হিসেবে টাই দিছে। তুই তাকে প্রতীকী ভালোবাসার নিদর্শন হিসেবে বদনা দে।
-বুঝাইয়া ক। কিছুই বুঝতাছিনা।
-দেখ, বদনা ছাড়া আমরা অসহায়। তেমনি নিশি ছাড়া তুই অসহায়। এটা একটা প্রতীকী গিফট। এর মাধ্যমে নিশিকে ছাড়া তোর অসহায়ত্ব প্রমান হবে। সে তোকে নিয়ে মজা করতে পারে, কিন্তু তুই তাকে সুন্দর এই গিফট দিয়ে বুঝিয়ে দে তোর ভালোবাসার গভীরতার কথা।
কুদ্দুসের কথা শুনে মনটা ভালো হয়ে গেল। কুদ্দুসের কাছ থেকে পাওয়া সব লাঞ্ছনা ক্ষমা করে দিলাম।
আজ সকালে ঘুম থেকে উঠার পর থেকে মনটা আনচান আনচান করছে। এক নিশির সাথে দেখা হবে। টঙ্গী চেরাগ আলী থেকে সবচাইতে দামি একটা প্লাস্টিকের বদনা কিনে নিলাম। দাম নিল, ৫৮০ টাকা। র‍্যাপিং পেপারে মুড়ে নিলাম। নিশির সাথে দেখা করার জন্য নর্থ টাওয়ারে গেলাম। গিয়ে দেখি নিশি বসে আছে।
- কি খবর জান্টুস?
নিশির মুখে জান্টুস শব্দ শুনে মনটা উদাস হয়ে গেল। ইচ্ছে করল, নিশিকে এখুনি বিয়ে করে হনলুলু থেকে হানিমুন সেরে আসি।
-ভাল আছি। তুমি কেমন আছোগো জান?
-ভাল। হাতে এটা কি?
-বদনা
-মানে?
-তোমার জন্য একটা বদনা গিফট এনেছি।
-ভাল। এই বুদ্ধি তোমাকে কে দিয়েছে?
-কুদ্দুস (মুখ ফসকে বলে ফেললাম! কুদ্দুস বারবার মানা করছে, তার নাম না কইতে। এতে নাকি নিশির ভালবাসা কুদ্দুসের জন্যও জাগতে পারে। এখন কি করি!)
-হুম। আচ্ছা, আমার একটু কাজ আছে। আমি আজকে যাই। আর তোমার গিফটা অনেক সুন্দর হইছে।
চেয়ার থেকে উঠে এসে নিশি আমাকে একটা চুমু খেলো। আমি লজ্জায় লাল হয়ে গেলাম। নিশিটা কি দুষ্ট!
নিশি চলে যাচ্ছে। আমি চেয়ারে বসে নিশির চলে যাওয়া দেখছি। মনটা উদাস উদাস হয়ে গেলো। গতবার আমি নিশিকে এক প্যাকেট ক্যাডবেরি গিফট করেছিলাম। নিশি অনেক খুশি হয়েছিল। তখন আমি বলেছিলাম, চল, দুজনে মিলে খাই। নিশি আরো অনেক খুশি হয়েছিল। আজো চলে যাওয়া নিশিকে ছুটে গিয়ে বলতে ইচ্ছে করছে, "চল, বদনাটা দিয়ে দুজনে মিলে................"

সর্বশেষ এডিট : ১৭ ই জুলাই, ২০১২ দুপুর ১:০৩
৩৮টি মন্তব্য ৩৫টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পাহাড় কাউকে জয়ী হতে দেয় না

লিখেছেন মুনতাসির, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৮:১১




আমরা প্রায়ই বলি, অমুক এভারেস্ট জয় করেছেন, তমুক কে-টু জয় করেছেন, অমুক অন্নপূর্ণা জয় করেছেন। শব্দটি এতটাই প্রচলিত যে আমরা আর ভাবিই না—আসলে কি পাহাড়কে জয় করা যায়?

আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

৩৫ হাজার টাকা বিনিয়োগে ৩ লাখ ২৭ হাজার টাকা ফেরতের প্রলোভন!

লিখেছেন শাহাবুিদ্দন শুভ, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:৩৯

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন একটি ওয়েবসাইটের প্রচার দেখা যাচ্ছে, যেখানে প্রথম আলোর আদলে তৈরি একটি ডিজাইন ব্যবহার করে উচ্চ মুনাফার বিনিয়োগের প্রলোভন দেখানো হচ্ছে। এমনকি তৃতীয় মাত্রা অনুষ্ঠানের ফটোকার্ড... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাইক্রোপ্লাস্টিক: অদৃশ্য প্লাস্টিক কীভাবে আমাদের খাবার ও শরীরে ঢুকছে?

লিখেছেন কাবিল, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:০৪


মাইক্রোপ্লাস্টিক (Microplastic) হলো খুব ছোট প্লাস্টিকের কণা। সাধারণভাবে ৫ মিলিমিটারের চেয়ে ছোট প্লাস্টিক কণাকে মাইক্রোপ্লাস্টিক বলা হয়। এর থেকেও অনেক ক্ষুদ্র কণা আছে—সেগুলোকে ন্যানোপ্লাস্টিক বলা হয়। এগুলো এত ছোট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

এনসিপিকে মারছে কেন? (অথবা) এনসিপি মার খাচ্ছে কেন?

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৪০


(ইহা নাকি এনসিপিকে পিষিয়ে মারবে!)

এনসিপিকে মারছে কেন (?) অথবা এনসিপি মার খাচ্ছে কেন? প্রশ্ন দুটো হলেও আদতে প্রশ্ন একটাই উত্তরও একটাই। বিগত ১৫/১৬ বছর অর্থাৎ খুনি হাসিনার আমলে যাহারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

জুলাই আন্দোলনের সম্ভাবনাময়, রৌদ্রোজ্জ্বল মুখগুলো ডানপন্থার অনুরাগী হচ্ছে! দায় কার?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৩ রা আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:০৩



জুলাই আন্দোলনের অন্যতম সেই আইকনিক ফটো--যেখানে দেখা যাচ্ছিল একটা ভার্সিটির ফাস্ট কি সেকেন্ড ইয়ারের মেয়ে পুলিশের গাড়ি আটকাচ্ছে, ওর ভার্সিটির এক বড় ভাইকে পুলিশের গাড়িতে তুলে নিয়ে যাওয়ার পর।... ...বাকিটুকু পড়ুন

×