somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

যে মৃত্যু আমাকে কাঁদায় না।

১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

অনেক মৃত্যু আমাকে কাঁদিয়েছে। ২৫ শে ও ২৬ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৯ সালে অনেক সেনা অফিসারকে নির্মন ভাবে হত্যা করলো কিছু বিপথগামী বিডিয়ার জওয়ান। বেঁচে যাওয়া কিছু সেনা অফিসার ও নিহত অফিসারদের আত্মীয়রা যখন টিভিতে এসে জওয়ানদের নিশৃংসতার বর্ণনা দিচ্ছিলেন তখন চোখের পানি আটকাতে পারি নি। আর বঙ্গবন্ধুর বিশেষভাবে বলতে হয়। টিভিতে কিংবা মাইকে উনার ৭ই মার্চের ঐতিহাসিক ভাষণ শুনি রক্ত সাথে সাথে গরম হয়ে যায়। কিন্তু পরক্ষণেই দু চোখ বেয়ে অশ্রু আছে। যে বাঙ্গালীদের তিঁনি আজীবন বিশ্বাস করে গেছেন তাদের হাতেই তাঁকে প্রাণ দিতে হয়েছে। এর চেয়ে দুর্ভাগ্য আর কি হতে পারে? প্রতিটা মৃত্যুই অসম্ভব রকমের কষ্টকর। একটা মৃত্যু যেমন একটি পরিবারকে একদম পথহারা করে দেয়, তেমনি একটি মৃত্যু মাথা তুলতে উৎসাহ দেয়। যে কোন মৃত্যুর খবর শুনলে আমার মন কিছুক্ষণের জন্য হলেও বিমর্ষ হয়ে পড়ে। কিন্তু তিন তিনটি আমার মনে কখনো বিষণ্ন করেনি। ভবিষ্যতে করবে না বলেও লিখে দিতে পারি। কাদের কথা বলছি আশা করি বুঝতে পারছেন। কসাই কাদের, রাজাকার শিরোমনি গো আযম ও কামরুজ্জামান। তো কি করেছিল তারা যে তাদের এখনো আমি, আমরা ঘৃণা করি। শুনুন তাহলে কামরুর ঘটনাবলী।
"বিধবাপল্লীর শতাধিক বিধবার একজন জরিতন বেওয়া দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলেন, 'ভাইগো, দুঃখের কতা কী কমু। কামারুজ্জামান আর ওর চেলা কাদের ডাক্তর আমগর এলাকায় পাকি আর্মিগরে নিয়াইয়া ওই দিন আমার সোয়ামিরে ঘর থেইক্যা টাইন্যা উডানে ফালাইয়্যা পরথমে ছয়ডা গুলি করে। গুলি খাইয়্যা পানি চাইলে আরেকটা গুলি করে। ওই গুলিতে উডানেই তার জীবন যায়। পরে আমার সোনা মানিক বুকের ধন হাশেমরে ধইর‌্যা নিয়্যা বাপের লাশের উপরে ফালাইয়্যা গুলি করে। এরপর আমার দেওররে ধইর‌্যা নিয়্যা বন্দুকের নল দিয়্যা কেচাইতে থাহে, পরে মুহের ভিতরে বন্দুক দিয়া গুলি করে। তহনি ওর পরান বাইরইয়্যা যায়। অহন কামরুজ্জামানের ফাঁসের কতা হুইন্না পরানডা জুড়াই গেছে।'
শহীদ রহিমুদ্দিনের স্ত্রী করফুলি বেওয়া বলেন, 'আইজকা মনে একটু শান্তি লাগতাছে। দেশেও বিচার আছে। যা আরাবার সবই তো গেছে, অহন কামরুজ্জামানের ফাঁসির কতাডা হুইন্না বুকের কষ্টডা নামছে।' আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, 'কামরুজ্জামানেরা পথ না দেহাইলে তো পাকবাহিনীরা আমগর গেরাম চিনতো না। হেইদিন ওরা আমার স্বামীরে মারছে, আমার ইজ্জত নষ্ট করছে। মান হারানোর পর স্বামীর গুলি খাওয়া লাশ কাঁথা দিয়া ঢাইক্যা গোয়ালঘরে রাইখ্যা ভয়ে পলাইয়্যা গেছিলাম। চাইর-পাঁচ দিন পর আইস্যা শেয়াল-কুকুরে খাওয়া স্বামীর হাড়গোড় টুহাইয়্যা কোনোমতে মাটিচাপা দিয়া রাখি। আইজকা আমগর হেদিনের দুঃখের মতো কামরুজ্জামানের সংসারের লোকরাও সোয়ামি-বাপ আরানোর কষ্টডা টের পাবো- এইডা ভাইব্বাই আনন্দ লাগতাছে।' সুত্রঃ কালের কন্ঠ। আরো পড়ুন।

