somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কম খরচে ই-কমার্স ডেভেলপমেন্টের ইতিকথা এবং ক্রিয়েটিভস' ক্লাব!

২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আমি যখন কম খরচে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং এ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করে দেয়ার পোস্ট কিংবা কমেন্ট করি- অনেকেই আমার যোগ্যতা নিয়ে কিংবা অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন করেন। ভাই, আমি ১০ বছর ধরে ওয়েবসাইট ডেভেলপমেন্ট করছি এটাই সত্যি! আরো কিছু পেছনের সত্যি বলার জন্য আজ এই পোস্টটি লিখতে বসেছি। ছোটবেলা থেকেই স্বপ্ন ছিল বৈমানিক হব। এ্যারোস্পেস ইঞ্জিনিয়ারিং করার পর টাকা পয়সার সমস্যা থাকা সত্ত্বেও তাই ফ্লাইট স্কুলে ভর্তি হব ভাবছিলাম। কিন্তু ততদিনে ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ও হোস্টিং ব্যবসায় নেমে গিয়েছিলাম। সাথে জুড়ে গিয়েছিল আরো কতগুলো পরিবারের রুটি-রুজির স্বপ্ন! ঐ অবস্থায় আমার বাসার চাপ থাকার পরও ভাবলাম ব্যবসাটাকে দাড় করাই। যে যে এটার উপরে নির্ভর্শীল তারাও আশা পাবে, আর টাকা হলে তো পাইলট হতেই পারব। এর পর অবশ্য ঐ দুঃস্বপ্নের পথে আর হাটা হয়ে ওঠেনি। আব্বার চাকরি চলে গেল, অন্য একটা ব্যবসায় টাকাটা ইনভেস্ট করে ধরা খেলেন, কিছু ঋণ এর কারণে অভাব অনটন শুরু হয়ে গেল, দেড় বছর পর আব্বা ব্রেইন স্ট্রোক করলেন অবশেষে ৭ মাসে ১৭টি হাসপাতাল পাড় করে তিনি ইন্তেকাল করলেন। ওয়েব ডেভেলপমেন্ট ব্যবসাটায় বড়সর ধস নামল- ৭মাস আমি না থাকাতে কেউ ঠিক মত হাল ধরতে পারে নি। যাই হোক, কাজ জানি! তাই আবার শুরু করলাম। খরচ কমাতে এবার অফিস নিয়ে গেলাম বাসার কাছাকাছি, উত্তরখানে। যাদের জন্য বৈমানিক হওয়ার সুযোগ ছেড়ে দিলাম... তারা একে একে আমাকে ছেড়ে দিল। আমার অর্থনৈতিক দূর্বলতা এসে গিয়েছিল কিনা! একজন আইনজীবী- শ্রদ্ধেয় দাদা ইনভেস্ট করলেন নতুন করে। সাথে পেলাম মাহমুদ ভাই কে।

