somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমার মধ্যবিত্ত চেহারা আর পলাশীর প্রান্তর

০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ১:৪৬
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

[ এইটা কোন গুরুত্বপূর্ণ পোস্ট না , যাপিত অন্ধকার । আমার ছোট্ট মাথায় আঁটছে না বলে ব্লগের পাতায় ঢেলে দিলাম । বন্ধু মানলে পড়েন, দুইটা গালি দিয়া বলেন , সামলায় নে , ধৈর্য্য ধর। শত্রু মানলে সানন্দে মাইনাস দাগিয়ে চলে যান কিংবা আমি কত্ত বড় ধান্দাবাজ , সেইটার প্রমান পেয়ে আনন্দিত হোন । তবে ভালো থাকুন, যতটা থাকা সম্ভব । অন্তত , আমার চেয়ে ভালো থাকুন, আল্লাহর কাছে মিনতি ]

"শা..." এর ফোনটা যখন এলো তখনও বড়ভাই এর খবর জানি না । প্রতিটা ফোনকেই মনে হয় , এই বুঝি খবর পাব , হয়ত পালিয়েছিলো অথবা ফোন করতে পারছিলো না । "প..." ভাই এর লাশ সনাক্ত করা গেছে , কথাটা তাই শেলের মত বিঁধলো বুকে। কত্ত ছোট্ট বেলা থেকে এক সাথে বড় হয়েছি । কত্ত স্মৃতি ! ইয়া লম্বু বলে পেয়ারা পেড়ে দেওয়া কিংবা বীর বিক্রমে তেলাপোকা মেরে আমাকে আর " মি..."কে প্রানহানি থেকে রক্ষা করা । কত প্যারেড, কত বার্ষিক ক্রীড়া , কত এক সাথে বাড়ি ফেরা , কত নীল ও সাদা দিয়ে বাঁধানো সুখের ছবি । তার ঠা ঠা হাসি । বড় শখ ছিলো সেনা অফিসার হবে , ছোলা খেয়ে বুক ডন দিতো আর টিংটিঙা গলায় মাফলার বেন্ধে জ্ঞান দিতো , " আমার আবার ঠান্ডা লাগার ধাত, বুঝলি ? তো ফিজিকাল এর দিন যদি সর্দি লাগে , তা'লে কি বেইজ্জতি হবে বল দেখি!"

ভাবী আর্তনাদ করে কাঁদছেন আর বার বার জ্ঞান হারাচ্ছেন। শুনতে শুনতে আমার গাল ভেজে , বুকের ভিতর সব এলোমেলো আর আগুন , কেবল আগুন। ভাবীর জ্ঞানহীন দেহটা আমার কল্পনায় কেমন করে যেন "প..."ভাই এর প্রানহীন দেহের সাথে মিলে মিশে একাকার হয়ে যেতে থাকে । আমি আর কিছুতেই দুইজনকে , দুই ভুবনকে আলাদা করতে পারি না । "শা..." কোন রকমে চিবিয়ে চিবিয়ে উচ্চারন করে , " একটা রাইফেল যদি পেতাম, শুয়োরের বাচ্চাগুলোকে নিজের হাতে মেরে রেখে আসতাম।" আমি কিছু বলি না ।

আমি অবশ্য আরো অনেক কিছুই বলি না ।যেমন , বলি না যে ১৫০০০ বি ডি আরের সবাইকে আমার শুয়োর মনে হচ্ছে না । বলি না যে সমস্ত ক্ষোভ, কান্না , কষ্ট , দ্রোহ অনুভব করার পরেও খুনের বদলে খুন করাটা অনুচিত মনে হচ্ছে । বলি না , প্রতিশোধ নিতে গেলে দেশে গৃহযুদ্ধ বাধবে , আজ নয়ত কাল। বলি না , এইটা ধৈর্য্য ধরার সময় । বলি না , ব্যক্তিগত শোককে সামলে রেখে দেশের স্বার্থে আমাদেরকে কিছু শুয়োরকে কোর্ট মার্শাল নয়, সাধারন আদালতে বিচার করতে হবে । বলি না , এই শুয়োর গুলোকে ফাঁসি দিতে আরো কিছু সময় নিতে হবে । বলি না , সকলেই জড়িত ছিলো না , তাই সকলকেই এক ভাবে বিচার করা ঠিক হবে না । বলি না , মানবেতর জীবনযাপনকারীরা উন্মত্ত হলে ইতরের মতই আচরন করে।

