somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার কাঁধে উর্মি-শর্মির লাশ, মুনকার-নাকীর জানি কই থাকে?- পর্ব 3

৩০ শে আগস্ট, ২০০৬ সন্ধ্যা ৬:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ ঘটনাটা 2003 সালের । বাংলাদেশের কোন এক বিখ্যাত মেডিকেল হাসপাতালে। চরিত্র ঠিক রেখে নাম গুলো বদলে দেওয়া]

উর্মির অজ্ঞান শরীরটার পাশে বসে আমরা তিনজনে মিলে হিসাব কষি। চামড়া লাগবে, অনেক অনেক চামড়া। স্কিন গ্রাফটিং করতে হবে মেয়েটার। কিন্তু চামড়াটা নিব কোথা থেকে । ওর তো সারা শরীর পোড়া!!
আমরা আলোচনা করি আর্টিফিশিয়াল কি কি আছে? কতটাকা লাগবে। পুওর ফান্ডে তো হবে না, তাইলে? টাকার অংকটা এত বড়, হতাশ লাগে!!!

আমি রাজা ভাইয়ের হাত চেপে ধরি।
ঃ ভাইজান, গয়না গাটি বেইচা দিমু। ওর মারে কথা দিসি। ওর মা কইসে- " আমি আমার মায়ের সমস্ত দাবী তুইলা নিলাম। আপনি ওর মা, ওরে বাঁচান".........রাজা ভাই , উর্মি এখন আমার মেয়ে........আমি থাকতে.....

রাজা ভাই ঝাপসা চোখ আস্তে করে দেয়ালে ফিরায় তারপর আমাকে গাইল দেয়।
ঃ উর্মিরে বাঁচাবি , ভালো কথা। তোর মরণ ঠেকাইবো কেডা?
মানুষরে এত ভালবাসতে নাইরে ইমন। একদিন এমন প্রিয় মানুষের কাছ থেইকা এমন আঘাত পাবি, স হ্য হইবো না । মরবি তুই। আমি দিব্য চোখে দেখতাসি, তুই মরবি। তুই মরবি!!!!

[ আমার মনের ঘরে ঠা ঠা হাসি তড়পায়। আমারে কেউ বাঁচায় নাই , রাজাভাই, আমারে বাঁচানোর জন্য কোন ইমন ছিল না ঐ দিন..............লাশের আবার মরার ভয়!!!!!!]

বাইরে হাসি না।
ঃ যা হওয়ার হইবো। কে সেরা সেরা। এখন চলেন রিডিং নেই। অনেক্ষণ কোন উত্থান পতন নাই!!!

সব দেখে শুনে আমরা খুশি হই। শি ইজ নাও স্টেবল। আউট অফ ইমেডিয়েট ডেনজার।

নিজেদের কে আস্ত নেপোলিয়ান বোন -অ্যাপার্ট লাগে। ক্লান্তিতে হাড্ডি খসে পড়ার যোগাড়!!!!
তাও অযথাই হাসি- হা হা , হি হি। খিক খিক!!!

ও. টির মামা ছুটে আসে।
ঃ আপনেরা কি একজন দিয়েই বছর কাটাইবেন নাকি অন্য রোগীরাও চিকিৎসা কিসুপাইবো?!!

উর্মিকে ওয়ার্ডে রেখে আমরা নাস্তা করতে যাই। রাজা ভাই হাটতে গিয়ে টলতেসে । এক হাতে বর্ণা আর হাতে আমি- দুই খুঁটি- কি করবো বুঝি না!
ঃ আমারে রিকশায় উঠায় দে।
ঃ রাজা ভাই , িকছু খান আগে , আপনার হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে গেসে। বাসা পর্যন্ত টিকবেন?
ঃ গা গুলায় বমি আসতেসে ইমন। উলটা পুলটা কিসু খামু না, আমারে রিকশায় উঠায় দে।
ঃ রাজা ভাই, আপনারে বাসায় দিয়ে আসি?
ঃ নাহ! খালি তোর ভাবিরে একটা খবর দে যে আমি আসতেসি।
ঃ জি।

আমি আর বর্ণা টলটলায়মান সিপাহসালার অলৌকিক ক্ষমতাধর রাজাভাইরে রিকশায় উঠায় হুড তুলে দেই।
ঃ ড্রাইভার সাহেব, দেইখেন একটু। পইড়া গেলে টেলে আমি বিধবা হমু!!
বর্ণা কয়,
ঃ আমিও।

এত কষ্টের মধ্যেও রাজাভাই ফিক করে হেসে ফেলে।
ঃ গিনি্নরা , নাস্তা খাইয়া ওয়ার্ডে যাও। শর্মির কি হইলো , আমারে একটা কল দিস। যদিও ছোটটার অবস্থা অত খারাপ ছিলো না। গেলাম, খোদা হাফেজ!

আমি আর বর্ণা,

ভয় করি না বুশ , ব্লেয়ার
বান্দ ী মোদের লরা , ক্লেয়ার
হাগা ধুইবো ".........." লিৎসা
ডোনালড বানায় লাঞ্চে পিৎসা
ছাই দে মাজে ক্রফট বাবু
মোদের ভয়ে সবাই কাবু.................।

ইত্যাদি ইত্যাদি ছড়া কাটতে কাটতে লেডিস হোস্টেলের ক্যান্টিনে ঢুকি!!!!

[চলবে]
সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই এপ্রিল, ২০০৮ বিকাল ৫:৫৩
৬টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চোখ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৫:১৬

এতদিন উপমা হিসাবে জেনেছি কারোর চোখ থাকে পটল চেরা, কারোর থাকে বাবুই পাখির বাসার মতন।
এই প্রথম দেখলাম গ্রে'স এলিয়ানের চোখ - এত মায়ায় ভরা।... ...বাকিটুকু পড়ুন

সব দুনিয়ার আহার যোগাই, আমরা না পাই খাইতে

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ ভোর ৬:৩৪



সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার বাওন হাওরের বর্গাচাষি আলী আকবর। কেমন আছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘ কৃষিকাজ করি খালি বাঁইচ্যা থাকার লাগি। কোনো লাভ নাই।’ হিসাব কষে বলেন, এখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুম আর গুপ্ত

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৩:১৫


খোঁজ করলে দেখাি যাবে, কুকুর-বিড়াল পালকদের অনেক কাছের আত্মীয়-পরিজন অনেক কষ্টে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের প্রতি কোনও দয়া-মায়া নেই; অথচ পশুদের জন্য... ...বাকিটুকু পড়ুন

=পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯


মনে আছে ছেলেবেলায়
ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এলে,
পাতার ছাতা মাথায় দিয়ে
হাঁটতাম পথে এলেবেলে।

অতীত দিনের বৃষ্টির কথা
কার কার দেখি আছে মনে?
শুকনো উঠোন ভিজতো যখন
খেলতে কে বলো - আনমনে?

ঝুপুর ঝাপুর ডুব দিতে কী
পুকুর জলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

তালেবান ঢাকায়, রাষ্ট্র ঘুমায়

লিখেছেন মেহেদি হাসান শান্ত, ২৫ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৩২

জুলাই অভ্যুত্থানের পরে বাংলাদেশে অনেক কিছু নতুন হইছে। নতুন সরকার, নতুন মুখ, নতুন বুলি। কিন্তু একটা জিনিস খুব চুপচাপ, খুব সাবধানে নতুন হইতেছে, যেইটা নিয়া কেউ গলা ফাটাইতেছে না। তালেবানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×