somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ক্রিকেট উল্লাসের প্রাণময়তায় বর্ণমালার জল...

২২ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বাংলাদেশ ইন্ডিয়ারে হারাইলো, খেলা সারারাইতভর জাইগা দেখলাম, মনটা ভালোই ছিলো পরের দিন...কিন্তু মনে হইলো ক্রিকেট বাণিজ্যতো বেশ দাঁড়াইছে! আমাগো ব্লগেও তার প্রমাণ জলজ্যান্ত হাজির...সবাই আছে ক্রিকেটেই সারাক্ষণ...কোথাকার কোন মন্দিরা বেদী টেলিভিশনের ভারতীয় দর্শকগো মাথায় রাইখা ইংরেজী/হিন্দি মিশাইয়া কি জানি কয়...তার ব্যবচ্ছেদে আমরা তুলকালাম! তার পোশাকেও খুঁত ধরি...রুচী বোধ খারাপ বইলা আমাগো দেশী সংস্কৃতিবানগো কাছে ভালোই গালি খায় বেচারী...

এক জয়ে আমরা, মানে বাংলাদেশীরা উদ্্বেলিত হই... আশায় বুক বাঁধি, এইবার! আমরা দোয়াখায়েরের মিছিল লাগাই...আমরা প্রশংসার তুবড়ি ছোটাই...ক্রিকেট আমাগো জাতীয় জীবনে সকল বিভেদ মুইছা দেয়। আশরাফ রহমান আর জামাল ভাস্কর একমতো চিন্তা করে...দেশের একটা জয় এইরম...এতোটাই শক্তিশালী! ছাগল আর বাঘেরে একঘাটেই জল খাওনের স্বপ্ন দেখায়...
ভারত আর পাকিস্তান এই দুই শক্তিরে নিয়া আমরা কাইজ্জা করি, কে কার চেয়ে বড় শয়তান সেইটা নিয়া হুজুগে মাতি...এরপর কার যে লাভ আর কার যে ক্ষতি হয় সেইটা...মনে হয় না কেউ জানে!

শ্রীলংকা বাংলাদেশরে হারাইলো, খেলা সারারাইতভর জাইগা দেখলাম, এখন এক নির্লিপ্ত মনে প্রায় ফাঁকা অফিসে বইসা ব্লগপোস্ট লেখি, কারো কিছু যায় আসে না। খেলা যতোদূর বুঝি বাংলাদেশ কাইলকা খুবই খারাপ খেলছে এইটা যেমন সত্য, তার লগে তাগো সামর্থ্যও যে একটা সীমানাতে বাধা এখনো, সেইটা উদ্ভাষিত...একজন জাতীয়তাবাদী হিসাবে আমার মান খুব ভালো না। একজন ইউনুস নোবেল পাইলে, বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়া-ভারত কিম্বা শ্রীলংকারে হারাইলে আমি উল্লাশে মাইতা উঠনের আবেগ ধারণ করতে পারি না, স্রেফ একটু ভালো লাগা, পরিচিত নামের বদৌলতে মনে হয় এতোটুকু ঘটে। মনে হয় আমার নিউজিল্যান্ডার বন্ধু সায়মন ডেকেন ফরমুলা ওয়ান জিতলেও আমি ঠিক এইরম খুশিই হমু। আরেকটু আছে বৃহৎ শক্তির পরাভব দেখনের বাসনা...টুইন টাওয়ার ভাঙনের পর এতো লোক মারা গেলো...আমি কিন্তু প্রথমেই একটু খুশিই হইছিলাম...সাম্রাজ্যবাদের ধ্বংসে আমার আনন্দ আছে...এইটারে পারভারসিভ কইলে তাই...আমি এইরমই!

আইজকা দেখলাম ইমন পোস্টাইছে হার্পারের প্রতি ক্ষোভ নিয়া, ভালো পোস্ট...কিন্তু আমার মনে পইড়া গেলো তার এর আগের ক্রিকেট সম্পর্কীত পোস্টটার কথা। সেইখানে সে বলছিলো, তার পুরা পরিবার নাকি রানার সমরণে ঐ খেলাটা দেখছে...খেলার চেয়ে রানা আর সেতু বেশি ছিলো তাগো চেতনায়। আমার একটা উদ্ভট কথা মনে হইলো, আসলেই উদ্ভট! আতকাইয়া উঠতে পারে অনেকেই এইকথা শুনলে...আমার মনে হইছে প্রতি খেলার আগে যদি একজন কইরা তরুণ খেলোয়াররে মাইরা ফেলন যাইতো! খেলায় জিততে যদি আমার উপলক্ষ্য লাগে...দোয়া লাগে...করুণা লাগে...সেই খেলার দরকার কি! খেলাটাইতো থাকে না সেইখানে...বরং বাণিজ্যতো ভালো এই আবেগের চাইতে! দোষ কি বাণিজ্যের! তারাও তো আসলে এইসবরেই পুঁজি কইরা চলে!