এই সব জ্ঞানের কথা । আদর্শের কথা। এইগুলা ব্লগে বলা যায় । ব্লগে আলোচনা করা যায়। লাশের সামনে দাঁড়িয়ে রাইফেল আর শুয়োরের সাথে একমত হওয়া ছাড়া উপায় নাই। আমি তাই , চোখের পানি মুছে লিখতে বসি । ভাবী ও "শা..." এর সাথে স্পষ্ট বিশ্বাসঘাতকতা করতে বসি । আমি আমার বন্ধু, সহপাঠী, আত্মীয়, পরিবারের বিরুদ্ধে লিখতে বসি। পাগলামি করতে ইচ্ছা হয় বলে লিখতে বসি। বাংলাদেশটা টিকবে কিনা ভেবে লিখতে বসি। এক ফোটা ঘুম কিছুতেই আসে না বলে লিখতে বসি। নিজেকে কি এক অজানা আক্রোশে ফালা ফালা করে দিতে ইচ্ছা হয় বলেই ... হয়ত ...

মাথার পিছনে শত শত মীরজাফর ঠা ঠা করে হাসে আমার দুর্ভাগ্য দেখে , হাসে ভাগ্যবিধাতা। ব্লগীয় পলিটিক্স জিতে নাকি অনেক কিছু করা যায়। যদি, ভাইয়ার জীবনটা ফেরাতে পারি!

ভাইয়া , তুমিও কি হাসতে পারছো কোথাও এই বোকা বোনটার পাগলামি দেখে ?
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মার্চ, ২০০৯ দুপুর ২:৩৮
১৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চর্যাপদঃ বাংলা ও বাঙালির ঐতিহ্য

লিখেছেন কিরকুট, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ৭:০৮

চর্যাপদ বাংলা সাহিত্যের প্রাচীনতম নিদর্শন হিসেবে স্বীকৃত হলেও, এর ভাষা ও উৎস নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিতর্ক চলে আসছে। ১৯০৭ সালে নেপালের রাজগ্রন্থাগার থেকে হরপ্রসাদ শাস্ত্রী এই পদগুলি আবিষ্কার করেন এবং... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ১৮৫

লিখেছেন রাজীব নুর, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ সকাল ১০:১৫



ইদের আগে মেহেদি দেওয়া যেন খুবই গুরুত্বপূর্ন কাজ মেয়েদের!
মেয়েরা লম্বা লাইন ধরে মেহেদি দিতে যায়। সব মার্কেটের সামনে ছোট টেবিলে বসে মেয়েরা মেহেদি দিচ্ছে। গত বছর আমার দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক !

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৩:৫২



আজ সকালটা খুব সুন্দর ছিলো! একদম ঈদের দিনের মতো! বারান্দার কাছে গেলাম। আমাদের বাসার পাশেই লালমাটিয়া গার্লস স্কুলের মাঠ। স্কুলের মাঠে একটা বটগাছ আছে। মাঠ থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২০ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৮:৩৪


আজ বাদে কাল ঈদ। ঈদ-উল-ফিতর প্রতি বছর আমাদের জীবনে নতুন নতুন অনুভূতি নিয়ে ফিরে আসে, তবে এই আনন্দের জোয়ার সবচেয়ে বেশি আছড়ে পড়ে শিশু-কিশোরদের মনে। সেই ছোটবেলার কথা মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঈদ মোবারক! ঈদ মোবারক!! ড: এম এ আলী ভাইয়ের লিরিকে আমার ঈদের গান

লিখেছেন সোনাবীজ; অথবা ধুলোবালিছাই, ২১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১২:৫৭

আমার জন্য ঘটনাটা একটু বিব্রতকর হয়ে গেছে। শায়মা আপুর এসো ঈদের গল্প লিখি ...... পড়ি পোস্টে আলী ভাইয়ের কমেন্ট (১০ নম্বর) পড়তে পড়তে নীচে নামতে নামতে নিজের নাম দেখে হুট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×