somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ওয়েলকামজুয়েল
সত্য সদা সুন্দর চিরন্তন

প্রসংগ : উর্দু ভাষাভাষী মানুষ কতটা মিশতে পেরেছে বাঙ্গালী সংস্কৃতির সাথে

১৬ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রবিবার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে বিহারী নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ করেছেন হতাহতের প্রতিবাদ জানিয়ে।বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পে চার দশকের বেশি সময় ধরে বাস করা এসব উর্দুভাষীদের সাথে ও স্থানীয় বাঙ্গালীদের মধ্যেকার সম্পর্ক কোন পর্যায়ে রয়েছে?ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার জন্ম খালেদ হোসেনের। জন্মসূত্রেই বাংলাদেশের নাগরিক মি. হোসেন পড়াশোনা শেষে এখন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।তিনি বলছিলেন উর্দুভাষী হিসেবে জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়াই তাকে এই পর্যন্ত আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সেসব প্রশাসনিক জটিলতা।ক্যাম্পে বা ক্যাম্পের বাইরে বসবাসের সময় স্থানীয় বাঙ্গালীদের সাথে সম্পর্কের তেমন কোন টানাপোড়েনের মধ্যে তিনি পড়েননি।মি: হোসেন বলেন, “জন্মের পরেই দেখলাম আমি জেনেভা ক্যাম্পে, বাবা-মা আটকে পরা পাকিস্তানী। আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলাম, গ্রাজুয়েশন করলাম এখন ল’ প্রাকটিস করছি। অনেক ডিসক্রিমিনেশনের শিকার হতে হয়েছে। তবে কিছু ভাল মানুষ অবশ্যই ছিল যাদের অনেক সাহায্য পেয়েছি”।ঢাকায় যে কয়টি ক্যাম্প রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মিরপুরের কালসির বিহারী ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে এর পাশেই বাস করছেন মেহেরুন্নিসা হক।তিনি বলছিলেন ১৯৭৩ সালে যখন তারা এখানে থাকা শুরু করেন তখন কিছুটা অস্বস্তি কাজ করলেও সময়ের আবর্তে তাদের সম্পর্ক একে অপরের কাছে খুব ভাল প্রতিবেশী হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।মিসেস হক বলছিলেন,“১৯৭৩ সালে যখন থাকতে আসি তখন সম্পর্ক খুব ভাল না থাকলেও খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু এখন অনেক ভাল। আমাদের বাজার এক, আমরা একই কলের পানি খায়। কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি”।বাংলাদেশের এসব উর্দুভাষী যারা বিহারী নামেই বেশি পরিচিত তাদের জন্য সারা দেশে ১১৬ টি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে আনুমানিক ছয় লাখের মত উর্দুভাষী এসব মানুষ বাস করছেন।বাংলাদেশে গত চার দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে এসব উর্দুভাষী মানুষ- যাদের কেও কেও নিজেদের নিজেদের আটকে পড়া পাকিস্তানী হিসেবে পরিচয় দেন।শনিবারের সংঘর্ষের পর বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে ক্যাম্পগুলো।এদের বেশির ভাগেরই জন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। এসব উর্দুভাষী মানুষ বাংলাদেশের মূল সমাজের সাথে তারা কতটা মিশতে পেরেছেন?উর্দুভাষীদের সংগঠন উর্দু স্পিকিং পিউপিলস ইয়ুথ রিহেবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান বলছিলেন স্থানীয় বাঙ্গালিদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভাল।তবে ১৯৯৫ সালের তাদের ক্যাম্পের জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের জন্য তৎকালীন সরকারের দেওয়া প্লট বরাদ্দের কারণেই তার ভাষায় বহিরাগতদের সাথে তাদের এই সমস্যাগুলোর সূত্রপাত হয়।মি: খানের বর্ণনায়,“আমাদের বাড়িঘর যেখানে ছিল সেখানে সরকার ক্যাম্প করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এই জমির ওপর স্থানীয় বাঙ্গীদের প্লট অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হয়।তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে এখানে স্থানীয় মাস্তানদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ অবস্থা দূর করার জন্য সরকারকে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা দূর করতে হবে।”২০০৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্দুভাষী এ জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করা হয়।ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে অনেকেই রয়েছেন যারা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবন শুরু করেছেন মিশে গেছেন সমাজের মুল স্রোতে।তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মূলত স্থানীয়দের সাথে তাদের এই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেছেন উর্দুভাষী এই জনগোষ্ঠী।রবিবার মিরপুর ও মোহাম্মদপুরে বিহারী নামে পরিচিত এই জনগোষ্ঠী বিক্ষোভ করেছেন হতাহতের প্রতিবাদ জানিয়ে।বাংলাদেশে বিভিন্ন ক্যাম্পে চার দশকের বেশি সময় ধরে বাস করা এসব উর্দুভাষীদের সাথে ও স্থানীয় বাঙ্গালীদের মধ্যেকার সম্পর্ক কোন পর্যায়ে রয়েছে?ঢাকার মোহাম্মদপুরের জেনেভা ক্যাম্পে বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর তার জন্ম খালেদ হোসেনের। জন্মসূত্রেই বাংলাদেশের নাগরিক মি. হোসেন পড়াশোনা শেষে এখন আইন পেশায় নিয়োজিত আছেন।তিনি বলছিলেন উর্দুভাষী হিসেবে জেনেভা ক্যাম্পে জন্ম নেওয়াই তাকে এই পর্যন্ত আসতে বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তবে সেসব প্রশাসনিক জটিলতা।ক্যাম্পে বা ক্যাম্পের বাইরে বসবাসের সময় স্থানীয় বাঙ্গালীদের সাথে সম্পর্কের তেমন কোন টানাপোড়েনের মধ্যে তিনি পড়েননি।মি: হোসেন বলেন, “জন্মের পরেই দেখলাম আমি জেনেভা ক্যাম্পে, বাবা-মা আটকে পরা পাকিস্তানী। আমি ইন্টারমিডিয়েট পাশ করলাম, গ্রাজুয়েশন করলাম এখন ল’ প্রাকটিস করছি। অনেক ডিসক্রিমিনেশনের শিকার হতে হয়েছে। তবে কিছু ভাল মানুষ অবশ্যই ছিল যাদের অনেক সাহায্য পেয়েছি”।ঢাকায় যে কয়টি ক্যাম্প রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম মিরপুরের কালসির বিহারী ক্যাম্প। দীর্ঘদিন ধরে এর পাশেই বাস করছেন মেহেরুন্নিসা হক।তিনি বলছিলেন ১৯৭৩ সালে যখন তারা এখানে থাকা শুরু করেন তখন কিছুটা অস্বস্তি কাজ করলেও সময়ের আবর্তে তাদের সম্পর্ক একে অপরের কাছে খুব ভাল প্রতিবেশী হিসেবেই প্রতীয়মান হয়েছে।মিসেস হক বলছিলেন,“১৯৭৩ সালে যখন থাকতে আসি তখন সম্পর্ক খুব ভাল না থাকলেও খুব খারাপ ছিল না। কিন্তু এখন অনেক ভাল। আমাদের বাজার এক, আমরা একই কলের পানি খায়। কখনো আলাদা কিছু মনে হয়নি”।বাংলাদেশের এসব উর্দুভাষী যারা বিহারী নামেই বেশি পরিচিত তাদের জন্য সারা দেশে ১১৬ টি ক্যাম্প রয়েছে। ক্যাম্পের ভিতরে ও বাইরে আনুমানিক ছয় লাখের মত উর্দুভাষী এসব মানুষ বাস করছেন।বাংলাদেশে গত চার দশকের বেশি সময় ধরে বিভিন্ন ক্যাম্পে বসবাস করছে এসব উর্দুভাষী মানুষ- যাদের কেও কেও নিজেদের নিজেদের আটকে পড়া পাকিস্তানী হিসেবে পরিচয় দেন।শনিবারের সংঘর্ষের পর বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে ক্যাম্পগুলো।এদের বেশির ভাগেরই জন্ম বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পর। এসব উর্দুভাষী মানুষ বাংলাদেশের মূল সমাজের সাথে তারা কতটা মিশতে পেরেছেন?উর্দুভাষীদের সংগঠন উর্দু স্পিকিং পিউপিলস ইয়ুথ রিহেবিলিটেশন মুভমেন্টের সভাপতি সাদাকাত খান বলছিলেন স্থানীয় বাঙ্গালিদের সাথে তাদের সম্পর্ক ভাল।তবে ১৯৯৫ সালের তাদের ক্যাম্পের জমির ওপর স্থানীয় বাঙালিদের জন্য তৎকালীন সরকারের দেওয়া প্লট বরাদ্দের কারণেই তার ভাষায় বহিরাগতদের সাথে তাদের এই সমস্যাগুলোর সূত্রপাত হয়।মি: খানের বর্ণনায়,“আমাদের বাড়িঘর যেখানে ছিল সেখানে সরকার ক্যাম্প করে। কিন্তু ১৯৯৫ সালে এই জমির ওপর স্থানীয় বাঙ্গীদের প্লট অ্যালোটমেন্ট দেওয়া হয়।তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজন এসে এখানে স্থানীয় মাস্তানদের ভাড়া করে আমাদের ওপর হামলা চালায়। এ অবস্থা দূর করার জন্য সরকারকে জমি সংক্রান্ত ঝামেলা দূর করতে হবে।”২০০৩ সালে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে উর্দুভাষী এ জনগোষ্ঠীর ভোটার তালিকায় নাম নিবন্ধন করা হয়।ক্যাম্প ও ক্যাম্পের বাইরে অনেকেই রয়েছেন যারা পড়াশোনা শেষে কর্মজীবন শুরু করেছেন মিশে গেছেন সমাজের মুল স্রোতে।তবে জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে মূলত স্থানীয়দের সাথে তাদের এই সম্পর্কের অবনতি হচ্ছে বলে মনে করেছেন উর্দুভাষী এই জনগোষ্ঠী।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই জুন, ২০১৪ সকাল ৯:৩৭
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

ক্ষতিগ্রস্থ ইসরায়েলি জনপদ!

লিখেছেন মোঃ খালিদ সাইফুল্লাহ্‌, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:৩২



সুরা আ’রাফের ৪ নং আয়াতে বলা হয়েছে,”আর এমন বহু জনপদ রয়েছে, যা আমরা ধ্বংস করে দিয়েছি। তখনই আমাদের শাস্তি তাদের উপর আপতিত হয়েছিল রাতে অথবা দুপুরে যখন তারা বিশ্রাম... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×