somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একটি সম্ভ্রমহানীর ভয়ংকর কিন্তু শিক্ষামূলক কাহিনী !!!!

২৪ শে ডিসেম্বর, ২০০৬ সকাল ১০:৪৪
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি তখন মাত্রই ইন্টারনেট নিয়েছি। ইন্টারনেটের শুলুক সন্ধান কিছুই বুঝি না। দুই তর্জনীর টেপাটেপিতেই জ্ঞান সীমাবদ্ধ-তাতেই ভাব খানা "আমিই টিপু সুলতান" । ইংরেজীর "ই" অক্ষরটার চারিদিকে কেন একটা গোল্লা আঁকানো ? সেইটার উপর "কার্সার" নিয়ে দুইটা আলুর চাপ দিলে কেন কখনো "ব্ল্যাংক" , আবার কখনো "ইয়াহু হোম পেজ" আসে, কিছুই বুঝি না!!!

এই রকম উত্তাল যৌবনের কোন এক গরম সকালে পেপার খুলে দেখি আমার অনেক দিনের হাউসের ছবি " মাই বিগ ফ্যাট গ্রীক ওয়েডিং " দেখাবে "এইচ বি ও" চ্যানেলে!!! সাতদিন পরে । আমি সাত দিন ধরে অনেক আঁই ঢাঁই , কই যাই মনে অপেক্ষা করলাম। অবশেষে সেই মাহেন্দ্র ক্ষণে টিভি খুলে দেখি ; "ও মা!!! কি এক আর্ট ফিলিম দেখাইতেসে" !!! ব্রহ্মতালু জ্বলিয়া সীমের বিচি ভাজা হইয়া গেল।

আমি পেপারে কোরবানীর গরু খুঁজে সারা! "এইচ বি ও" এর গাইড [ গোদ? ] পেলাম!!! সন্দেহ হলো, আচ্ছা ! "স্টার মুভিতে" ছিল না তো!!!!!! শালার স্টার মুভির লিশটি [ লাশ ফালায় দেওয়া উচিত] ঐ দিন দেয়নি। এই সবের মানে কি!!!! যে জাতি টিভিতে একটা মুভি কখন দেখাবে জানতে পারে না,জানাতে পারে না, সেই জাতির ভবিষ্যত আছে কোন? জাতির বিবেকের কাছে এই সওয়াল ছুড়ে দিয়ে আমি কুতুব ভাবলাম, " ও ম্যা অ্যা অ্যা ন!! হাউ বোকা অফ মে!!! "

আমি তো থিংক করলেই ইন্টারনেটে খুঁজে নিতে পারি স্টার মুভিসের , বিটস এ্যান্ড মুভস !! ইয়ো!!

কুতুব ভাব নিয়া বসলাম কম্পুতে । গুগুল মে "স্টার মুভিস" লিখ কর দাবা দিয়া !!! অঊর ফির!!!!!

[ আমি যে রুমে কাজ করি তার দরজা বরাবর আব্বু আম্মুর ঘরের দরজা। কোনাকুনি ড্রয়িং কাম ডাইনিং এর বড় খোলা জায়গা। এই তিন রুমের বেশির ভাগ জায়গার যে কোন পয়েন্টে দাঁড়ালেই স্পষ্ট দেখা যায় আমার কম্পুর মনিটর। ]

চিচিং ফাক করে খুলে গেল অন্য এক দুনিয়া। যে জানালা খুলতে আমার ইন্টারনেট কচ্ছপীয় দুর্দান্ত গতির কারনে বার বার চাপাচাপি করা লাগে, বিনা তাপ -চাপেই এবার খুলতে শুরু করলো। একেবারে "সব কটা জানালা খুলে দাও না" - ইয়াস্মীন মুরশীদাবাদী!!! কিন্তু তার সাথে শুরু হলো কিছু অবাঞ্ছিত কু-শব্দ ।
আহ! ঊহ! ঊমহ! ইয়েস! মোর! ডিপার !

আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া ! ভর সন্ধ্যা। সবাই বাসায়। মনিটরে একের পর এক খুলে চলেছে ভয়াবহ সব পর্নো ওয়েব সাইটের জানালা, দরজা!!! আতংকে উদ্ভ্রান্ত হয়ে বন্ধ করার জন্য "ক্রস" বাটনে ক্লিক করলাম। [ এবং বুঝলাম , যীশুরে মারার জিনিশ আর এই জিনিশের নাম এক রকম কেন!]

ইয়া আল্লাহ! একটা বন্ধ করতে গিয়ে দেখি ফটাফট ছয়টা খুলে গেল। এক্সপোনেনশিয়াল গ্রোথ, কার্ভ আঁইকাও বুঝি নাই।ঐদিন সন্ধ্যায় টের পাইসি, গ্রোথ কারে কয়!!!! দেখতে দেখতে স্ক্রীন ভরে গেল গোটা "বিষ" পর্নো উইন্ডোতে! একটা আবার জার্মানীর, ফর গে মেন। গাব্দা গোব্দা মাসল ওয়ালা মুশকো জোয়ান। উলঙ্গ এবং স্থির নয়!!!!!!!