যাই হোক, আমি ঘুরে দাঁড়ানোর মানুষ। করেছিও তাই। চাকরি নেইনি কোথাও। ছোট্ট বাচ্চা ছেলেটার কথা চিন্তা করেও না। কারণ আমি জানি ধাক্কা সামলাতে সময় লাগবে না। কিন্তু গোলামির শেকল ইহকালে আর ছিড়ে বেরুতে পারব না। যেমন আমার বাবা ৪০ বছরেও পারেননি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এ্যাকাউন্টিংয়ে অনার্স, মাস্টার্স করেছিলেন তিনি! কিন্তু আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থাই যে কেরানী তৈরির শিক্ষা ব্যবস্থ্যা। অনলাইনেও দেখা যায় কেউ স্বল্প পুঁজির ব্যবসার কথা বললে রিপ্লাই আসে, "ভাই আপনার যোগ্যতা আছে, ভাল কোন কোম্পানীতে জব করেন না কেন?" তাই নেমে গেলাম সমাজ এবং শিক্ষাব্যবস্থা শুধরানোর মিশনে। কি? হাসি পাচ্ছে? বিশ্বাস করুন, যতগুলো স্কুলে আমরা গিয়েছি এবং যাদের সাথে কথা বলেছি... কেউ হাসেননি! আপনি এখনো আমার লেখা পড়ছেন... মানে হল আমি একজন ভাল প্রেজেন্টার। দলনেতা ছিলাম বিএএফ শাহীন কলেজ কুর্মিটোলা টেলিভিশন বিতর্ক দলের। যাই হোক, ক্রিয়েটিভস' ক্লাব নামে একটা ক্লাব প্রতিষ্ঠা করেছি। বিভিন্ন স্কুলে ইংলিশ ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব, ডিবেট ক্লাব, সায়েন্স ক্লাব, আর্টস ক্লাব, লিটারেচার ক্লাব এবং কম্পিউটার ক্লাব এর মাধ্যমে চলছে ক্রিয়েটিভস' ক্লাবের কার্যক্রম। আমি এবং আমাদের মেন্টররা সপ্তাহে ২ দিন করে স্কুল শেষে বাচ্চাদের নিয়ে বসছি এবং চেষ্টা করছি পালাক্রমে এই সকল বিষয়গুলোতে তাদের পারদর্শী করে তোলার। সহযোদ্ধা হিসেবে আবারো পাশে পেয়েছি মাহমুদ ভাইকে, যিনি এখন ক্লাবের প্রেসিডেন্ট। ভাগ্যের জোড়ে পেয়েছিলাম মইনুল, সাইদুর রহমান, ফাহিম আহসান, রিওন কিংবা শিহাবদের মত ক্রিয়েটিভদেরকে। ইংলিশকে আমদের দেশে নাম্বার তোলার জন্য "সাবজেক্ট" হিসেবে ট্রিট করা হয়, ভাষা হিসেবে নয়। তাই ল্যাঙ্গুয়েজ ক্লাব শুধু চর্চা করায় ইতোমধ্যেই শেখা শব্দগুলোর ব্যবহার করে কিভাবে কথা বলা যায়, নতুন কিছু শেখায় না। কম বেশি সবাই ইংলিশ জানি, শুধু বলতে না পারার কারণে নাম্বার কাটা হয় না বলে আমরা বলতে পারি না। বিতর্ক দেবে প্রেজেন্টেশন, সাধারণ জ্ঞান এবং উপস্থিত বুদ্ধির দক্ষতা। বিজ্ঞাণ সবার জন্য, তাই জীবনের প্রয়োজনীয় বিজ্ঞান চর্চায় সায়েন্স ক্লাব। কৃষ্টি-কালচারের জন্য আর্টস ক্লাব। সাহিত্যের প্রতি মনোযোগ বাড়াতে লিটারেচার ক্লাব। জানেনতো? লাইব্রেরিতে গেলে হাজারবছর পূর্বে মৃত মানুষের সাথে কথা বলা যায়? তাদের জীবন এবং সেই সময় সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করা যায়? আর কম্পিউটার ক্লাবে আমরা শুধু টাইপিং আর তথা কথিত আইসিটিই শিখাই না; বাস্তব জীবনে প্রয়োজনীয় সত্যিকারের স্কিল শিখাই। যেখানে মেম্বাররা গ্রাফিক ডিজাইন, ওয়েব ডিজাইন থেকে শুরু করে ফটোগ্রাফি, ভিডিও এডিটিং এমনকি এ্যাপ ডেভেলপমেন্ট পর্যন্ত শেখে। আমরা ওদের বলি ফেসবুকে কিংবা গেইমস খেলে সময় কাটাও? ওরকম কিছু বানাতে ইচ্ছে হয় না? উৎসাহ দেই, যেন তারা এক দশক পরে দেশের যোগ্য নাগরিক হতে পারে। লীড দিতে পারে নিজের পরিমন্ডলে। তাই আমাদের স্লোগান- BE CREATIVE, LEAD TOMORROW!

