somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ঔপন্যাসিক জিল্লুর রহমান
চোখের সামনে যেকোন অসঙ্গতি মনের মধ্যে দাগ কাটতো, কিশোর মন প্রতিবাদী হয়ে উঠতো। তার বহিঃপ্রকাশ ঘটতো কবিতা লেখার মধ্য দিয়ে। ক্ষুধা ও দারিদ্রের বিরুদ্ধে, নির্যাতন ও বঞ্চনার বিরুদ্ধে প্রতিবাদী কবিতা। তারপর গল্প, উপন্যাস। এ যাবত প্রকাশিত গ্রন্থসংখ্যা-২১ টি।

দুর্নীতিবাজের ডায়েরি-১০(০১)

০১ লা মে, ২০১৭ রাত ৯:১১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



নীলার পরীক্ষা শুরু হওয়ার পর থেকে আতিয়ার সাহেব প্রতিদিনই মোবাইলে খবর নিয়েছেন পরীক্ষা ভালো হচ্ছে কি না? কোন অসুবিধা আছে কি না? টাকা পয়সার অসুবিধা আছে কি না? তাঁর জিজ্ঞাসার যেন অন্ত নেই।
একদিন নীলা হাসতে হাসতে তার বাবাকে বলেছিল, বাবা তোমার কথা শুনে মনে হয় শুধু তোমার মেয়েই ভার্সিটিতে পড়ে আর কেউ পড়ে না।
আতিয়ার সাহেব আর কোন কথা বলেননি।
আজকেই নীলার পরীক্ষা শেষ হয়েছে, সন্ধ্যায় আতিয়ার সাহেব মোহনার মোবাইলে রিং করেছেন। মোহনা মোবাইল রিসিভ না করে নীলাকে মোবাইলটা দিয়ে বলল, নীলা তোর ফোন, খালু করেছে।
নীলা মোবাইল রিসিভ করে বলল, বাবা।
মা তুই ভালো আছিস্?
জি বাবা, তোমরা ভালো আছ সবাই?
হ্যাঁ মা আমরাও সবাই ভালো আছি। মা তোর তো পরীক্ষা শেষ হয়েছে বাড়ি আসবি না?
বাবা বৃষ্টির পরীক্ষা এখনো শেষ হয়নি। আরো কয়েকদিন পর ওর পরীক্ষা শেষ হবে তখন না হয় এক সঙ্গে যাব।
না মা তুই কালই রওয়ানা দে, একাই আসতে পারবি না? নাকি আমি ঢাকা গিয়ে তোকে নিয়ে আসব?
না বাবা তোমাকে আসতে হবে না, আমি একাই আসতে পারব।
তবে কালই চলে আয় মা।
ঠিক আছে বাবা।
নীলা মোহনাকে মোবাইলটা দিতেই মোহনা জিজ্ঞেস করল, খালু আমার মোবাইলে রিং করেছে কেন রে? এতদিনেও তোর মোবাইল নাম্বারদিস্ নি?
না রে এখনো দিইনি, এখন মোবাইল নাম্বারটাদিলে হাজারটা প্রশ্ন করবে, মোবাইল তোর কি প্রয়োজন? টাকা কোথায় পেলি? তাই ভাবছি বাড়ি গেলে তখন বাবাকে বুঝিয়ে বলব।
আমার বাবা নিজেই একটা মোবাইল সেট কিনে দিয়ে বলল, আজকালকার দিনে মোবাইল ছাড়া কি চলে? প্রতিদিন আমি আমার মা’র সঙ্গে কথা বলব না? আমি সেদিন ভীষণ খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু এখন সেটটা সেকেলে হয়ে গেছে। তবু বাবার দেওয়া বলে কথা, ইচ্ছা করলেই তো আর বদল করা যায় না, বলে মোহনার মনটা যেন হাহাকার করে উঠল, যে বাবা আমাকে এত স্নেহ করে, যে বাবা সবসময় বলতো মেয়েদের আসলে সবার আগে উচিত শিক্ষিত হওয়া, সাবলম্বী হওয়া তারপর বিয়ে করা, শিক্ষিত আর সাবলম্বী হওয়া ছাড়া অধিকারের আন্দোলন অর্থহীন আর আজ সে বাবাই মিলন ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হওয়ার পর আমার লেখাপড়ার খরচ চালাতে গিয়ে--না মোহনা আর ভাবতে পারছে না।
নীলা তার মোবাইল থেকে আকাশকে মিস্ কল দিয়ে অপেক্ষা করছিল। কয়েকমিনিট পর আকাশ মোবাইল করল, হ্যালো নীলা, কী খবর?
শোন কাল আমি বাড়ি যাচ্ছি।
হঠাৎ করে? একাই যেতে পারবে?
হ্যাঁ বাবা মোবাইল করেছিল। আমি একাই যেতে পারব।
তোমার বাস ক’টায়?
সকাল ন’টায়।
আমি সকালবেলা আসি, তোমাকে বাসে উঠিয়ে দিতে আসব।
এসো, তুমি একবার বৃষ্টিকে মোবাইলটা দাও তো, ওর সঙ্গে কথা বলি।
আমার পাশেই আছে কথা বল।
হ্যালো বৃষ্টি বাবা মোবাইল করেছিল আমাকে কালই বাড়ি যেতে হচ্ছে।
ডিসিশন ফাইনাল?
হ্যাঁ।
আচ্ছা ঠিক আছে।
নীলা একবার ঘড়ির দিকে তাকিয়ে দেখল। রাত দশটা বাজে। সে মোবাইল করে কাউন্টারে টিকেট বুকিং দিয়ে রাখল। তারপর তার ব্যাগ গুছাতে লাগল।
মোহনা সবসময় খোঁচা মেরে কথা বলে। নীলাকে ক্ষেপানোর জন্য তার সব কথা বা কাজকে বাঁকা দৃষ্টিতে দেখে। সে নীলাকে জিজ্ঞেস করল, কি রে ব্যাগ গুছাতে শুরু করলি?
হ্যাঁ।
বাড়ি যাবি একথাটা সিদ্ধেশ্বরী না কোথায় থাকে তোর ফ্রেন্ড তাদের জানালি আর আমি তোর রুমমেট আমাকে জানালি না?
আমি তো তোর সামনেই কথা বললাম, তোকে আবার নতুন করে কি বলতে হবে?
আমি তোর রুমমেট, শুধু রুমমেটই না সিনিয়রও, বলতে গেলে আমি তোর ভার্সিটি গার্জিয়ান, একই রুমে থাকি বলে তোর সাথে আমি কখনো সিনিয়রের মতো আচরণ করি না। সিনিয়রই হই আর রুমমেটই হই তুই তো বাড়ি যাবার কথা সবার আগে আমাকে জানাবি নাকি?
সরি আপা।
আর আপা বলবি না, আগে যা বলতিস্ তাই বলবি, তুই সবাইকে জানালি আর আমাকে জানতে হলো তোকে জিজ্ঞেস করে।
বললাম তো সরি, সরি মোহনা তোকে আমার আগে বলা উচিত ছিল। ভুল হয়ে গেছে প্লিজ তুই কিছু মনে করিস্ না। এখন বলছি, বলে নীলা মোহনার কানের কাছে গিয়ে জোরে বলল, মোহনা আমার পরীক্ষা শেষ হয়েছে, কাল আমি গ্রামের বাড়ি যাচ্ছি।
মোহনা মৃদু হেসে বলল, এবার ঠিক হয়েছে।
ঠিক আছে এখন থেকে আমি সবকিছু তোকে একেবারে তোর কানের কাছে গিয়ে বলব। তুই কবে যাবি?
আমার আগামী পরশু একটা পরীক্ষা আছে তার পরদিন।
চলবে...