আমি তখন ভাঙা গলায় কোন রকম ফিস ফিস করে চিৎকার (!!) শুরু করেছি! আমার কম্পু সাইন্স পড়া ছোট বোনকে জান বাজি রেখে ডাকাডাকি! বয়রা শোনেও না! আর এহেন আর্তনাদ শুনে আব্বু এসে রুমে উপস্থিত! আমি সটান উঠে দাঁড়িয়ে বই, খাতা, বাসন, কলেজ ব্যাগ, যা ছিল সামনে - তাই দিয়ে কোন রকমে আড়াল করলাম কম্পিউটার। কিন্তু শব্দ আড়াল করি কি করে?

কন্ঠ সপ্তমে চড়িয়ে শুরু করলাম আবোল তাবোল বকাবকি!
" দেখো না আব্বু! ওকে [ ছোট বোন] কখন থেকে ডাকছি, একটু সাহায্য করার জন্য, বেয়াদব রুমেই আসে না! জবাব ও দেয় না! কি হবে এই সব আজকালকার ছেলে মেয়ে গুলো দিয়ে! বড় ভাই বোনদের শ্রদ্ধা করতে শিখল না। এই জন্যই কি এই বান্দর গুলারে কোলে পিঠে করে মানুষ করলাম? " ইত্যাদি ইত্যাদি !

বোন এদিকে ছিল বাথরুমে। যাও বা আসতো, আমার রাবীন্দ্রিক চিৎকার চেঁচামেচি আর অভিযোগ শুনে রেগে আগুন! আর ঘরে আসে না!!!!! [ আল্লাহ, তুমি কোথায়?]

হঠাৎ ই মনে পড়লো ৭টা বাজে।
" ইয়ে, আব্বু! দেখো তো , সাতটার খবর শুরু হয়ে গেল মনে হয়! "
অবশেষে ভদ্রলোকের প্রস্থান আর আমার জান কবুল! পরে পারিবারিক পুনর্মিলনীতে এই গল্প আমার বোন বড় তারিয়ে তারিয়ে বর্ননা করেছে।

বুঝুন, আমার সম্ভ্রমহানি আর বদের হাড্ডি আহ্লাদে আটখানি!!!!
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই ডিসেম্বর, ২০০৮ রাত ৮:২৮
৬৩টি মন্তব্য ০টি উত্তর পূর্বের ৫০টি মন্তব্য দেখুন

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৬

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:২৩



আমার নাম শাহেদ। শাহেদ জামাল।
আজ আপনাদের বলবো আমার জেল জীবনের কথা। জেলখানার খাবারের মান ভালো না। ফালতু খাবার। একদম ফালতু। এত ফালতু খাবার হয়তো আপনি জীবনে খান... ...বাকিটুকু পড়ুন

দ্য প্লান (ছোট গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৪

ষাট বছরের মাজেদা গত দুই সপ্তাহ ধরে শুধু প্লান করেছে, সে তার একমাত্র নাতিটাকে দেখতে যাবে। মেয়ে-জামাই বাড়ি বলে কথা! খালি হাতে কি যাওয়া যায়? তার ওপর তার সাত বছরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

-প্রতিদিন একটি করে গল্প তৈরি হয়-৫০

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ২৩ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯



একটি সাইকেলের জন্য কন্যা অনেক দিন ধরে অপেক্ষা করছে। সে মাটির ব্যাংকে টাকা জমিয়েছে।


ক্লাস ওয়ানে উঠলে তাকে বাই সাইকেল কিনে দেবো বলেছিলাম।

তো একদিন গেলাম, দেখলাম কিন্তু কিনলাম না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

আখিরাত ঠিক করার পাশাপাশি দুনিয়ার রাজনীতিতেও ঢুকে পড়লেন

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০৮


জাতীয় নির্বাচন শেষ হওয়ার দুই মাস পার হয়েছে। দেশের মানুষ একটু দম ফেলছে , চায়ের আড্ডায় যখন ভোটের উত্তাপ ফিকে হয়ে আসছে, ঠিক তখনই খবর এলো সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের।... ...বাকিটুকু পড়ুন

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

লিখেছেন নতুন নকিব, ২৪ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:০৩

পৃথিবীর কোথাও কেন রাত নামে না, আবার কোথাও সূর্য ওঠে না

ছবি অন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত।

জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক বাস্তবতা, ভৌগোলিক প্রভাব এবং আধ্যাত্মিক প্রতিফলন

আমরা প্রতিদিন যে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত দেখি, সেটাকে এতটাই স্বাভাবিক... ...বাকিটুকু পড়ুন

×