উপসংহারে আসি। ভাই, আপনার সন্তানের ভবিষ্যৎ তথা দেশের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে যেটি করছি, তাতে নিজের সন্তানের প্রতি নজর দিতে পারিনা অনেক সময়। আপনাদের ভালবাসা পেলে একদিন অনেক দূরে যেতে পারব ইনশাআল্লাহ্‌। আমরা কোন ডেনেশন নেই না, কারণ আমরা ডিস্কো ফকির... কেউ ডোনেট করবে না। আর স্কুল কিংবা শিক্ষার্থিদের কাছ থেকেও টাকা নেই না- পাছে তাদের উৎসাহ কিংবা সহযোগিতা হারিয়ে ফেলি! আমাদের অনেক খরচ আছে। ২০-২২টার মত স্কুল নিয়ে কাজ করছি মাত্র। রেগুলার কার্যক্রম চালাতে মেন্টরদেরকে কনভেন্স বাবদও কিছু না দিলে তার ক্রিয়েটিভিটি থেকে আমরা বঞ্চিত হই। তারওতো কিছু জৈবিক চাহিদা আছে। আগামী মাস থেকে ক্লাবের একটা ম্যাগাজিন বের করতে চাচ্ছি শিক্ষার্থীদেরকে একটা প্ল্যাটফর্ম করে দেয়ার জন্য। টাকার জন্য সেই প্ল্যানও দু'বার পিছিয়েছে। তো এখন আমাদের ক্লাব কিভাবে চলছে? যদি এটি আপনার প্রশ্ন হয়... আপনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপণ করছি। ঐযে ১ম লাইনে বলেছিলাম, কম খরচে ই-কমার্স ওয়েবসাইট এবং এ্যাপ ডেভেলপমেন্ট করি! হ্যাঁ, আমার প্রতিষ্ঠান 'ঢাকা ল্যাব'ই (https://dhakalab.com) এখন ক্লাবটিকে দেখে। এবং ক্লাবের জন্য চেষ্টা করে যা আয় হয় প্রায় পুরোটুকুই দিয়ে দিতে (শুধুমাত্র আমার বাজার খরচটুকু রেখে) :) । ভাই, ক্লাবের যখন স্পন্সর থাকবে তখন তো আর টাকার কষ্ট করতে হবে না! এই এক অন্ধ বিশ্বাসে এগুচ্ছি! তাই আপনাদের কাছে আজ ব্যপারটা খোলাখুলি বলতে চেষ্টা করলাম। আমাদের ক্লাবের সদস্য যে কেউ হতে পারেনঃ https://facebook.com/groups/creativesclub.org (পারলে পরিচিতদেরকেও ক্লাবের ব্যপারটা শেয়ার করেন, বলা তো যায় না... কোন দিক থেকে কোন উপকার এসে যায়!)
আর হ্যাঁ, আপনাদের যদি ই-কমার্স ওয়েবসাইট কিংবা এ্যাপ, বিশেষ করে WooCommerce স্টোরের জন্য এ্যান্ড্রয়েড এ্যাপ প্রয়োজন হয় আমাকে মেসেজ করতে পারেন। কিংবা কল করতে পারেনঃ ০১৬৭৮-৬৬৯-৬৯৯ এই নাম্বারে। আপনি শেষ লাইনটিও পড়ছেন! অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে!!

সর্বশেষ এডিট : ২৬ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ঠেলায় নাম বাবাজি

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:১৯


সময়টা সরকারের জন্য মোটেও ভালো যাচ্ছে না। একদিকে গ্যাস আর বিদ্যুতের সংকটে মানুষ প্রতিদিন কষ্টে দিন কাটাচ্ছে, অন্যদিকে সরকারের একের পর এক সিদ্ধান্ত নেটিজেনদের বাধার মুখে পড়ছে। ফলে সরকার নতুন... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার মত তারেক জিয়াও কি ভারতে ইলিশ পাচার করছে?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১০ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১১:২৬



চলছে ইলিশের ভরা মৌসুম কিন্তু বাজারে কোন ইলিশ নেই.... ইলিশ নেই বললে ভুল হবে ইলিশ আছে কিন্তু উহা সাধারণ মানুষের ধরা ছোঁয়ার বাইরে। আওয়ামীলীগ আমলের ১৭ টি বছর... ...বাকিটুকু পড়ুন

~~~সংশয়~~~

লিখেছেন জটিল ভাই, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:০৩

♦أَعُوْذُ بِاللهِ مِنَ الشِّيْطَانِ الرَّجِيْمِ (বিতাড়িত শয়তান থেকে আল্লাহ্'র নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি)
♦بِسْمِ ٱللَّٰهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ (পরম করুণাময় অসীম দয়ালু আল্লাহ্'র নামে)
♦ٱلسَّلَامُ عَلَيْكُمْ (আপনার উপর শান্তি বর্ষিত হোক)


(ছবি নেট হতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গুপ্ত ও সুপ্ত কি আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে পারবে?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:৫২



গুপ্ত ও সুপ্ত আওয়ামী লীগকে লুপ্ত করতে না পারলে তারাই আবার ফিরতে পারলে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত করার কার্যক্রম গ্রহণ করবে। কারণ অতীতে গুপ্ত ও সুপ্তকে লুপ্ত না... ...বাকিটুকু পড়ুন

পাহাড়ে “উপজাতি” নাকি “আদিবাসী”? আন্তর্জাতিক আইন ও ইতিহাসের নির্ভেজাল সত্য!​

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ১১ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ১১:২৭


সূচনা ও প্রেক্ষাপট:
লেখক পার্বত্য চট্টগ্রামে ২০০১ সালে তিনি যখন সেখানে দায়িত্ব পালন করেন, তখন পাহাড়ি জনগোষ্ঠীকে 'উপজাতীয়' (Tribal) হিসেবে ডাকা হতো। কিন্তু ২০১৫-১৬ সালের দিকে সেখানে পুনরায় পোস্টিং পাওয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

×