এই উপন্যাসটি প্রথম থেকে পড়তে ক্লিক করুন:দুর্নীতিবাজের ডায়েরি-০১
আমার সব লেখা একসাথে পড়তে ক্লিক করুন:আমার ওয়েব ঠিকানা
ফেসবুকে আমাকে এ্যাড করতে ক্লিক করুন:আমার ফেসবুক
সর্বশেষ এডিট : ০১ লা মে, ২০১৭ রাত ৯:১১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

খেলারাম খেলে যাও দেখারাম দেখে যাও...

লিখেছেন সাইন বোর্ড, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ দুপুর ১২:৫৬


বলছি না যে সোনার বাংলার সব সোনা হঠাৎ করে শিশ্নতে এসে জমা হয়েছে আর মাঝে মাঝে তা ফাল দিয়ে উঠছে ।

তবে এর ব্যাবহার যাচ্ছেতাইভাবে বেড়ে গেছে । আসলে উন্নয়ন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল (ষোল)

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ বিকাল ৩:০৬



অবিশ্বাস্য ঘটনা ঘটে গেছে!
শাহেদ জামাল চাকরি পেয়ে গেছে। তার ধারনা তার মতো এত এত সিভি আর কেউ জমা দেয় নি। বিডি জবস এ তার চোখ সব সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগে পর্ণগ্রাফি, অশ্লীল ও অরুচিকর ছবি প্রদানকারীর পরিচয় সম্পর্কে।

লিখেছেন কাল্পনিক_ভালোবাসা, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ সন্ধ্যা ৬:০১

প্রিয় সহব্লগারবৃন্দ,
আপনাদের জানার সুবিধার্থে বলছি, সামহোয়্যারইন ব্লগ এক ব্যক্তির একাধিক নিক রেজিষ্ট্রেশন সাপোর্ট করে। কারন অনেক লেখকই ছদ্ম নামে লেখালেখি পছন্দ করেন। কিন্তু যদি এটা প্রমানিত হয় যে, এই এক... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগের ছবি দেখে মনের ছবি ভেসে ওঠে....

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৮:৪০


(সেদিনের আসন্ন সন্ধ্যায়, অস্তগামী সূর্যের ম্লান আলোতে আমাদের স্টীমারের সমান্তরালে সেই লোকগুলোর ক্লান্ত পায়ে হেঁটে চলার দৃশ্যটি আমার মনে আজও গেঁথে আছে)

‘পাগলা জগাই’ ওরফে ‘মরুভূমির জলদস্যু’ এ ব্লগের একজন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাসমতি চাল নিয়ে লড়াই

লিখেছেন শাহ আজিজ, ২৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ রাত ৯:০৭




এবার কাশ্মীর নিয়ে নয় বা লাদাখের অংশ বিশেষ নিয়েও না , লড়াই চাল নিয়ে । সেকি চাল তো কর্কট রেখা বরাবর সবখানেই হয় , তাহলে ? ভারত... ...বাকিটুকু পড়ুন

×