somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

তালেবান যেভাবে শক্তির আধার

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০০৯ রাত ৯:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পর্যবেক্ষক
আফগানিস্তানে বর্তমান তালেবান জঙ্গিরা লক্ষণীয়ভাবেই একটি ভিন্ন আন্দোলনে রূপ নিয়েছে সেই দিনের তুলনায়, যেদিন তাদের একচোখের নেতা মোল্লা ওমর কান্দাহারে আমেরিকান বাহিনীর হাতে ধরা পড়তে পড়তে একটি মোটরসাইকেলে চড়ে পালিয়ে যান। ঘটনাটি ২০০১ সালের ডিসেম্বরের। সেই মোল্লা ওমর এখনো তালেবানের নেতা।
আফগানিস্তানের এক ঊর্ধ্বতন গোয়েন্দা কর্মকর্তা সম্প্রতি টাইমকে বলেন- ধারণা করা হয়, মোল্লা ওমর পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী কোনো এলাকায় পালিয়ে আছেন। সেটি কোয়েটা শহরের আশপাশ কিংবা বেলুচিস্তানের দুর্গম মরু এলাকার জাব অঞ্চল হতে পারে। এদিকে নেতা মোল্লা ওমর পালিয়ে বেড়ালেও ইদানীং তালেবান (তাদের তুলনায়) একটি বড় ও অসম শক্তিকে প্রায় ঘিরে ফেলেছে। এ শক্তি ৬৩ হাজার প্রশিক্ষিত আমেরিকান সেনা এবং তাদের সহযোগী ন্যাটো বাহিনী। প্রশ্ন উঠেছেÑ প্রায় আট বছরের গেরিলা যুদ্ধ চালিয়ে তালেবান জঙ্গিরা এতো বড় শক্তিকে কীভাবে কুপোকাত করে ফেলতে শুরু করেছে আর তাদের সে শক্তির মূলমন্ত্র বা ভিত্তিই বা কোথায়?
তালেবান কোনো একস্তর বা একশিলা শক্তি নয়। তাদের রয়েছে কয়েকস্তর ব্যুহ। তালেবান ব্যুহের তিনস্তরের প্রথমটি সাবেক তালেবান কমান্ডারদের সহযোগে গঠিত একটি হার্ডকোর (কেন্দ্রীয় শক্তি) গ্রুপ। এরা পাকিস্তানের সীমান্তবর্তী অঞ্চলে এবং নিজেদের অভয়ারণ্যগুলোর বাইরে তৎপর। এছাড়া পাকিস্তানের সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআইয়ের সঙ্গে তাদের সুসর্ম্পক রয়েছে (যদিও ইসলামাবাদ কর্তৃপক্ষ বরাবরই এমন অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে)। এ দলের অন্যতম একজন মোল্লা ওমর।
দ্বিতীয় দলটি আল কায়েদা জঙ্গি নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত। এদের সম্পৃক্ততা বর্তমানে আরব, চেচেন, উজবেক বিদ্রোহী যোদ্ধাদের সঙ্গেও হয়েছে। এরা আফগানিস্তানের উত্তরাঞ্চলীয় পার্বত্য এলাকায় সক্রিয়।
সবশেষ ব্যুহ এবং সবচেয়ে বড় গ্রুপের সদস্য হচ্ছে আফগানজুড়ে বিভিন্ন উপজাতি গোষ্ঠী, যারা তালেবান না হয়েও তাদের সবচেয়ে বড় মিত্র। এটি হয়েছে প্রেসিডেন্ট হামিদ কারজাই সরকারের দুর্নীতিগ্রস্ত বিভিন্ন প্রাদেশিক এমপি-মন্ত্রী, যারা নিজেদের স্বার্থসিদ্ধির জন্য একটি উপজাতি গোষ্ঠীকে আরেকটির পেছনে লেলিয়ে দেয়। এ দলের অন্তর্ভুক্ত হয় আরেক পর্যায়ের বেসামরিক বাসিন্দা, যারা প্রতিশোধের আগুনে জ্বলছে। এরা বিভিন্ন সময়ে আমেরিকান বা ন্যাটো বাহিনীর হামলায় নিজেদের আত্মীয়স্বজন হারিয়ে প্রতিশোধ নেয়ার জন্যও তালেবানের সঙ্গে হাত মেলাচ্ছে।
আফগানিস্তানে আমেরিকান সেনা কর্মকর্তা, পশ্চিমা কূটনীতিক এবং আফগান গোয়েন্দা কর্মকর্তারা বিভিন্ন সময়ে টাইমসের সঙ্গে সাক্ষাৎকারে একটি কথাই বলেছেন, তালেবানের ব্যুহ ভেদ করা খুবই দুরূহ। কেননা তারা একশিলা নয়। দেশ ও সমাজের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে আছে তারা।
এখন প্রশ্ন আসে, তালেবান কতো দূর এগিয়েছে। জবাবে বলা যায়, হেলমান্দ প্রদেশের বিশাল দক্ষিণাংশ, কান্দাহার, জাবাল, ওরুগজান, পাকতিয়া, ও পাকতিকা প্রদেশ নিয়ে এরই মধ্যে তালেবান একটি ইসলামী প্রজাতন্ত্র কায়েম করে ফেলেছে প্রায়। কেননা এ বিশাল অঞ্চলে চলছে তাদের সরকার, রয়েছে রেডিও স্টেশন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও আদালত। সম্প্রতি একটি পশ্চিমা জরিপেও বলা হয়েছে, আফগানিস্তানের সর্বত্র ছড়িয়ে রয়েছে তালেবান। দেশটির ৯৭ ভাগ অঞ্চলেই সক্রিয় তারা। সূত্র : টাইম অনলাইন
৪টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

'ট্রিট' বা 'উদযাপন' মানে স্রেফ খাওয়া-দাওয়াই মূখ্য কেন??

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৭



আমাদের উদযাপনটা হয়ে গেছে অনেকটা খাওয়া-দাওয়া কেন্দ্রিক? 'ট্রিট' বা 'সেলিব্রেশন' বলতে আমরা কেবল খাওয়া-দাওয়াকেই বুঝি...কিন্তু এটা কিন্তু ভিন্নরকমভাবেও করা যায় নিঃসন্দেহে!

প্রিয় কেউ ভালো কোনোকিছু করলে, সফলতা পেলে বা... ...বাকিটুকু পড়ুন

মাওলার দায়িত্ব পেয়ে সেই দায়িত্ব পালন না করায় হযরত আলীকে (রা.) মাওলা বলা ঠিক না

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:১৮



সূরাঃ ৬ আনআম, ১৫৩ নং আয়াতের অনুবাদ-
১৫৩। আর এপথই আমার সিরাতিম মুসতাকিম (সরল পথ)। সুতরাং তোমরা এর অনুসরন করবে, এবং বিভিন্ন পথ অনুসরন করবে না, করলে তা’ তোমাদেরকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×