আমি বিশ্বকাপে আজীবন ওয়েস্ট ইন্ডিজরে সাপোর্ট দেই...ক্রিকেট খেলাটা যখন বুঝতে শিখছি ঐ টাইমে তারা দোর্দন্ড প্রতাপে সবাইরে লৌড়াইতেছে বিশ্বময়। বিশ্ব চ্যাম্পিয়ান ভারতরে পরের সিরিজেই হোয়াইট ওয়াশ! টানা 11 টেস্ট অপরাজিত সেই আমলে...ক্যারিশমাটিক সব খেলোয়ার...ভিভ-লয়েড-মার্শাল-গার্ণার-কানহাই-হোমস-রবার্টস! ভাবন যায় একটিমে এইসব প্লেয়ার! এখনো ঐ ভালোবাসাটা আছে...লারা সেঞ্চুরী করুক মনে প্রাণে চাই, প্রতি খেলাতেই...পাকিস্তানের সার্কাস্টিক কিম্বা ইন্ডিয়ার বোরিং ক্রিকেট ঠিক নিতে পারি না, আশির দশকে কৈশোরত্তীর্ণ আমি।

কি যে আসলে লিখতে চাইছিলাম আমি! কি যে লিখলাম! কিছুই বুঝতেছিনা...মনে হয় বহুদিন পর ব্লগে আবার বর্ণমালা সাজাইলাম...অনুভূতির বর্ণমালা...যারা শুণ্যতারে ঢাকে...যারা অহেতুক আবেগেও প্রাণময়তা জাগায়...আবার একই সাথে যুক্তির পরম্পরাতে ভাবতে শিখায়! বর্ণমালারা এমনই...
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১২:৩৮
২৯টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মহাজন জিন্দা হ্যায়!!!

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৭



মনে পড়ে, ঠিক এক বছর আগে গত বছর এই সময়ের দিকে ফেসবুক বা সোশ্যাল মিডিয়া ভেসে যাচ্ছিল 'মহাজন স্যারকে আরও ৫ বছর বাংলাদেশের সরকার প্রধান হিসেবে দেখতে চাই' টাইপের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধর্ম অটুট, মৌলভিরা নন: সমালোচনা মানেই অশ্রদ্ধা নয়

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৬



নবী ইউসুফ (আ.)-এর সময় মিসরীয়রা 'আমুন' দেবতার পূজা করত। মিসরের শাসক আপোফিসকে তার পিতা তৎকালীন পুরোহিতদের কুচক্রী স্বভাব সম্পর্কে সতর্ক করেছিলেন। এই পুরোহিতরা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজ্যসভা থেকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শৈশব- কৈশোর বেলার গল্প

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৮ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৪৭



আমাদের শৈশব ছিলো অতিশয় প্রাণপ্রাচুর্যময় যদিও শৃঙ্খলাপূর্ণ।
একালের মতো বিলম্বিত শয্যা ত্যাগ রীতিমতো গর্হিত অপরাধ! শয্যা ত্যাগ করেই বিশেষত অবকাশের দিন গুলোতে নিয়মিত গন্তব্য ছিলো কারো কারো খেলার... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ পাখির জগত

লিখেছেন ইসিয়াক, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:০০



টোনাপাখি লেজ নাচিয়ে গাইছে মধুর গান।
গান শুনে টুনিপাখি আহ্লাদে আটখান।

টোনা যখন উড়ে ঘুরে অন্য ডালে বসে।
টুনি এসে ঠিক তখনই বসে তারই পাশে।

বুলবুলিদের পাড়ায় আজ দারুণ শোরগোল।
নানা শব্দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মোহভঙ্গ!

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৯ ই মে, ২০২৬ সকাল ৭:৪৮



পদ্মা সেতু নিয়ে কত অপবাদই না দেয়া হয়েছিলো! বলা হয়েছিলো- বাংলাদেশ কখনো নিজস্ব অর্থায়নে এত বড় প্রকল্প করতে পারবে না। দুর্নীতির অভিযোগ তুলে বিশ্বব্যাংক সরে দাঁড়ায়। অথচ শেষ পর্যন্ত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×