সুতরাং এদের মৃত্যুতে বিচলিত নয় আনন্দ প্রকাশ করা সময়ের দাবি।
সর্বশেষ এডিট : ১২ ই এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১১:১৪
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

**চিঠি ০৩ : ক্যাফের চিঠি** ☕️

লিখেছেন চারাগাছ, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:০৫




বহু বছর পর আজ তোমাকে দেখলাম।

একটা ক্যাফেতে।

জানালার পাশের টেবিলে বসে ছিলে তুমি। সামনে একটা বই, পাশে একটা Affogato। মাঝে মাঝে কফিতে চুমুক দিচ্ছিলে, আবার বইয়ের পাতায় চোখ রাখছিলে।

আমি ক্যাফেতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালিয়ানা ভোজ ও রুপালি ইলিশের স্বাদ

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২৩ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১০:৫৫

বন্ধু মারফত খবর পেলাম দেশের বাজার নাকি ভারতীয় ইলিশে সয়লাব। পদ্মার ইলিশের দাম কম, তাই নিম্নচাপ উপেক্ষা করে চলে গেলাম ইলিশের বাড়ি চাঁদপুরে। ঘাটে এসে দেখলাম পুরা বাজার... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রজ্ঞার জয়ধ্বনি বিজ্ঞান ও যুক্তির মহাকাব্য

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:৩৯


ভূমিকা
সকল নবি ও রাসুল প্রতি সালাম ও দুরুদ পর
দাউদের সুরে, মূসার পথে, ঈসার প্রেমের বাণী
মুহাম্মদের মরু পেরিয়ে শুনেছি যুগের ধ্বনি
কৃষ্ণের বাঁশি, বুদ্ধের ধ্যান, সুফির অন্তর সন্ধান
যোগীর তপে, মরমীর গানে খুঁজেছি... ...বাকিটুকু পড়ুন

আওমীলীগকে সম্পর্কে কি আপনার মনে এখন কোনো পজিটিভ চিন্তা উঁকি দেয়?

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:০৬


বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতি মূলত চারটি বিষয়ের উপর মানুষের কাছে জনপ্রিয়তা পায়।
প্রথমত, মানুষ মনে করে এ দলটি ক্ষমতায় থাকলে স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষা পায়। এটা খুবই সত্য যে ১৯৭১ সালে আমাদের... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিরোনামহীন কবিতা-০৭

লিখেছেন কাজী আবু ইউসুফ (রিফাত), ২৪ শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

তোমাকে নিয়ে কক্সবাজারে
সমুদ্রের গান শোনা,
অথবা বান্দরবানের কোনো পাহাড়ের চূড়ায় উঠে
মেঘের ভেলায় হারিয়ে যাওয়ার
কত যে ইচ্ছে—স্ব-যত্নে পুষে রেখেছিলাম
মনের গহীনতম কোণে!

কোনো এক ঈদের পড়ন্ত বিকেলে—
অকারণ কাঁপা আঙুলে
একটি খুদে বার্তা পৌঁছে দিয়েছিলাম
তোমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×