২০২৪ সালের রক্তক্ষয়ী জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তির ঐতিহাসিক দিনে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে সাউথ এশিয়ার ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাব (এফসিসি) আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের মুখোমুখি হন বাংলাদেশের আদালত কর্তৃক মানবতাবিরোধী অপরাধে সাজাপ্রাপ্ত ও ছাত্র জনতার গনঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরশাসক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সেখানে সরাসরি উপস্থিত না হয়ে ভার্চুয়ালি অডিও কলের মাধ্যমে তার উস্কানিমূলক বক্তব্য প্রদান এবং তার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের অভূতপূর্ব প্রতিক্রিয়া দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে এক নজিরবিহীন উত্তাপের জন্ম দিয়েছে। ভারতীয় ভূখণ্ডকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের সাবেক একজন স্বৈরাচারী শাসককে এ ধরনের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ করে দেওয়া এবং বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব ও জুলাই বিপ্লবের শহীদদের প্রতি অবমাননাকর এই পদক্ষেপ বাংলাদেশের জনগণকে চরম ক্ষুব্ধ করেছে। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের দেড় বছরের টানাপোড়েন পেরিয়ে সদ্য গঠিত বিএনপির অধীনে দুই দেশের সম্পর্কে যখন নতুন বাণিজ্যিক গতিশীলতা, বিদ্যুৎ, পানিবণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো ঝুলন্ত ইস্যু নিষ্পত্তির পাশাপাশি ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশগ্রহণের আমন্ত্রণ ঘিরে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার উন্মোচিত হচ্ছিল, ঠিক সেই মুহূর্তে ভারতের এই অবস্থান সম্পর্ক পুনর্গঠনের চলমান প্রক্রিয়াকে এক গভীর অনিশ্চয়তার সামনে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করে যে কোনো পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার ঘোষণা দেন। এর পরপরই দিল্লির এই উদ্যোগকে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ এবং সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হিসেবে আখ্যা দিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করে ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এই আয়োজন বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠনের ওপর কী ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, সে বিষয়ে ভারত সরকারকে আগেই কূটনৈতিক মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে সতর্ক করা হয়েছিল। তা সত্ত্বেও নয়াদিল্লিতে এমন একটি প্রকাশ্য রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডকে সুযোগ করে দেওয়ায় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে গভীর দুঃখ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে দাবি করেন যে, শেখ হাসিনার ওই সংবাদ সম্মেলনটি ছিল একটি বেসরকারি মিডিয়া প্রতিষ্ঠানের আয়োজন এবং এর সঙ্গে ভারত সরকারের কোনো সম্পৃক্ততা ছিল না। ভারত সরকার ওই বক্তব্যের দায় নিবে না বা বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের বিষয়ে করা কোনো মন্তব্য সমর্থন করে না বলেও তিনি উল্লেখ করেন। কিন্তু ভারতীয় মুখপাত্রের এই সাফাই বাংলাদেশ সরকার ও জনগণের কাছে অত্যন্ত দুর্বল, অগ্রহণযোগ্য ও দ্বিমুখী আচরণ হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। কারণ, ভারত সরকারের এই পদক্ষেপ মোটেও আকস্মিক বা অনাকাঙ্ক্ষিত কোনো বিষয় ছিল না। এই ঘটনার মাত্র কয়েক দিন আগেই স্বয়ং ভারতীয় লোকসভার পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় কমিটি তাদের আনুষ্ঠানিক প্রতিবেদনে নিশ্চিত করেছিল যে, ভারতীয় ভূখণ্ড ব্যবহার করে শেখ হাসিনাকে কোনো রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালানোর অনুমতি দেওয়া হবে না। অন্যদিকে সংবাদ সম্মেলনটি আয়োজনের আগেই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে বৈঠক করে স্পষ্ট ভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি যেন ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির সুযোগ না পান।
তা সত্ত্বেও নয়াদিল্লির বুকে এফসিসির ব্যানারে ভারতীয় সাংবাদিকদের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে শেখ হাসিনার জন্য এক সুনির্দিষ্ট রাজনৈতিক মঞ্চ তৈরি করা বাংলাদেশের রাজনীতির জন্য মোটেও গ্রহনযোগ্য নয় । অতীত কূটনৈতিক নজির ভারতের বর্তমান ব্যাখ্যার সাথে মোটেও যায় না ।
২০১৮ সালে যখন তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার ব্রিটিশ আইনজীবী লর্ড কার্লাইল বাংলাদেশে আসতে চাইলে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছিল, তিনি বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল নিয়ে নেতিবাচক মন্তব্য করেছিলেন। এছাড়া তিনি সরকারের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও বিচারব্যবস্থা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিরূপ প্রচারণা চালাতে পারেন এমন আশঙ্কায় তাকে বাংলাদেশের ভিসা দেওয়া হয়নি।পরে বাংলাদেশে আসার ভিসা না পেয়ে দিল্লির একই এফসিসির ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মামলার আইনি ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমকে জানাতে চেয়েছিলেন। তখন বাংলাদেশের তৎকালীন সরকারের সামান্য আপত্তিতেই ভারত সরকার তাকে দিল্লি বিমানবন্দরে নামতেই দেয়নি এবং প্রবেশাধিকার বাতিল করে অনুষ্ঠানটি বন্ধ করে দিয়েছিল। সেই ঘটনা প্রমাণ করে যে, রাষ্ট্রীয় অনুমোদন ও সম্মতি ছাড়া ভারতের ভূখণ্ডে এমন আন্তর্জাতিক ইভেন্ট আয়োজন করা সম্ভব নয়। ভারত সরকার চাইলে এই সংবাদ সম্মেলন অনায়াসেই থামিয়ে দিতে পারত। তবে ভারত সরকার এমনটি না করে এখন নানা ভাবে বাংলাদেশের মানুষকে বোকা ভেবে নানান অযৌক্তিক অজুহাত তুলে নিজেদের দায় মুক্তির চেষ্টা করছেন।
ইতোমধ্যে এই ঘটনার জবাবে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভারত সরকারের কাছে পাঠানো প্রতিবাদ বার্তাটি মোটেও নিছক সাধারণ কোনো কূটনৈতিক প্রতিবাদ ছিল না এটি ছিল বাংলাদেশের এক সুস্পষ্ট ও দৃঢ় রাজনৈতিক মূল্যায়নের প্রকাশ। রাষ্ট্রীয় বিবৃতিতে শেখ হাসিনাকে দণ্ডিত গণহত্যাকারী, দণ্ডিত অপরাধী , গণহত্যাকারী, মাফিয়া চক্র এবং ফ্যাসিবাদী শাসন হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত সরকারকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, শেখ হাসিনার বিচার, অপরাধ এবং রাজনৈতিক অবস্থানের প্রশ্নে বর্তমান সরকার কোনো ধরনের আপস বা সমঝোতায় যাবে না। অর্থাৎ বাংলাদেশ সরকার ভারতের জন্য একটি সুনির্দিষ্ট রেড লাইন টেনে দিয়েছে। এই কূটনৈতিক বিবৃতির আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো এতে " জুলাই বিপ্লব " শব্দটির প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবহার। আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিএনপি ও অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো একে অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে " গণঅভ্যুত্থান " হিসেবে অভিহিত করে আসছিল। তবে আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস, দ্য গার্ডিয়ান, দ্য ডিপ্লোম্যাট এর মতো শীর্ষস্থানীয় বৈশ্বিক গণমাধ্যমগুলো শুরু থেকেই একে " রেভোলিউশন " বা বিপ্লব হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছিল। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলের সেই পরিভাষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এবং দেশীয় জুলাই আবেগকে পূর্ণ মর্যাদা দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে " জুলাই বিপ্লবী " শব্দটি ব্যবহার করেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই বার্তা একদিকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ছাত্র-জনতার ত্যাগকে সংহত রূপ দিয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ অঙ্গনে জাতীয় ঐক্য ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নে পুরো জাতিকে একসূত্রে গেঁথেছে। তবে এই কূটনৈতিক উত্তাপের পরদিনই বাংলাদেশের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রীর সঙ্গে ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর বৈঠক এবং সীমান্ত পেরিয়ে আন্তর্জাতিক পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানির সচলতা নিয়ে অনেকে কৌতুহল প্রকাশ করেছেন। কড়া প্রতিবাদ বিবৃতি জারির পর পরই ভারতের সঙ্গে বাণিজ্যিক আলোচনাকে অনেকে দৃশ্যত অসংগতিপূর্ণ মনে করতে পারেন। কিন্তু আধুনিক ভূ-রাজনীতি ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে রাজনীতি এবং বাণিজ্য ভিন্ন গতিপথে চলে। বিশ্বের বিভিন্ন সার্বভৌম রাষ্ট্র একে অপরের বিরুদ্ধে কঠোর কূটনৈতিক অবস্থান রাখা সত্ত্বেও জ্বালানি নিরাপত্তা বা অর্থনৈতিক প্রয়োজনে লেনদেন অব্যাহত রাখে। সুতরাং, ভারতের সঙ্গে শক্তি খাতের ব্যবসায়িক সংলাপকে নতজানু নীতি হিসেবে দেখা ভুল হবে বরং সার্বভৌম মর্যাদা অক্ষুণ্ণ রেখে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য পরিচালনা করা দূরদর্শী ও বাস্তবমুখী কূটনীতিরই অংশ।
একই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের বর্তমান নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে এক এগারোর মতো অগণতান্ত্রিক কোনো চক্রান্ত কিংবা আন্তর্জাতিক শক্তির কলকাঠিতে বিরাজনীতিকরণের অপচেষ্টা ঘটছে কিনা সে বিষয়ে গভীর গোয়েন্দা নজরদারি ও জাতীয় সচেতনতা প্রয়োজন। সাম্প্রতিক সময়ে বিদেশি কূটনীতিকদের সুরক্ষাজনিত কৃত্রিম ভয় দেখিয়ে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ কিংবা বিভ্রান্তি সৃষ্টির যেসব ঘটনা দেখা গেছে, তা অতীতে ঘটে যাওয়া বহু রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের কথা স্মরণে এনে দেয়। দীর্ঘ সতের বছর ধরে বাংলাদেশের একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীকে নয়াদিল্লি তাদের একমাত্র ও একচ্ছত্র মিত্র বিবেচনা করে যে অন্ধ সমর্থন দিয়ে এসেছে, সেই ক্ষমতাচ্যুত অপশক্তির রাজনৈতিক পুনর্বাসনের জন্য নানা ধরনের ভূ-রাজনৈতিক উস্কানি তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো এবং সকল রাজনৈতিক শক্তির সতর্ক থাকা প্রয়োজন, যাতে কোনো চক্রান্তে দেশের গণতান্ত্রিক ভারসাম্য নষ্ট না হয়। শেখ হাসিনা ইস্যুতে ঢাকা যে কঠোর অবস্থান নিয়েছে, তা ভারতীয় নীতিনির্ধারকদের হিসাব-নিকাশ পাল্টে দিয়েছে। বিগত কয়েক দশকে ভারত সরকারের রাজনৈতিক কৌশল ছিল বাংলাদেশ নীতি সরাসরি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভালের মাধ্যমে পরিচালনা করা। ভারত সরকার হয়তো শেখ হাসিনাকে এই সংবাদ সম্মেলন করার অনুমতি দিয়ে বাংলাদেশের সহনশীলতার সীমা পরীক্ষা করতে চেয়েছিল। কিন্তু ঢাকার অভূতপূর্ব ও শক্ত প্রতিক্রিয়া তাদের সেই পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছে। কূটনৈতিক সূত্রমতে, দিল্লির বিদেশ মন্ত্রকের শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন চরম অস্বস্তিতে রয়েছেন এবং তাদের রাজনৈতিক কৌশল পুনর্বিবেচনা করছেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে ভারতের একজন শীর্ষ কর্মকর্তা বিশেষ বার্তা নিয়ে বাংলাদেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন, যেখানে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে দিল্লি সফরের আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণের আলোচনা থাকতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে উঠে এসেছে যে, দুই দেশের মধ্যে অনেক অমীমাংসিত ইস্যু রয়েছে যা আলোচনার মাধ্যমেই সমাধান করতে হবে, তবে সম্পর্কের পরিবেশ অনুকূল রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব এখন ভারতের। বাংলাদেশের কূটনৈতিক নীতিনির্ধারকেরা ভারতকে স্পষ্ট বার্তা দিয়ে জানিয়েছেন যে, দুই দেশের বিদ্যমান ইস্যুগুলোর সমাধান আলোচনার মাধ্যমেই হতে হবে, তবে সম্পর্কের গতিপথ কোন দিকে যাবে তার দায় এখন শতভাগ ভারত সরকারের কাঁধে। ভারত যদি বাংলাদেশের মানুষের এক গণতান্ত্রিক ও সার্বভৌম প্রতিবেশী বাংলাদেশের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বন্ধুত্ব বজায় রাখতে চায়, তবে তাদের এক ব্যক্তির রাজনৈতিক খেলা বন্ধ করতে হবে। ২০১৩ সালের অপরাধী প্রত্যর্পণ চুক্তির তোয়াক্কা না করে সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে আটকে রাখা এবং তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে বাংলাদেশবিরোধী ষড়যন্ত্র চালানোর সুযোগ দেওয়া সুপ্রতিবেশীসুলভ আচরণের মধ্যে পড়ে না।
ভারতের নীতিনির্ধারকদের এখন সময়ের বাস্তবতা উপলব্ধি করতে হবে। বাংলাদেশের জনগণের দ্বারা প্রত্যাখ্যাত ও আদালতের রায়ে দণ্ডপ্রাপ্ত একজন স্বৈরাচারী ব্যক্তিকে আঁকড়ে ধরে দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে টেকসই রাজনৈতিক স্থায়িত্ব অর্জন করা অসম্ভব। বাংলাদেশ সব সময় পারস্পরিক আস্থা, শ্রদ্ধা, সার্বভৌম সমতা এবং অন্যের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতিতে বিশ্বাসী। বাংলাদেশ চায় ভারতের সঙ্গে বাণিজ্য, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, পানিবণ্টন ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনার মতো গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্রগুলোতে একটি দীর্ঘমেয়াদি, সুদৃঢ়, সমতাপূর্ণ ও কার্যকর সম্পর্ক বজায় থাকুক। কিন্তু ভারত সরকার যদি অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে একজন পলাতক আসামিকে রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম সরবরাহ করে এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অস্থিতিশীলতা জিইয়ে রাখার চেষ্টা করে, তবে তা দুই দেশের মধ্যকার অবিশ্বাসের খাদকে আরও গভীর করবে। বাংলাদেশ তার শক্ত বার্তার মাধ্যমে পরিষ্কার করে দিয়েছে ভারতের সঙ্গে সমতা ও মর্যাদার ভিত্তিতে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরিতে বাংলাদেশ সম্পূর্ণ প্রস্তুত, কিন্তু জাতীয় সম্মান, শহীদদের আত্মত্যাগ এবং সার্বভৌমত্বের মূল্যে নয়। এখন সিদ্ধান্ত ভারত সরকারের হাতে তারা কি এক স্বৈরাচারী শাসনের ধ্বংসাবশেষ আঁকড়ে ধরে আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতার ইন্ধন জোগাবে, নাকি বাস্তবমুখী হয়ে বাংলাদেশের জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণাধিকারকে সম্মান জানিয়ে এক নতুন, সুষম ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্কের সূচনা করবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:০৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



